ভাঙা আঙুল নিয়েই টেস্টে বল করেছিলেন নাইম

২০১৮ সালে চট্টগ্রামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকে সর্বকনিষ্ঠ বোলার হিসেবে অভিষেকে ৫ উইকেট শিকারের রেকর্ড গড়েন টাইগার অফ স্পিনার নাইম হাসান। এরপর বাংলাদেশের জার্সিতে খেলেছেন আরও ৪ টেস্ট। অভিষেক ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ৫ উইকেট পেতে সময় লেগেছে আরও ৪ টেস্ট।

তবে এই পরিসংখ্যান দিয়েই নাইমকে বিচার করার সুযোগ নেই, চলতি বছর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেটসহ ম্যাচে নিয়েছেন ৯ উইকেট। তার আগে দুই টেস্টে বল হাতে নিলেও খুব বেশি ওভার করার সুযোগই হয়নি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নিজের দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে বল করেছেন মাত্র ৩ ওভার। সাকিব আল হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে নাকাল হয় ক্যারিবিয়ানরা, দুজনেই ভাগাভাগি করে নেন সবকটি উইকেট। নাইম ৩ ওভার করলেও তাইজুলের ভাগে জুটেনি এক ওভারের বেশি। ফলে ঐ ইনিংসকে নিজের পারফরম্যান্সের মাপকাঠিতে আনতে চান না নাইম হাসান। পরের ইনিংসে ১৪ ওভার বল করে নিয়েছেন ১ উইকেট। আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে বল করেছেন ভাঙা আঙুল নিয়ে।

দুই ইনিংসে চার উইকেট তুলে নেওয়া এই অফ স্পিনার অবশ্য ঐ ম্যাচের পারফরম্যান্সে বেশ সন্তুষ্ট। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৯ উইকেট তুলে নেওয়া ম্যাচের আগে আফগানিস্তানের বিপক্ষেই টাইগারদের হয়ে বল হাতে নেন নাইম। ভারত সফরের কোলকাতা টেস্টে থাকলেও চোটের কারণে মাঠের বাইরেই চলে যেতে হয় তরুণ এই অফ স্পিনারকে।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ তারও আগে এনসিএল, বিসিএল মিলিয়ে বেশ দারুণ একটা ছন্দে ছিলেন নাইম। এনসিএল, বিসিএল মিলিয়ে লংগার ভার্সনের চার ম্যাচেই শিকার করেন ৩১ উইকেট, ম্যাচে ১০ উইকেটও আছে বিসিএলে। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে নাম লেখানো নাইমকে করোনা ভাইরাস প্রভাবে কাটাতে হচ্ছে গৃহবন্দী জীবন। নিজ শহর চট্টগ্রাম থেকে ‘ক্রিকেট৯৭’ এর সাথে আলাপে কথা বলেছেন ছন্দ ধরে রাখা, অভিষেকের পর নিজের পারফরম্যান্স মূল্যায়ণ, বড় দৈর্ঘ্যের ম্যাচ সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার প্রথম অভিজ্ঞতা নিয়ে।

সবকিছু স্বাভাবিক হলে মাঠে ফিরে পুরোনো ছন্দ ধরে রাখা সম্ভব কিনা জানাতে গিয়ে এই অফ স্পিনার বলেন, ‘এই ছন্দটা থাকবে কি থাকবেনা এটাতো বলতে পারছিনা। যখন খেলার মধ্যে থাকি তখনতো অবশ্যই একটা প্রবাহের মধ্যে থাকি। এখন চেষ্টা থাকবে ফিটনেসটা ঠিক রাখা, যখনই সব ঠিক হবে পরিশ্রম করে আবার আগের জায়গায় ফিরে আসতে হবে। এছাড়াতো কোন উপায় নাই, যখন সব ঠিক হবে অতিরিক্ত কাজ করতে হবে। দ্বিগুন কষ্ট করতে হবে।’

টেস্ট অভিষেকের প্রথম ইনিংসেই রেকর্ড গড়া ৫ উইকেট শিকার, এরপর দ্বিতীয়বার ৫ উইকেট পেলেন বল হাতে নেওয়া চতুর্থ ম্যাচে। এখনো পর্যন্ত ৫ টেস্টে শিকার ১৯ উইকেট। নিজের পারফরম্যান্সকে নাইম মূল্যায়ণ করছেন যেভাবে,

‘আসলে অভিষেকের পর ভালো যায়নি সেটা বলার উপায় নাই। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টে সাকিব ভাই ও মিরাজ ভাই দারুণ বল করেছে। আমার ও তাইজুল ভাইয়ের বল করা লাগেনি খুব একটা। ওনারা দুজনেই সব উইকেট (সাকিব ৩ টি ও মিরাজ ৭ টি) নিয়েছেন, ঐ ম্যাচে আমার তিন ওভার বল করার সুযোগ হয়েছে। তাই ঐ ম্যাচটা হিসেব করা ঠিক হবেনা।’

‘আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে প্রথম দিনের ১১ তম ওভারে আমার তিন নম্বর ওভারে আঙুল ভেঙে গিয়েছিল। ওটা নিয়ে আমি যে বল করছি খুব একটা খারাপও করিনি (১ম ইনিংসে ৪৩ রানে ২ উইকেট ও ২য় ইনিংসে ৬১ রানে ৭ উইকেট)। কারণ ভাঙা আঙুল নিয়ে বল করতে কষ্ট হয়েছিল তখন। কিন্তু করতে হয়েছে এবং ভালো হয়েছে বলতে হয়।’

জাতীয় দলে অভিষেকের আগে ঘরোয়া লিগে লম্বা সময় ধরে বল করার সামর্থ্যের জানান দিয়েছেন। চট্টগ্রাম বিভাগের হয়ে বর্তমান টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হকের সাথে খেলার পরই লংগার ভার্সন ক্রিকেট সম্পর্কে ধারণা পেয়েছেন বলে জানান নাইম। ২০১৭ সালে সিলেট বিভাগের বিপক্ষে চট্টগ্রাম বিভাগের হয়ে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত জাতীয় লিগের ম্যাচ দিয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক এই অফ স্পিনারের।

চারদিনের ম্যাচ তথা টেস্ট ক্রিকেট সম্পর্কেই ধারণা পাওয়ার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে নাইম বলেন, ‘ঘরোয়া লিগে আমার জাতীয় দলে ঢোকার আগেই ভালো গিয়েছে। মানে লম্বা সময় ধরে বল করতে পারছিলাম। সৌরভ (মুমিনুল হক) ভাইয়ের সাথে খেলার পর থেকে আসলে টেস্ট ক্রিকেটটা বোঝা হয়েছে। এর আগে আমার টেস্ট মানে চারদিনের ম্যাচ নিয়ে অত ধারণা ছিলনা। সৌরভ ভাইয়ের সাথে খেলে ধারণা হল, উনার কাছ থেকে শিখছিলাম। তারপর জাতীয় দলে আসার পর সাকিব ভাই, মুশফিক ভাইদের সাথে খেলার পর ক্রিকেটটা অনেকটা বুঝতে পেরেছি। কি করতে হবে আর কি করতে হবে না সেসম্পর্কে ধারণা পেয়েছি।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

বিশ্বের এক নম্বর বোলার হতে চান নাইম

Read Next

নিশামের মতে চলমান সংকটে সবচেয়ে দরকারি ‘হিউমার’

Total
7
Share
error: Content is protected !!