‘অধিনায়ক মাশরাফি’ অধ্যায়ের রহস্যমাখা অবসান

মাশরাফি বিন মর্তুজা

আগের রাতে সিলেটে বেশ ভালো বৃষ্টি হয়েছে, তবে সকাল থেকেই সোনা রোদে ঝকঝকে সবুজ অরণ্যের শহর সিলেট। শীত-গ্রীষ্মের মাঝামাঝি এই সময়টায় চায়ের শহর সিলেটের গাছগাছালিতে ধুলোর আস্তরণ, সেটিও যেন ধুয়ে মুছে এদিন বেশ সতেজ দেখাচ্ছে। প্রথম দুই ওয়ানডে জিতে সিরিজ নিশ্চিত করা বাংলাদেশ পরদিন রাখেনি কোন অনুশীলন সেশন। একদিন পুরোদস্তুর বিশ্রাম কাটিয়ে গতকাল (৫ মার্চ) অনুশীলনে টাইগাররা। শেষ ওয়ানডের আগেরদিন নিজেদের ঝালিয়ে নিতে ঘাম ঝরাতে এসেছে দলের সব ক্রিকেটার। অদ্ভুত যুক্তিতে তৃতীয় ওয়ানডের একাদশ থেকে আগেই ছিটকে যাওয়া মুশফিকুর রহিম এসেছেন আবার অন্যদের চেয়ে প্রায় দুই ঘন্টা আগে।

পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন না ফলে তাকে বাদ দিয়েই সাজানো হচ্ছে তৃতীয় ওয়ানডের একাদশ প্রধান নির্বাচক জানিয়ে গেছেন দ্বিতীয় ওয়ানডের দিনই। একমাস পরের একমাত্র ওয়ানডে ম্যাচের প্রস্তুতি নিতে বাদ দেওয়া হচ্ছে মুশফিককে এ নিয়েই মূলত গণমাধ্যমের যত আগ্রহ। ব্যাপারটা আসলে কোথাকার জল কোথায় গড়াচ্ছে সেসবই ঘেঁটে বের করার প্রয়াস চারদিকে। সবার আগে অনুশীলনে আসা মুশফিক নেটে খেলছেন লম্বা লম্বা শট, বেশিরভাগই ডাউন দ্যা ট্র্যাকে এসে উড়িয়ে পার করছেন অনেক দূর। এ যেন ভেতরের চাপা ক্ষোভ, প্রতীকি বলে আকাশে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা।

এমনিতেই মুশফিক অনুশীলনে সবার থেকে বেশি সময় ব্যয় করেন, পরদিন একাদশে সুযোগ মিলছেনা জেনেও বদলায়নি তার অন্যদের চেয়ে বাড়তি সময় ঘাম ঝরানোর নিয়ম। বিতর্কিত মুশফিক ইস্যুতে ক্রিকেটাঙ্গনে যখন গুমোট পরিবেশ তখনই সবার দৃষ্টি নিজের দিকে নিয়ে গেলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। অথচ মুশফিক নয় এই সিরিজে শুরু থেকেই আলোচনায় ছিলেন তিনি, বোর্ড-অধিনায়ক দুই পক্ষের অস্পষ্ট বার্তায় তাকে ঘিরে বিশেষ উপলক্ষ্যটাও আনুষ্ঠানিক রূপ নিতে পারেনি। প্রথম ম্যাচের আগেই উত্তপ্ত সংবাদ সম্মেলনে নিজেই আবার গুঞ্জনকে মাটি চাপা দেওয়ার মত আচরণ করে বসেন।

