‘ভালো বোলার হলেই হবেনা, ভালো প্ল্যানার হতে হবে।’

সৈয়দ রাসেল ক্রিকেট৯৭

বয়সভিত্তিক ক্যারিয়ারের শুরুতেই মাশরাফি বিন মর্তুজার সাথে সম্পর্কের গোড়াপত্তন। এরপর জাতীয় দলের সতীর্থ হয়ে সেই সম্পর্ক হয় আরও গভীর। চোট সংগ্রাম পাড়ি দিয়ে এখনো খেলে যাচ্ছেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক। অন্যদিকে ২০১০ সালেই জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ খেলছেন বাঁহাতি পেসার সৈয়দ রাসেল, এখন তিনি সামলাচ্ছেন বোলিং কোচের দায়িত্ব।

সতীর্থ হয়ে মাশরাফির সাথে লম্বা সময় খেলা না হলেও বন্ধুত্বটা আছে আগের মতই। বিপিএলের এবারের আসরে মাশরাফিদের (ঢাকা প্লাটুন) বোলিং কোচের ভূমিকায় আবার রাসেল। ‘ক্রিকেট৯৭’ এর সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে সৈয়দ রাসেল জানিয়েছেন দুজনের সম্পর্কের একাল-সেকাল। পরামর্শ দিয়েছেন চলতি বিপিএলে নজর কাড়া তরুণ পেসারদেরও। পাঠকদের জন্য নিচে তুলে ধরা হল সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ-

ক্রিকেট৯৭- ছোটবেলা থেকে বন্ধুত্ব, বন্ধনটা এখনো বেশ গাঢ়। এক সময়ের সতীর্থ মাশরাফি এখনো খেলছেন। সময়ের বিবর্তনে আপনি এখন তার কোচ। কাগজে কলমে কোচ হলেও ব্যাপারটা হয়তো সেভাবে গড়ায় না, কদিন আগে গণমাধ্যমে নিজেই বলেছেন তাকে আসলে কোচিং করানোর মত কিছু নেই। এ নিয়ে আরেকটু যদি বলতেন?

সৈয়দ রাসেলঃ একসাথেই আমাদের ক্রিকেট (ক্যারিয়ার) শুরু বলা যায়। আমি যখন প্রথম অনূর্ধ্ব ১৭ ক্যাম্পে যাই ২০০২ সালে সম্ভবত, তখন ও আসে নড়াইল থেকে। এরপর সে আমার আগেই জাতীয় দলে ঢোকে, আমি পরে। মাঝখানে একটু গ্যাপ ছিল, কিন্তু জাতীয় দলে যখন ৬ বছর খেললাম তখন আবার সম্পর্ক গভীর হয়। সম্পর্কটা এমন ছিল যে আমরা কখনো আলাদা ব্রেকফাস্ট করিনি, লাঞ্চ করিনি, ডিনার করিনি। সবধরণের অভিজ্ঞতা আমাদের সম্পর্কে ছিল। তো এখন যে আমি ওর কোচ বা ওরে কিছু শেখাবো এটা আসলে আসছেই না, সম্ভবও না। খেলা শেষে আড্ডা দিচ্ছি, সেই আগের মতই। নানা বিষয়ে আলাপ হয়। মাঠের কোন কিছু হলে সে এসে বলে কি হচ্ছে না হচ্ছে, কি করলে ভালো হত।

ওর কোন ভুল হলে সে নিজেই ধরতে পারে। সে যেটা খুঁজে পায় সেটার সাথে আসলে একমত না হয়েও উপায় থাকেনা। যেভাবে সে আলোচনা করে, এই যেমন গত ম্যাচে (চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে) সে দুইটা ছক্কা মারলো, একটা চার মারলো। এরপরের বলে আউট হওয়ার কারণ কি ছিল নিজে নিজে রুমে এসে দেখি ভিডিও এনালাইস করছে। আমি পাশে বসে দেখছিলাম, ওই বলটা সে যদি জায়গায় দাঁড়িয়ে মারতো তাহলে ওইটাও হয়তো ছক্কা হত। সে সামনে এগিয়ে গেল অফ স্টাম্পের বাইরে, মাথাটা নিচু হয়নি ভালোভাবে। ফলে এই যে তার এসব উপলব্ধির জায়গা এসব অন্য কারও মধ্যে আছে কিনা সেভাবে আমি জানিনা। সে নিজেই কোচ বলা যায়, আগেরদিন যেটা বললাম এতদিনের অভিজ্ঞতায় তাকে আলাদা করে শেখানোর কিছু নেই।

