রাসেলকে বাদ দেওয়ার সুযোগ খুঁজতেন জেমি সিডন্স!

জিমি সিডন্স সৈয়দ রাসেল

জাতীয় দলের জার্সিতে ২০০৫ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত খেলেছেন ৬ টেস্ট, ৫২ ওয়ানডে ও ৮ টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি। সে সময়কার বাংলাদেশ দলে এই মিডিয়াম পেসার রান দেওয়াতে কৃপণতা দেখিয়ে কেড়েছেন নজর। ওয়ানডেতে ৪.৬৩ ইকোনোমি নিশ্চিতভাবেই ইঙ্গিত দেয় প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের কতটা দারুণভাবে সামলাতেন। ক্যারিয়ারের প্রথম আড়াই বছরে ৩১ ওয়ানডে খেলে ফেলা সৈয়দ রাসেল পরের তিন বছরে খেলেন মাত্র ২১ ম্যাচ।

পারফরম্যান্সে কখনোই ছিলনা অধারাবাহিকতা। তবুও কেন নিয়মিত মিলতনা সুযোগ, চোটে পড়ার পর কেনইবা আর নিয়মিত হতে পারেননি ঘরোয়া লিগেও? কাদের অনীহা আর অবহেলায় ক্রিকেট ক্যারিয়ারেরই হয়েছে বাজে সমাপ্তি? ‘ক্রিকেট৯৭’ এর সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে সেসব প্রশ্নের উত্তরই দিয়েছেন চলতি বিপিএলে ঢাকা প্লাটুনের বোলিং কোচ সৈয়দ রাসেল। কোচ হিসেবে নতুন ক্যারিয়ারের বর্তমান, ভবিষ্যত নিয়েও জানিয়েছেন পরিকল্পনা। পাঠকদের জন্য হুবুহু তুলে ধরা হয়েছে সাক্ষাৎকারের মূল অংশ-

ক্রিকেট৯৭-বিপিএলের আগেই আমেরিকা থেকে দেশে ফিরলেন, এরপর যোগ দিলেন ঢাকা প্লাটুনের কোচ হিসেবে। আগে থেকেই কিছুটা আভাস পাচ্ছিলেন বলেই কি দেশে ফেরা?

সৈয়দ রাসেলঃ আমার কোচিংয়ে আসার পেছনে সালাউদ্দিন স্যারের অনেক অবদান। এর আগে বিপিএলে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সে ছিলেন উনি। তখনই উনার সাথে আমার কথা হয় আমেরিকা যাওয়ার আগেই। তবে আমি আমেরিকায় চলে যাওয়ায় উনি নিশ্চিত করার পরেও সেবার কাজ করার সুযোগ হয়নি। আর ঢাকা প্লাটুনেরটা আসলে কনফার্ম ছিলনা। কারণ বঙ্গবন্ধু বিপিএলে হওয়ায় সব বিসিবির অধীনেই ছিল, স্যারের করার খুব একটা ছিলনা। পরে উনিই বলল আসলে কিছুতো করতে পারতেছিনা, এরপর অবশ্য উনি আবার আমায় জানালেন আমি ঢাকায় কোচিং করাচ্ছি তুমি করবা? আমি তখন রাজি হয়ে গিয়েছি। আর সে ভাবনাতেই আসা আরকি।

ক্রিকেট৯৭- পেশাদার কোচিং শুরু করে দিলেন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাটা কি? পেশা হিসেবে নেওয়ার ভাবনাটা কতটা গভীর?

সৈয়দ রাসেলঃ আসলে মিডিয়াম ফাস্ট বোলার ছিলাম। এটা নিয়েই থাকতে চাই। কোচিং বলতে বোলিং কোচ হিসেবে এক্সপার্ট হতে চাই।

ক্রিকেট৯৭- কোচিং ক্যারিয়ারের জন্য নিজেকে কতটা প্রস্তুত করছেন?

সৈয়দ রাসেলঃ আমেরিকা যাওয়ার আগেই আমি বিসিবির অধীনে লেভেল ওয়ান শেষ করে যাই। লেভেল টু যখন বিসিবি আবার আয়োজন করবে তখনই করে নিবো। বোর্ড না শুরু করলে করার অপশন নেই আপাতত।

ক্রিকেট ৯৭- বর্তমানে আমেরিকাতে কি ধরনের ক্রিকেট খেলছেন?

সৈয়দ রাসেলঃ আমি ইনজুরি থেকে ফিরে এসে দুইবার প্রিমিয়ার লিগ খেলছি। প্রিমিয়ার লিগ খেলার পর তো আসলে আর কোন খেলা নাই। যেহেতু লঙ্গার ভার্সনে আমার খেলার পরিকল্পনা ছিলনা। চিন্তা করতেছিলাম ওই সময়টা আসলে কীভাবে কাজে লাগানো যায়। তখন আমার কিছু বন্ধু ও বড় ভাই ছিল আমেরিকায়, তাদের সাথে কথা বলে যেহেতু আমার ওখানকার ভিসা আগে থেকেই ছিল ওদের সাথে কথা বলে ওখানে যাওয়া। এরপর ওখানে আমি তিনটি সিজন খেলি মিশিগানে ‘ক্রিকেট একাডেমি অব ডেট্রয়েটের’ হয়ে, বেশ ভালোই খেলেছি আল্লাহর রহমতে।