কয়েকদিন আগে বিসিবি সভাপতি জানিয়েছিলেন জিম্বাবুয়ে সিরিজে মাশরাফিই থাকছেন অধিনায়ক, কিন্তু পরবর্তী একমাসের মধ্যে নির্বাচিত করা হবে নতুন অধিনায়ক। ফলে মোটামুটি নিশ্চিতই হয়ে গিয়েছিল এটি- জিম্বাবুয়ে সিরিজই মাশরাফির অধিনায়ক হিসেবে শেষ সিরিজ! অভ্যাসে পরিণত হওয়া সুর বদলের নিয়ম মেনে দিন কয়েক পর নাজমুল হাসান পাপন আবার বলে বসেন জিম্বাবুয়ে সিরিজেই মাশরাফির অধিনায়কত্ব অধ্যায় শেষ হচ্ছে এমন কিছু তিনি নিশ্চিত করে বলেন নি। অন্যদিকে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডের আগেরদিন মাশরাফি বলেছেন যা বলার বোর্ডের সাথেই বলবেন, গণমাধ্যমকে বলার মত সময় হয়নি।

তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের শুরুতে এমন কথা বলা একজন হুট করে শেষ ম্যাচের আগে অধিনায়কত্ব ছাড়ার ঘোষনা দিবেন গুনাক্ষরেও ভাবেনি কেউ। ভাবনার জায়গাটা আগেই বন্ধ করে দিয়েছিলেন ‘ক্যাপ্টেন ফ্যান্টাসটিক’ মাশরাফি বিন মর্তুজা। হয়তো নিজের অবসর, অভিমান, ক্ষোভ সবসময় রহস্যের মধ্যে রাখতে ভালোবাসেন বলেই। ম্যাচ পূর্ববর্তী অনুশীলন শেষে দলের প্রতিনিধি হয়ে যেকোন একজন ক্রিকেটার ম্যাচে সামনে রেখে কথা বলেন গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে। কিন্তু বুধবার (৫ মার্চ) দুপুর পৌনে তিনটার দিকে মিডিয়া ম্যানেজারসহ প্রেস কনফারেন্স রুমের দিকে এগোতে থাকা মাশরাফিকে দেখে কিছুটা খটাকা লাগে। তিন ম্যাচ সিরিজে এই নিয়ে তার তৃতীয়বার সংবাদ সম্মেলনে আসা!

সংবাদ সম্মেলন কক্ষে আসলেন, নির্ধারিত চেয়ারে বসলেন। প্রচলিত নিয়মে সাংবাদিকদের প্রশ্নে নয় মাইক্রোফোনে মাশরাফির কেমন ধরে যাওয়া গলায় ‘আমি কিছু বলতে চাই’ দিয়ে শুরু। তখনই টের পাওয়া যায় ম্যাচ পূর্ববর্তী কোন ব্যাপার স্যাপার নয়, ঘটতে যাচ্ছে ভিন্ন কিছু।

হাতে করে নিয়ে আসা আগে থেকে লিখে রাখা নোটের দিকে তাকিয়ে মাশরাফি বিন মর্তুজার বলা বাক্যগুলোতে অবসান ঘটে দেশের ক্রিকেটের এক রোমাঞ্চকর সোনালী অধ্যায়ের। দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অধিনায়ক মাশরাফি অধায়ের পরিসমাপ্তি হবে পরদিন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে, ‘আমি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয় ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্ব থেকে সরে যাচ্ছি, অবসরে যাচ্ছি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেটি আমার অধিনায়ক হিসাবে শেষ ম্যাচ।’

‘খেলোয়াড় হিসাবে আমি অবশ্যই চেষ্টা করবো আমার সেরাটা দেবার, যদি সুযোগ আসে আমার। আমার শুভকামনা থাকবে পরবর্তী অধিনায়কের জন্য। আমার বিশ্বাস সে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে নেক্সট ধাপে নিয়ে যাবে ইন শা আল্লাহ। আমি যদি দলে সুযোগ পাই আমি চেষ্টা করবো আমার যে এক্সপেরিয়েন্স রয়েছে, আমার সেরাটা দিয়ে তাকে সহযোগিতা করার।’