ক্রিকেট৯৭- মাশরাফি তো অভিজ্ঞ, বেশ কয়েকজন তরুণ পেসার নজর কাড়ছে বিপিএলে। তাদেরকে কেমন দেখছেন?

সৈয়দ রাসেলঃ হ্যা চোখের দেখায় আমি দুজনকে দেখেছি যাদের ক্রিকেট বোর্ড যত্ন নিতে পারে। একজন হাসান মাহমুদ সে ১৪০ এর বেশি গতিতে বল করতে পারে। উচ্চতা, অ্যাকশন সব মা শা আল্লাহ ভালো। মুগ্ধ (মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ) নামে একজন আছে রংপুরের হয়ে খেলছে, এর আগে আমাদের নেটেও বল করেছিল কয়েকদিন। তখন কাছ থেকে দেখা, ও কিন্তু প্রায় ১৪০ এর আশেপাশে বল করতো। এদের যদি ঠিকঠাক নার্সিং করা যায় এরা আমাদের ভবিষ্যত সম্পদ হবে।

তবে হ্যা, শুধু মাঠে অনুশীলন করালেই হবেনা, সেই সাথে বেশি বেশি খেলার ব্যবস্থা করতে হবে। ম্যাচ খেলার চাইতে বড় অনুশীলন আর হতে পারেনা। ম্যাচ খেলার পর আরেকটা জিনিস যেটা হয় আমরা যখন বাড়ি যাই কেউ চাপ না দিলে নিজের ওয়ার্কআউট করিনা। এ কারণেই ক্রিকেট বোর্ডে তাদের আঁটকে রাখতে হবে। আঁটকে রাখতে হবে বলতে একাডেমিতে ওদের নিয়মিত অনুশীলনের ব্যবস্থা করে দেন। ভালো খাদ্যাভাস করান, জিম টিম করিয়ে ফিট রাখতে হবে। এদের ছেড়ে দিলে এরা অনেক কিছু যথাযথভাবে করতে পারবেনা।

ক্রিকেট৯৭-নিজে পেসার ছিলেন, চোটের মুখোমুখি হয়ে ক্যারিয়ারই অনেকটা শেষ বলা যায়। যেখানটায় ভুল ছিল ফিজিও, কোচদেরও। নিজে কোচ হয়ে ওদের কীভাবে পরামর্শ দিবেন, হাসান মাহমুদ আপনার দলেই আছেন। তাকে কীভাবে গাইডলাইন দিচ্ছেন?

সৈয়দ রাসেলঃ পেস বোলারের সবচেয়ে বড় জিনিস বিশ্রাম করা। হাসানরে বলি যে তুমি বেশি বল করার দরকার নেই, নেটে যে খুব বেশি বল করতে হয় এমন না। নিয়ম মেনে প্ল্যান করে যদি দুইটা ইনসুইং, দুইটা আউট সুইং, ওয়াইড ইয়র্কার অনুশীলন করলো। এখন ধরেন টি-টোয়েন্টি খেলতে বৈচিত্র লাগবে, মানে সব মিলিয়ে একটা কমপ্লিট প্যাকেজ হয়ে যেন অনুশীলন করে। সারাদিন বল করলে তো হবেনা, আপনি ভালো বোলার হলেই হবেনা। ভালো প্ল্যানার হতে হবে।

নাজমুল হাসান তারেক

Read Previous

গতি ধরে রেখে এগিয়ে যেতে চান হাসান মাহমুদ

Read Next

রাসেলকে বাদ দেওয়ার সুযোগ খুঁজতেন জেমি সিডন্স!

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
9
Share
error: Content is protected !!