ওখানে শনিবারে ৪০ ওভারের ম্যাচ হয় রবিবার হয় টি-টোয়েন্টি। আর এর সাথে একটি টুর্নামেন্ট হয় বেশ ভালো মানের। বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, বিশ্ব একাদশের অনেক ক্রিকেটার থাকে। ভালো মানের একটা টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট বলা যায়। গতবছর আমি যখন খেললাম তখন পাকিস্তান জাতীয় দলের ৬ জন ক্রিকেটার খেলেছিল ওই টুর্নামেন্টে। তারপর লিগ শেষ হলে সেপ্টেম্বরের দিকে আমি নিউইয়র্ক আসি, ওখানে আবার গত দুইবছর ধরে প্রিমিয়ার লিগ শুরু হয়েছে। প্রথমবার আমরা চ্যাম্পিয়ন হই। এবছরও খেলেছি এবার অবশ্য ভিন্ন একটা দলে খেলেছি। ফলে ওদিকে আবার চার মাস কাটিয়ে দেশে ফিরলাম।

ক্রিকেট৯৭- জাতীয় দলের পারফরম্যান্স অধারাবাহিক ছিলনা কখনো তবুও বাদ পড়ার পেছনের কারণটা কি? একটা সময় ঘরোয়া লিগ থেকেও সরে গেছেন দূরে। সবমিলিয়ে এভাবে আড়ালে যাওয়ার পেছনের গল্পটা যদি বলতেন।

সৈয়দ রাসেলঃ আমার কাঁধের চোট হয় ২০০৭ সালে। তখন আসলে অপারেশনের অগ্রাধিকার এতটা ছিলনা। সবকিছু এতটা আপডেটও হয়নি, সেসময় আমাদের যে ফিজিও ছিল সে অপারেশনের পক্ষে ছিলনা। আমার নিউজিল্যান্ডের ডাক্তারই বলছে অপারেশন লাগবে অথচ ফিজিও বলেছে ন্যাচারালি যদি ঠিক হয় সেটা বেটার। ন্যাচারালি ঠিক করতে গিয়ে আমার যেটা করতে হয়েছে প্রতিদিন আমাকে রুটিন মেনে করতে হত জিম, ট্রেনিং এসব।

প্রতিদিন পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে লম্বা একটা সময় এখানে দিতে হত, তাও আমি চালিয়েছি। জেমি সিডন্স যখন আসলো তখন একটা সমস্যা হয়েছিল কি ও চাচ্ছিল খুব জোরে বল করা বোলার। আমিতো সেটা পারতাম না, তো সে আমাকে দেখেই মন্তব্য করে বসলো আমি অর্ডিনারি বোলার। আমার তখন খুব খারাপ লাগছিল, আমার করারও কিছু ছিলনা। সে আমাকে নিয়ে এভাবে মন্তব্য না করে আমার অতীত রেকর্ড দেখতে পারতো, ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান ঘাঁটতে পারতো। আমার ইকোনোমি রেট দেখতো, আপনি আমার চেহারা দেখে তো মন্তব্য করতে পারেন না।

তো ও এগুলো করেনি, ওর অধীনে আমি তিন বছর ছিলাম। সবাই খারাপ খেলার পর যখন কোন অপশন থাকতনা তখন সে আমারে খেলাইতো। এরকম পরিস্থিতিতে আমি সময় কাটাইছি, ১০ টা ম্যাচ না খেলে একটা ম্যাচ খেলবেন আর ওই ম্যাচেই পারফর্ম করবেন এরকম গ্যারান্টি দেওয়া যায়না। এভাবে তিন বছর খেলেছি, ও শুধু সুযোগ খুঁজছিল আমি কোনদিন খারাপ খেলি, সে আমাকে বাদ দিবে।

শেষ ২০১০ সালে আয়রল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটা। ওই ম্যাচে আমি রান দিয়েছি ৭ ওভারে ২৯ , উইকেট পেয়েছি একটি (মূলত ৯ ওভারে ৫৩ রানে ১ উইকেট)। কিন্তু প্রথম চার ওভারে আমি ২৪ রান দিয়েছি এটাই আমার খারাপ করা। পরে কিন্তু আমি তিন ওভারে সেটা কাভার করে ফেলেছি। এই ভুলটা সে আমার পেয়ে যায়, ওই ম্যাচের পর আর আমার জাতীয় দলে খেলা হয়নি।

জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ে প্রিমিয়ার লিগ যখন খেলতে যাই তখনতো আর জাতীয় দলের ফিজিও পাচ্ছিলাম না। যারা ছিল তারা সেভাবে কেয়ার করতে পারছিল না। এখন যেমন প্রতিটি দলে ফিজিও থাকে তখন কিন্তু সেটা ছিলনা। ওই যে ম্যাচ শেষে আমার রিলিজ করা, দৈনিক রুটিন মেনে চলা সেসবে গ্যাপ হয়ে যাচ্ছে। আস্তে আস্তে ইনজুরি বাড়া শুরু করেছে। এমন পর্যায়ে চলে গেল যে আমি সহ্য করতে পারছিলাম না, দেখা গেল আমি বোলিংই করতে পারছিলাম না। ঐ থেকে গ্যাপ শুরু, জাতীয় দলের ফিজিও সেবা যেটা আমি পেতাম সেটা যদি প্রিমিয়ার লিগে পেতাম সেটা হয়তো আমাকে ঠিক থাকতে সাহায্য করতো।

এরপর আমি সার্জারি করি, এখান থেকে বলা হয়েছিল ঠিকঠাক হয়নি। পরে ব্যাক করার পর অবশ্য ঠিকঠাকই চলছিল সব। এখন আমি হয়তো খেলছিনা তবে কাঁধে কোন সমস্যা নাই।

নাজমুল হাসান তারেক

Read Previous

‘ভালো বোলার হলেই হবেনা, ভালো প্ল্যানার হতে হবে।’

Read Next

বিপিএল মাতাতে আসছেন থারাঙ্গা, ওয়াইস

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
48
Share
error: Content is protected !!