প্রায় সাড়ে পাঁচ বছরের এক যাত্রার ইতি ঘটলো নাটকীয়ভাবে। বোর্ড সভাপতির আগাম ঘোষণা, সিরিজ শুরুর আগে মাশরাফির উড়িয়ে দেওয়া। পরে আবার নিজেই সরে দাঁড়ানো। সবমিলিয়ে এতটুকু স্পষ্ট, সিদ্ধান্ত নেওয়াটা খুব সহজ বিষয় ছিলনা দেশ সেরা এই অধিনায়কের জন্য। কারও চাপ ছিল কিনা এমন প্রশ্নে অবশ্য টাইগার দলপতি বলছেন সকালে ঘুম থেকে উঠে নিজেই মনে করেছেন যথেষ্ট হয়েছে, ‘আপনি যদি বাইরে চিন্তা করেন সবাই ভাবছে ২০২৩ সালে নতুন অধিনায়ক আনার সময় হয়েছে। আমাকে কিন্তু ভাবা উচিত, আমি মনে করি। আমার ভাবা উচিত ছিল। ভাবার চেষ্টা করলেও আমি অতো ভাবতে পারি না। আমি আসলে অতো ভাবিনি। আজকে সকালে মনে হয়েছে যে যথেষ্ট হয়েছে।’

‘সত্যি বলতে আজকে সকালেই মনে হয়েছে। কালকেও কিন্তু এই সিদ্ধান্তে ছিলাম না। আজকে সকালেই মনে হয়েছে, যথেষ্ট হয়েছে। তবে এটা সত্যি যে কথাগুলো আমাকে নিয়ে হচ্ছিলো সেটা অবশ্যই আমার জায়গায় আপনি হলেও এটা আপনাকে ভাবাবে। এটা অবশ্যই সাধারণ প্রক্রিয়া।’

চোট জর্জরিত ক্যারিয়ারটা ঠিকমত অধিনায়কত্বও করতে দেয়নি মাশরাফিকে। ২০০৯ সালে প্রথমবার দায়িত্ব পেয়ে ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে গিয়ে সেন্ট ভিনসেন্টে প্রথমবার টেস্ট নেতৃত্ব দিতে গিয়ে ইনজুরিতে পড়ে কেবল ঐ ম্যাচ নয় সাদা পোশাকেই আর নামতে পারেননি মাঠে। টেস্ট অধিনায়কত্ব টিকেনি তিন দিনও, ফিরে এসে অবশ্য ওয়ানডে অধিনায়কত্ব ধরে রাখেন। কিন্তু সেটিও ৭ ম্যাচের বেশি নয়! ইনজুরি এবার কেড়ে নিল ওয়ানডে অধিনায়কত্বও। বারবার চোটে পড়া কাউকে অধিনায়কত্ব দিয়ে বোর্ডও যেন অস্বস্তিতে আছে, এবার ফিরে আসলেও অধিনায়কত্ব আর নিজের দখলে রাখতে পারেননি।

এরপর কেবল খেলোয়াড় হিসেবেই খেলেছেন, ৭ বার বড়সড় সার্জারি করা মাশরাফির ক্যারিয়ারটাই হুমকির সম্মুখীন। লিগামেন্টের সার্জারি করা অস্ট্রেলিয়ার শল্যবিদ ডেভিড ইয়াংতো প্রথম দুই-তিনবারের পরই জানিয়ে দিয়েছেন ক্রিকেট খেলাটা তার জন্য পঙ্গু হয়ে যাওয়ার মত ঝুকিপূর্ণ। নাছোড়বান্দা মাশরাফি কি আর এত সহজে হাল ছাড়েন? রক্তে মিশে যাওয়া ক্রিকেট খেলে গেছেন সমূহ ঝুঁকি নিয়েই। ক্রিকেট বিধাতাও শেষদিকে দুহাত ভরে দিবেন বলেই ধৈর্য্যের চূড়ান্ত পরীক্ষা নিলেন ‘ক্যাপ্টেন ফ্যান্টাসটিকের’।

