ফেরার চেষ্টারত মুন্না শোনালেন সংগ্রামের গল্প

নুর হোসেন মুন্না

বাংলাদেশ ক্রিকেটে একজন লেগ স্পিনারের আক্ষেপ বেশ লম্বা সময় ধরে। জুবায়ের হোসেন লিখন হয়ে আজকের আমিনুল ইসলাম বিপ্লব, রিশাদ হোসেন, মিনহাজুল আবেদিন আফ্রিদিরা স্বপ্নের পরিধিটা বড় করলেও এ যাত্রায় যুক্ত হতে চেয়েছিলেন আরও কয়েকজন লেগ স্পিনার। তাদেরই একজন নুর হোসেন মুন্না। জাতীয় দল ছাড়া বিসিবির প্রায় সব দলেই জায়গা পেয়েছেন সামর্থ্যের জানান দিয়ে।

এনামুল হক বিজয়, সৌম্য সরকার, মুমিনুল হক, কামরুল ইসলাম রাব্বি, নুরুল হাসান সোহানদের মত জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সাথে খেলেছেন দুইটি যুব বিশ্বকাপেও। ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত যুব দলের হয়ে ৩২ ওয়ানডেতে নিয়েছেন ৪১ উইকেট। একসময় ঢাকা লিগ, জাতীয় লিগেও ছিলেন নিয়মিত মুখ। যদিও লেগ স্পিনার বলে একাদশে সুযোগ না পাওয়ার আক্ষেপ ছিল বরাবরই। সময়ের বিবর্তনে সতীর্থরা জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপালেও মুন্নাকে দূরে সরে যেতে হয়েছে ঘরোয়া ক্রিকেট থেকেই।

২০১৬ মৌসুমে সবশেষ কলাবাগানের হয়ে ঢাকা লিগ ও চট্টগ্রাম বিভাগের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলেন মুন্না। এরপর অনেকটা আড়ালেই চলে যান ২৭ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। দেশের ঘরোয়া লিগ থেকে যখন পিছু হটেছেন তখন বয়স মাত্র ২৩। যে বয়সে বিচরণ করার কথা ক্রিকেটের সব অঙ্গনে অথচ এই লেগ স্পিনার কিনা হারিয়েই গেলেন। মূলত দল আর একাদশে জায়গা পাওয়ার যুদ্ধে পরাজিত হয়ে ক্লান্ত মুন্না কিছুটা বিরতিতে গিয়েছিলেন।

লেগ স্পিনার বলে ঝুঁকি নিতে চায়না দলগুলো, তাইতো প্রথম শ্রেণি ও লিস্ট ‘এ’ তে অভিষেকের পর ৭ মৌসুম খেলে ম্যাচ জুটেছে যথাক্রমে ২৬ ও ৪০ টি। কিছুটা আড়ালে যাওয়া মুন্না অবশ্য এখনই হাল ছাড়ছেন না। নতুন উদ্যমে শুরু করেছেন আবারও, একটা সময় জাতীয় দলের একদম কাছে চলে যাওয়া মুন্না গতবছর খেলেছেন প্রথম বিভাগ ক্রিকেটও।

ঢাকা লিগ, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও হতে চান নিয়মিত। ‘ক্রিকেট৯৭’ এর সাথে আলাপে মুন্না বলেন, ‘ক্রিকেটেই আছি, গতবছর প্রথম বিভাগ ক্রিকেট খেলেছি। শেখ জামাল ক্রিকেটার্সের হয়ে খেলছিলাম। এখন ইচ্ছে আছে আবার ব্যাক করার। আল্লাহ যদি আমার প্রতি সহায় হয় ইন শা আল্লাহ কামব্যাক করবো। অপেক্ষা করছি, ইচ্ছে আছে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ খেলার। অবশ্য এ বছর প্রিমিয়ার লিগে কারও সাথে কথা হয়নি।’

যখন ক্রিকেট শুরু করেছেন আর আবার যখন ফেরার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন ততদিনে পার হয়েছে ৪ বছর। মাঝের সময়টায় দেখেছেন লেগ স্পিনারদের কতটা সংগ্রাম করে টিকে থাকতে হয়,

‘অনেক কঠিন সংগ্রাম করতে হয়। কারণ আমাদের উইকেটও স্পিনিং, বিশেষ করে বাঁহাতি স্পিনারদের জন্য সুবিধা থাকে। আর লেগ স্পিনাররাতো একটু খরুচেই হবে, রান বেশি দিবে কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নিবে দুই -তিনটা।’

‘আমাদের দেশে যেটা হয় ম্যাচ শেষে দেখে ১০ ওভারে কে কত কম রান দিল। লেগ স্পিন জিনিসটা কিন্তু অন্যরকম। হ্যাঁ শুরু থেকে লাইন লেংথ ঠিক রাখতে পারলে রানও কম দেওয়া যায়। এই ভরসার জায়গাটা কম আমাদের দেশে। বিশ্বাস রাখতে হবে, সুযোগ দিতে হবে।’

তাদের সময়টায় এখনকার মত লেগ স্পিনার নিয়ে বোর্ডের এত ভাবনা ছিলনা। এখন আমিনুল ইসলাম বিপ্লব, রিশাদ হোসেন, মিনহাজুল আবেদিন আফ্রিদিদের নিয়ে বোর্ডের বাড়তি গুরুত্বকে দেখছেন ইতিবাচক হিসেবে,

‘এটা অবশ্যই ভালো কারণ লেগ স্পিনারদের গুরুত্ব সহকারে না দেখলে ভালো লেগ স্পিনার আসবেনা। এখন যেভাবে দেখছে বোর্ড এটা সত্যি ইতিবাচক বলতে হয়। এরকম চললে দুই-তিনটা লেগ স্পিনার বের করা কঠিন কিছু হবেনা। এখন বিপ্লব খেলছে, দেখা যাবে তার বিকল্প আরও দুই একজন প্রস্তুত থাকবে।’

ভালো লেগ স্পিনার তৈরিতে পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ নুর হোসেন মুন্নার, ‘আজকে ভালো খেললাম কিন্তু পরের ম্যাচে খারাপ খেললাম দেখা গেল ম্যানেজমেন্ট থেকে নানা ধরণের কথা বলতে থাকে। এমন হলে দেখা যায় ঐ ক্রিকেটার মানসিকভাবে হতাশ হয়ে পড়ে। কারণ কোন সময় বাদ পড়ে যায় সে চিন্তা ভর করে মাথায়। বাদ পড়ার একটা ভয়ের মধ্যে থাকতে হয়। আত্ববিশ্বাস কমে যায় ঐ ক্ষেত্রে আমি বলবো সুযোগটা যেন বেশি দেওয়া হয়। এক ম্যাচ খারাপ করলে আরেক ম্যাচ যেন সুযোগ দেওয়া হয় তাহলে ভুল শুধরানোর সুযোগ থাকে।’

নাজমুল হাসান তারেক

Read Previous

মুশফিক-আকবরের র‍্যাপিড ফায়ার

Read Next

নির্বাচক হবার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন পাইলট

Total
18
Share
error: Content is protected !!