জয় দিয়ে বছর শুরু করল বাংলাদেশ

জয় দিয়ে বছর শুরু করল বাংলাদেশ

খর্ব শক্তির দল নিয়ে বাংলাদেশে আসা ওয়েস্ট ইন্ডিজ সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবালদের মোকাবেলা করার আগে তারুণ্যের জয়গান গেয়েছিল। কাগজে কলমের হিসাবকে পাশে রেখে খুঁজে নিতে চেয়েছিল উপভোগের মন্ত্র। তবে ৩১৩ দিন পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টাইগার ক্রিকেটারদের দারুণ প্রত্যাবর্তনে শুরুটা উপভোগের চেয়ে বিষাদেই ভরা ছিল। বোলারদের দাপটের দিনে নতুন বছরের শুরুটা ৬ উইকেটের জয় দিয়েই করলো বাংলাদেশ।

প্রায় দেড় বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে সাকিব আল হাসান বল হাতে দেখালেন দারুণ কিছু। তার ৪ উইকেটের সাথে মুস্তাফিজুর রহমান ও অভিষিক্ত হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ১২২ রানেই গুটিয়ে যায় টস হেরে ব্যাট করা ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্যারিবিয়ান স্পিনারদের কল্যাণে এই রান তাড়াতেও ধুঁকতে হয় টাইগার ব্যটসম্যানদের।

দুই দলই ২০২৩ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার লক্ষ্যে এই ম্যাচ দিয়ে ওয়ার্ল্ড কাপ সুপার লিগ যাত্রা শুরু করে। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হতাশা উপহার দিয়ে যাত্রা শুভ হল এই ম্যাচ দিয়েই অধিনায়কত্বের যাত্রা শুরু করা তামিম ইকবালের বাংলাদেশের। ব্যাট হাতে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ৪৪ রানে দলের জয়ে তামিমও রেখেছেন বড় ভূমিকা।

১২৩ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়ায় লিটন দাসকে নিয়ে উদ্বোধনী জুটিতে ৪৭ রান তুলে ফেলেন তামিম। তবে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সকে টেনে আনতে না পারা লিটনের অবদান ৩৮ বলে ১৪। অভিষিক্ত ক্যারিবিয়ান স্পিনার আকিল হোসেনের টার্ন করা বল বুঝতে না পেরে বোল্ড হন লিটন। ভবিষ্যৎ বিবেচনায় সাকিবকে চারে সরিয়ে তিন নম্বরে তুলে আনা নাজমুল হোসেন শান্ত ব্যর্থ হয়েছেন প্রথম দফায়। আকিলের দ্বিতীয় শিকার হয়ে ফিরেছেন মাত্র ১ রান করে।

লিটন-শান্তর বিদায়ের পর তামিম-সাকিব ম্যাচ শেষ করে আসার পথেই ছিলেন। তবে স্পিন নির্ভর বাংলাদেশকে স্পিনেই ধুঁকিয়েছে ক্যারিবিয়ানরা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলপতি জেসন মোহাম্মদের বলে টাইগার দলপতি তামিম ফিরে গেলে ভাঙে দুজনের ৩৬ রানের জুটি। ৬৯ বলে ৭ চারে ৪৪ রানের ইনিংসটি সাজান তামিম।

জয়ের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে আকিল হোসেনের তৃতীয় শিকার হয়ে সাজঘরে ফিরেন সাকিবও (১৯)। তবে শেষদিকে মুশফিকুর রহিম (১৯*) ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (৯*) আর কোন বিপদ ঘটতে দেননি। তাদের অবিচ্ছেদ্য ১৯ রানের জুটিতে ৯৭ বল হাতে রেখে লক্ষ্যে পৌঁছায় বাংলাদেশ।

এর আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে মুস্তাফিজ, মাঝে সাকিব ও শেষদিকে অভিষিক্ত হাসান মাহমুদের কাছে খাবি খেতে হয়েছে একই ম্যাচে ৬ জনকে অভিষেক করানো ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। ৫৬ রানেই ৫ উইকেট হারানো ক্যারিবিয়ানরা আশার আলো দেখেছিল কাইল মায়ের্স ও রবম্যান পাওয়েলের ব্যাটে। তবে অভিষেক রাঙাতে হাসান মাহমুদ বেছে নিলেন এই জুটিকেই।