২০১৪ সাল, বাংলাদেশ দল ভুলেই গেছে জয় কাকে বলে। ২০১৫ বিশ্বকাপের আগে শেষ সিরিজ ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৫ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ। মুশফিককে সরিয়ে মাশরাফিতে আস্থা বোর্ডের, টানা ব্যর্থতার বৃত্তে থাকা একতা দলকে বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে অন্তত কিছুটা হলেও আত্মবিশ্বাস জুগানোর রসদ এনে দেন দুর্দান্ত নেতৃত্বে। সিরিজের সবকটি ম্যাচ জিতেই বিশ্বকাপে গেল বাংলাদেশ, নড়াইল এক্সপ্রেসের নেতৃত্বের জাদুতে গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথমবারের মত কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশ।

পুরো ২০১৫ সালটাই বাংলাদেশ ক্রিকেটের ক্যালেন্ডারে সোনালী হরফে লিখে রাখার মত পরিসংখ্যানে মুড়িয়ে দেন কাপ্তান মাশরাফি। পাকিস্তানকে হোয়াইট ওয়াশ, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ জয়। ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনাল, ২০১৮ সালের এশিয়া কাপের ফাইনাল, আয়ারল্যান্ডে প্রথম ত্রিদেশীয় সিরিজ জয়। ওয়ানডেতে ৮৭ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে ৪৯ জয় বলে দেয় অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফির অর্জনের খাতাটা কত সমৃদ্ধ ছিল। তবুও ২০১৯ বিশ্বকাপের পর মাশরাফি হটাও একটা রব শুরু হয়ে যায় দেশের ক্রিকেটে। মূলত অধিনায়ক মাশরাফি নয়, পেসার মাশরাফির পারফরম্যান্সেই যত আপত্তি সমালোচকদের। বিশ্বকাপে যে ৮ ম্যাচে উইকেট মাত্র একটি!

দীর্ঘ জলঘোলা, নাটকীয়তার পর বুধবার মাশরাফি ঠিকই দিলেন অবসরের ঘোষণা। তবে খেলোয়াড় মাশরাফি নয় অধিনায়ক মাশরাফি হিসাবে। তার অধিনায়কত্ব নিয়ে কারও সংশয়, সন্দেহ না থাকলেও ছেড়েছেন সেটিই। আর ঘোর আপত্তি থাকা তার পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলার সুযোগ কিন্তু বন্ধ করেননি। তবে দলে টিকে থাকতে হবে পারফরম্যান্স দিয়েই, আর এই চ্যালেঞ্জ নিতেও প্রস্তুত নড়াইল এক্সপ্রেস, ‘প্রথম বিষয়টা হচ্ছে আপনি যদি ঘুম থেকে উঠে আপনার সামনে নাস্তা রাখা হয়, আপনি আবার শুয়ে থাকলেন, টিভি দেখলেন, দুপুরের খাবারটা রাখা হলো। বিকেলে একটু ঘুরে আসলেন। সন্ধ্যায় আবার নাস্তা দেয়া হলো। রাতে ডিনার রেখে গেল, তাহলে আপনার জীবনের মূল্যটা কী থাকল?’

‘কিছুই থাকল না, তো মানুষ হিসেবে প্রত্যেকটা কাজই চ্যালেঞ্জিং। আমি উপভোগ করি সব যখন বিপক্ষে থাকে। এটাই আমার জীবনের উপভোগের অংশ। সবকিছু যখন পক্ষে থাকে তখন আমার কাছে মনে হয় জীবনের মূল্য কিছুই না। সবকিছু যখন আপনার জীবনের বিপক্ষে থাকবে, তখন আপনি কতটুকু সামনে যেতে পারেন, তখন আপনি নিজের সার্থকতা বা চ্যালেঞ্জের মুখে আনতে পারবেন। সেটা আপনার পরিবার বা আপনার সাথে যারা থাকে তাদের জন্য একটা শিক্ষা হতে পারে। এছাড়া আপনি আরামেই জীবনটা পার করলেন।’

