পাশার দান উল্টে দিয়ে জিতল পাঞ্জাব

পাশার দান উল্টে দিয়ে জিতল পাঞ্জাব

একটা সময় ভাবা হচ্ছিল আগের ম্যাচের মত খুব সহজে জয়লাভ করবে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ। কিন্তু খেলার ধারা বদলে জয় ছিনিয়ে নিলো কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব। লো স্কোরিং ম্যাচে সানরাইজার্সকে ১২ রানে হারিয়েছে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব।

দুবাই স্টেডিয়ামে টসে জিতে পাঞ্জাবকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান সানরাইজার্সের অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার। মায়াঙ্ক আগারওয়ালের পরিবর্তে একাদশে আসা মানদ্বীপ সিংয়ের সাথে ওপেনিংয়ে শুরুটা বেশ ভালো করেন পাঞ্জাবের অধিনায়ক লোকেশ রাহুল। ৩৭ রানের জুটির পর মানদ্বীপ ব্যক্তিগত ১৭ রানে সানরাইজার্সের সন্দ্বীপ শর্মার বলে আউট হয়ে যান।

এরপর ২য় উইকেটে ক্রিস গেইলের সাথে আরও ২৯ রানের জুটি গড়েন রাহুল। জেসন হোল্ডারের অফ কাটারে লং অফের উপর মারতে গিয়ে ওয়ার্নারের হাতে ধরা পড়েন গেইল। পরের বলে রাশিদ খানের চমৎকার গুগলিতে স্টাম্প ছত্রখান হয়ে যায় রাহুলের। এরপর নিকোলাস পুরান একপ্রান্ত ধরে টিকে থাকলেও অন্য প্রান্তে ব্যাটসম্যানরা ব্যর্থ ছিলেন।

অফ ফর্মে থাকা গ্লেন ম্যাক্সওয়েল মাত্র ১২ রান করে সন্দ্বীপের বলে সাজঘরে ফেরেন। এরপর আর কোন ব্যাটসম্যান পুরানকে সাহচর্য দিতে পারেন। সানরাইজার্সের বোলারদের দারুণ বোলিংয়ে ২০ ওভার শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে ১২৬ রান করতে সমর্থ হয় কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব। পুরান ৩২ রানে অপরাজিত থাকেন। সানরাইজার্সের পক্ষে হোল্ডার,রাশিদ ও সন্দ্বীপ ২টি করে উইকেট পান।

১২৭ রানের টার্গেটে সানরাইজার্স ব্যাট করতে নেমেও দুর্দান্ত সূচনা করেন দুই ওপেনা জনি বেয়ারস্টো ও অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার। পাওয়ারপ্লেতে পঞ্চাশোর্ধ রান করে সানরাইজার্স। ৫৬ রানের জুটির পর ওয়ার্নারকে পাঞ্জাবের উইকেটরক্ষক লোকেশ রাহুলের গ্লাভস বন্দী করান রবি বিষ্ণয়। ওয়ার্নার ৩টি চার ও ২টি ছক্কার সাহায্যে ৩৫ রান করেন। পরের ওভার বেয়ারস্টোকে বোল্ড করেন মুরুগান অশ্বিন।

এরপর শামি তার শেষ ওভারে আবদুল সামাদকে মিড অফে ক্রিস জর্ডানের হাতে তালুবন্দী করান। ৬৭ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর দলের হাল ধরেন আগের ম্যাচের ম্যাচজয়ী জুটি গড়া মনীশ পান্ডে এবং বিজয় শঙ্কর। ৪র্থ উইকেট জুটিতে তারা ৩৩ রান যোগ করেন। যখন ভাব হচ্ছিল খুব ম্যাচ পকেটে পুরে নিবে সানরাইজার্স, তখন বাদ সাধেন পাঞ্জাবের ক্রিস জর্ডান ও আর্শদ্বীপ সিং।

দলীয় ১০০ রানের প্রথমে মনীশ পান্ডেকে ফেরান জর্ডান। আর ১০ রান যোগ করে আর্শ্বদীপের চমৎকার ডেলিভারিতে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরত যান বিজয় শঙ্কর। ১৯ তম ওভারে জর্ডানের পরপর দুই বলে জেসন হোল্ডার ও রাশিদ খান আউট হলে সানরাইজার্সের জয়ের আশা ক্ষীণ হতে থাকে। শেষ ওভারে আর্শদ্বীপ সিংয়ের বলে সন্দ্বীপ শর্মা ও প্রিয়ম গার্গের আউটের পর বিষ্ণয়ের সরাসরি থ্রোতে খলিল আহমেদ রান আউট হলে মাত্র ১১৪ রানে গুটিয়ে সানরাইজার্সের ইনিংস।

মাত্র ১৪ রানে তারা শেষ ৭ উইকেট হারায়। পাঞ্জাবের পক্ষে জর্ডান ও আর্শদ্বীপ ৩টি করে উইকেট নেন।

অসাধারণ বোলিং পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচ সেরা হন ক্রিস জর্ডান।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবঃ ১২৬/৭ (২০ ওভার), পুরান ৩২*, রাহুল ২৭; রাশিদ ২/১৪, হোল্ডার ২/২৭

সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদঃ ১১৪/১০ (১৯.৫ ওভার), ওয়ার্নার ৩৫, শংকর ২৬; জর্ডান ৩/১৭, আর্শদ্বীপ ৩/২৩

ফলাফলঃ কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব ১২ রানে জয়ী

ম্যাচ সেরাঃ ক্রিস জর্ডান (কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব)

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

পেস আক্রমণে প্রতিযোগিতা, অনেক ভাল লাগছে রুবেলের

Read Next

নাজমুল একাদশকে উড়িয়ে দিয়ে চ্যাম্পিয়ন মাহমুদউল্লাহ একাদশ

Total
1
Share
error: Content is protected !!