ইনিংসের দ্বিতীয় ও নিজের প্রথম ওভারেই অধিনায়কের নেওয়া টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্তকে যথার্থ প্রমাণের চেষ্টা মুস্তাফিজের। নিজের দ্বিতীয় বলেই তুলে নেন সুনীল আমব্রিসকে। ৭ রান করে আমব্রিস বিদায় নেওয়ার ৭ বল পরই নামে বৃষ্টি, ক্যারিবিয়ানদের দলীয় রান তখন ১ উইকেটে ১৫।

এক ঘন্টা পর ফের খেলা শুরু হলে সফরকারীদের চেপে ধরে মুস্তাফিজ ও সাকিব। সাকিব টানা তিন উইকেট তুলে নিয়ে ৫৬ রানেই ৫ উইকেটে পরিণত করান জেসন মোহাম্মদের দলকে। সেখান থেকে অভিষিক্ত কাইল মায়ের্সকে নিয়ে ৫৯ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দেন রবম্যান পাওয়েল।

কিন্তু এবার বাঁধা হয়ে আসেন হাসান মাহমুদ। অভিষিক্ত এই টাইগার পেসার প্রথম ওয়ানডে উইকেটের দেখা পান নিজের পঞ্চম ওভারের প্রথম বলে রবম্যান পাওয়েলকে ফিরিয়ে। পাওয়েল ২৮ রান করে ফেরার পরের বলেই এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন নতুন ব্যাটসম্যান রেইমন রেফার (০)। দুজনকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিক সম্ভাবনা জাগান তরুন এই পেসার।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by cricket97 (@cricket97bd)

হ্যাটট্রিক মিস করলেও ম্যাচে হাসান শিকার করেন আরও এক উইকেট। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৪০ রানের ইনিংস খেলা কাইল মায়ের্সকে ফেরান মেহেদী হাসান মিরাজ। ১২২ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পথে ক্যারিবিয়ানদের কফিনে শেষ পেরেকটা ঠুকেন সাকিব। প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে সাকিবের শিকার দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট।

৪ উইকেট নেওয়ার পথে সাকিব গড়েছেন ঘরের মাঠে ১৫০ ওয়ানডে উইকেটের মাইলফলক। দেশের সর্বোচ্চ ওয়ানডে উইকেট শিকারি মাশরাফি বিন মর্তুজার (২৬৯) সাথেও কমিয়েছেন ব্যবধান। বর্তমানে সাকিবের ওয়ানডে উইকেট ২৬৪।

৩২.২ ওভারে অল আউট হওয়া ক্যারিবিয়ানদের পক্ষে পাওয়েল-মায়ের্স ছাড়া বলার মত স্কোর করতে পারেনি আর কেউই। অধিনায়ক জেসন মোহাম্মদ করেছেন ১৭ রান। ১২ রান এসেছে আন্দ্রে ম্যাককার্থির ব্যাট থেকে।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১২২/১০ (৩২.২), অ্যামব্রিস ৭, জশুয়া ৯, ম্যাককার্থি ১২, জেসন ১৭, মায়ের্স ৪০, বোনার ০, রবম্যান ২৮, রেইফার ০, জোসেফ ৪, আকিল ১, চেমার ০*; মুস্তাফিজ ৬-০-২০-২, হাসান ৬-১-২৮-৩, সাকিব ৭.২-২-৮-৪, মিরাজ ৭-১-২৯-১।

বাংলাদেশ ১২৫/৪ (৩৩.৫), লিটন ১৪, তামিম ৪৪, শান্ত ১, সাকিব ১৯, মুশফিক ১৯*, মাহমুদউল্লাহ ৯*; আকিল ১০-১-২৬-৩, জেসন ৮-০-১৯-১

ফলাফলঃ ৬ উইকেট ও ৯৭ বল হাতে রেখে বাংলাদেশ জয়ী।

ম্যাচসেরাঃ সাকিব আল হাসান (বাংলাদেশ)।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

‘সবাই নার্ভাস ছিল, সাথে উত্তেজিতও ছিল’

Read Next

সেরা পাঁচে রুট, কোহলিকে টপকালেন লাবুশেইন

Total
41
Share