দুই দফায় প্রায় ৬ বছরের অধিনায়কত্ব ক্যারিয়ার। সবচেয়ে হতাশার মুহূর্ত কোনটি জানাতে গিয়ে মাশরাফি বলেন, ‘সব থেকে কষ্টের ছিল ভারতের সাথে যখন ১ রানে হারলাম বিশ্বকাপে ওই রাতটা আমি না শুধু পুরো দলের জন্যই বীভৎস ছিল। আমরা সবাই হোটেলে এসে করিডোরে বসে ছিলা ঐটা আমার কাছে মনে হয় অধিনায়ক হিসেবে প্লেয়ারদের দেখে খুবই খারাপ লেগেছে। তার পরও অনেক চ্যালেঞ্জিং পিরিয়ড গিয়েছে, লাস্ট বিশ্বকাপ অবশ্যই। একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আমরা টুর্নামেন্টে টিকে ছিলাম কিন্তু যেভাবে বের হয়ে এসেছি ওটা টাফ ছিল।’

লম্বা সময় দলকে প্রতিনিধিত্ব করছেন, অধিনায়ক হিসেবেও প্রায় অর্ধযুগ পার করেছেন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ক্রিকেটার মানেই অন্য জগতের লোক সাধারণ মানুষের কাছে, সেখানে অধিনায়ক হিসেবে নিশ্চিতভাবেই পেয়েছেন বাড়তি সম্মান, ভালোবাসা। অধিনায়কত্ব ছাড়লেন, হয়তো খেলাটাও ছাড়বেন দ্রুত, ক্রিকেটার হিসেব যে সম্মান দেশে-বিদেশে পেয়েছেন সেটাকে মিস করবেন কিনা টাইগার দলপতি?

এমন প্রশ্নে মাশরাফির জবাব, ‘আর আপনি যেটা বললেন দূতের মত, আমি আসলে যখন খেলোয়াড় হিসেবে শুরু করেছি তখনও এটা ফিল করিনি। যখন অধিনায়ক হয়েছি তখনো এটা মনে করি নি আবার যখন আমারতো আরেকটা পরিচয় আমি এমপি সেটাও আমি ফিল করিনি। কারণ রেড পাসপোর্ট নিইনি, আমি গাড়ি নিইনি, বাড়ি নিইনি কিছুই নিইনি। সো আমি আসলে এসব থেকে সবসময় দূরে থাকতেই পছন্দ করেছি।’

দেশসেরা পেসার, সফলতম অধিনায়ক অর্থ, বিত্ত, তারকাখ্যাতির পেছনে ছুটেননি কখনো সেটা জানতে বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্ধ ভক্ত হতে হবেনা। ক্রিকেট খেলাটাই তার রক্তে মিশে আছে, সেটা যেকোন পর্যায়েই হতে পারে। বিপিএল থেকেই জানান দিয়ে আসছেন এখনই খেলোয়াড়ি জীবনের ইতি টানতে চান না। পারফরম্যান্স বিবেচনায় জাতীয় দল থেকে বাদ পড়লেও নেই আক্ষেপ কেবল উপভোগ করতে চান খেলা। অধিনায়ক মাশরাফি ২০২৩ বিশ্বকাপ সামনে রেখে দলের পরিকল্পনায় অন্যতম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন এমন আভাসই বিভিন্ন সময়ে দিয়েছে বোর্ড। নিজেই সরে গিয়ে প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপটা শুরু করলেন মাশরাফিই। সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়ে বর্তমান অধিনায়ক প্রত্যাশা করছেন তাকে দিয়ে শুরু হওয়া প্রক্রিয়া পাবে চূড়ান্ত রূপ।

নাজমুল হাসান তারেক

Read Previous

মাশরাফির ভাবনায় পরবর্তী অধিনায়ক যারা

Read Next

শেষ ম্যাচে একাদশে ‘চার’ পরিবর্তন

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
16
Share