সিপিএলে শিরোপা জিতলো সাকিবের বার্বাডোস ট্রাইডেন্টস

গ্রুপপর্বের সব কয়টি ম্যাচ জিতে, ১ম কোয়ালিফায়ারে বার্বাডোস ট্রাইডেন্টসকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিলো শোয়েব মালিকের নেতৃত্বাধীন গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স। তবে আসল ম্যাচে এসে আর পেরে উঠলো না গায়ানা। ফাইনালে বার্বাডোসের কাছে হেরে রানার আপ হয়েই সন্তুষ্ট হতে হলো দলটির।

ত্রিনিদাদের ব্রায়ান লারা স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন বার্বাডোস ট্রাইডেন্টস অধিনায়ক জেসন হোল্ডার। ৫.২ ওভার স্থায়ী উদ্বোধনী জুটি থেকে আসে ৪৩ রান। ২ টি করে চার ও ছয়ে ২৪ বলে ২৮ রান করে আউট হন অ্যালেক্স হেলস।

এদিন তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামেন ইংলিশ ব্যাটসম্যান ফিলিপ সল্ট। যদিও টিকতে পারেননি ৩ বলের বেশি, সাজঘরে ফেরেন কোন রান না করে। এবারের সিপিএলে প্রত্যেক ম্যাচেই তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামা সাকিব ফাইনালে নামেন নি চার নম্বরেও। শাই হোপ নামেন চারে ব্যাট করতে।

১০ম ওভারের ১ম বলে ৬ চার, ১ ছয়ে ২২ বলে ৩৯ রান করে ইমরান তাহিরের শিকারে পরিণত হন জনসন চার্লস। চার্লস সাজঘরে যাবার পথে ব্যাট করতে নামেন সাকিব আল হাসান। তাহিরের বিপক্ষে প্রথম বল ডট দিয়ে দ্বিতীয় বলে সিঙ্গেল নিয়ে রানের খাতা খোলেন সাকিব।

কিমো পলের বলে নিজের খেলা অষ্টম বলে প্রথম বাউন্ডারি (চার) হাকান সাকিব।  শেষমেশ ১৫ বলে ১৫ রান করে জোনাথন কার্টারের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট হন সাকিব। আউট হবার পর মাঠেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাকিব। কার্টারের ওপির যে বড্ড অখুশি হয়েছেন তা প্রকাশ পেয়েছিল সাকিবের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশে।

২৭ বলে ৪ টি করে চার ও ছয়ে ৫০ রান করে অপরাজিত থেকে নিশ্চিতভাবেই সাকিবের ক্ষোভকে কমাতে পেরেছেন কার্টার। ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৭১ রানে থামে বার্বাডোস।

১৭২ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে জেসন হোল্ডারের করা প্রথম দুই বলেই বাউন্ডারি হাকিয়ে শুরু করেন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ব্রেন্ডন কিং। অপর ওপেনার হেমরাজকে দ্বিতীয় ওভারে ফেরান রেমন রেইফার। প্রথম ওভারে ১০ রান দেওয়া হোল্ডার নিজের দ্বিতীয় ওভারে দেন ১৪ রান।

তবে রেইফার ছিলেন অনবদ্য। নিজের দ্বিতীয় ওভার করতে এসে ফেরান শিমরন হেটমেয়ারকে।  ইনিংসের ৫ নম্বর ওভারে প্রথম বারের মতো বল হাতে নেন সাকিব, ১ বাউন্ডারিতে হজম করেন ৫ রান।

টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক হেইডেন ওয়ালশ বল হাতে নিয়ে শুরুর ওভারেই ফেরান শোয়েব মালিককে। তবে ট্রাইডেন্টস শিবিরে স্বস্তি ফেরে যখন ১১ তম ওভারের শেষ বলে ৪৩ রান করা ব্রেন্ডন কিংকে স্টাম্পড করে ফেরান অ্যাশলে নার্স। পরে নার্স ফেরান নিকোলাস পুরানকেও। ৪ ওভারে ১৭ রান খরচে ২ উইকেট নিয়ে ৪ ওভারের কোটা শেষ করেন নার্স।

১৭ তম ওভারে নিজের দ্বিতীয় ও শেষ ওভার করতে এসে ১ ওভার বাউন্ডারিতে ১৩ রান দেন সাকিব।

২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৪৪ রান করতে পারে গায়ানা। ২৪ রান খরচে ৪ উইকেট নিয়ে বার্বাডোসের সফলতম বোলার রেইফার।

২৭ রানে ম্যাচ জিতে নিয়ে সিপিএলের শিরোপা জয় নিশ্চিত করে জেসন হোল্ডারের দল। ২০১৪ সালের পর ২০১৯ এ এসে আবার শিরোপার স্বাদ পেলো বার্বাডোস ট্রাইডেন্টস।

অ্যাডমিন

Read Previous

ফাইনালে দুর্ভাগ্যের শিকার সাকিব

Read Next

টাইগার যুবারা গড়লো নিজেদের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের রেকর্ড

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।