বাজে হারে সিরিজ হাতছাড়া বাংলাদেশের

আম্পায়ারের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে শেরে বাংলায় ‘নাটক’। নাটকের সেই প্রভাব পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন-আপের উপর। সিরিজ নির্ধারণী শেষ টি-টোয়েন্টিতে ৫০ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৯.২ ওভারে ১৯০ রান তুলে সফরকারীরা। জবাবে ১৪০ রানের বেশি করতে পারেনি স্বাগতিকরা।  বাংলাদেশের শুরুটাও ছিল আত্মবিশ্বাসী। কিন্তু হঠাৎ করেই সব যেনো লন্ডভন্ড। বল হাতে কিমো পলের প্রথম পাঁচ উইকেট।

প্রথম ম্যাচ ৮ উইকেটে জিতে সিরিজে এগিয়ে যায় ওয়েষ্ট ইন্ডিজ। দ্বিতীয় ম্যাচে ৩৬ রানের জয়ে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচে ৫০ রানের বিশাল পরাজয়ে সিরিজ হাতছাড়া করল বাংলাদেশ। ২-১ এ সিরিজ জিতে নিল উইন্ডিজ।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ওপেনার এভিন লুইসের ‘পাওয়ার’ ব্যাটিংয়ে ৩.১ ওভারেই ৫০ রান যোগ হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ স্কোর বোর্ডে। ১২ বলে ২৩ করে সাকিবের বলে ফেরেন সাই হোপ। কিন্তু মাত্র ১৮ বলে ৫ ছক্কা ও তিন চারে ক্যারিয়ারের তৃতীয় হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন লুইস। সেই সঙ্গে বাংলাদেশকে শুরুতে ব্যাকফুটে ঠেলে দেন এ মারকুটে ওপেনার।  প্রথম পাওয়ার প্লের (প্রথম ৬ ওভার) অবদান ৮৮, এক উইকেটে!

কেমো পলকে উইকেটে অবশ্য সেট হতে দেননি মুস্তাফিজুর রহমান। ওদিকে মাত্র ৭.১ ওভারে ১০০ রান পূরণ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে ৩৬ বলে ৮৯ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলার পর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের বলে ফিরতে হয় লুইসকে। রিয়াদের পরের বলে কোনো রান করার আগেই ফেরেন হেটমায়ার। টানা দুই বলে রিয়াদের ২ উইকেট।

এরপর রোভম্যান পাওয়েল ও নিকোলাস পুরান নতুন চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ান। তবে বড় পার্টনারশিপ গড়তে পারেননি। ১৬ বলে ১৯ রান করার পর রিয়াদের বলে ফিরেন পাওয়েল। এরপর ২৪ বলে ২৯ রান করে মুস্তাফিজের বলে বিদায় নেন পুরান। ব্র্যাথওয়েট ৮ রানে আউট হন মুস্তাফিজের বলে। এরপর সাকিব দ্রুত দুই উইকেট নিলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অলআউট হয় ১৯০ রানে।

সাকিব, মুস্তাফিজ ও রিয়াদ তিনটি করে উইকেট নেন।

১৯১ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে ক্যারিবিয় পেস সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে ওপেনার তামিম ইকবালকে। তবুও সাবধানী খেলা চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু দ্বিতীয় ওভারে রান আউট হয়ে সাজঘরে ফিরেছেন তামিম(৮)।

তবে সেখান থেকেই একা রানের চাকা সচল রাখেন লিটন। ৩.৫ ওভারে দলীয় পঞ্চাশ রান পেল বাংলাদেশ। সৌম্য সরকারের সঙ্গে জুটি ৪৩ রানের জুটি গড়েন। মাঝে লিটনের একটি শটে আম্পায়ারের আউট সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। আম্পায়ার নো বল কল করলেও আদৌতে সেটি ছিল লিগ্যাল ডেরিভারি। যেটি লং অফে তালুবন্দি হয়।

জীবন ফিরে পেয়ে লিটন থাকলেও সতীর্থরা একের পর এক সাজঘরে ফিরে যান। প্রথমে অ্যালেনের বলে লং অনে উইকেট ছুটে দেন সৌম্য, ৯ রান করে। দলীয় ৬৫ রানেই পরের বলে এসে একই জায়গায় ক্যাচ তুলে দেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।

শূন্য রানে সাকিবের ফিরে যাওয়ায় চাপে পড়ে বাংলাদেশ। সেই চাপকে বাড়িয়ে দলীয় ৬৬ রানে বিদায় নেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম, পলের বলে অ্যালেনের হাতে ক্যাচ দেন এক রান করা মুশফিক।

এরপর লিটন আর মাহমুদউল্লাহ চাপ সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন। তবে দলীয় ৮০ রানে মাহমুদউল্লাকে পল সাজঘরে পাঠিয়েছেন। তিনি ১১ রান করেছেন। এখান থেকে উইকেট যেন ঝড়ের মতো পড়তে থাকে। লিটন দাস ফিরে যান ৪৩ রান করে দলীয় ৮৯ রানে। একই রানে পরের বলে ফিরে যান আরিফুল হক। বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৭ উইকেট হারিয়ে কার্যত বিপদেই পড়েছে বাংলাদেশ। ফিকে হয়ে আসছে সিরিজ জয়ের স্বপ্ন। নিজের শেষ ওভারে সাইফউদ্দিনের উইকেট নিয়ে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টিতে পাঁচ উইকেটের স্বাদ পেলেন কিমো পাল। শর্ট বলে খোঁচা লাগিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন সাইফউদ্দিন। ৭ বলে ৫ রান করেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

ওয়েস্ট ইন্ডিজঃ ১৯০/১০ (১৯.২ ওভার) লুইস ৮৯, হোপ ২৩, পাওয়েল ১৯, পুরান ২৯; সাকিব ৩/৩৭, মুস্তাফিজুর ৩/৩৩, মাহমুদউল্লাহ ৩/১৮

বাংলাদেশঃ ১৪০/১০ ( ১৭ ওভার) তামিম ৮, লিটন ৪৩, সৌম্য ৯, রিয়াদ ১১, মিরাজ ১৯, রনি ২২*; পল ৫/১৫, ফ্যাবিয়েন ২/১৯,

ফলাফলঃ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৫০ রানে জয়ী।

সিরিজঃ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২-১ ব্যবধানে জয়ী।

ম্যাচ সেরাঃ এভিন লুইস।

সিরিজ সেরাঃ সাকিব আল হাসান।

97 Desk

Read Previous

‘নো বল’ নাটকে উত্তপ্ত মিরপুর

Read Next

বিতর্কিত ঘটনার প্রভাবে ম্যাচ হেরেছে বাংলাদেশ!

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
0
Share
error: Content is protected !!