শিহাব আহসান খান

ব্ল্যাংক মাথা নিয়ে ব্যাটিং করতে চাইঃ ইমরুল কায়েস

ইমরুল কায়েস, খেলেছেন সদ্য শেষ হওয়া অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট স্কোয়াডেও জায়গা পেয়েছেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। সুযোগ পেলে যেখানে নয় বছর আগে অভিষেক হয়েছিলো সেই দক্ষিণ আফ্রিকায় দারুণ কিছু করতে চান। 

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে বাংলাদেশের সম্ভাবনা, নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবনা সম্প্রতি ক্রিকেট৯৭ এর মুখোমুখি হয়ে জানিয়েছেন ইমরুল কায়েস।

-দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২০০৮ সালে আপনার টেস্ট অভিষেক। বলা চলে বিভীষিকা ছিলো সেই সিরিজ। আবার সামনে সেই দক্ষিণ আফ্রিকা সফর। সুযোগ পেলে সেই ক্ষতে প্রলেপ লাগানোর তাড়না থাকবে কতখানি?

ইমরুল কায়েসঃ আসলে নয় বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে আমার অভিষেক হয়েছিলো। তখন আমার মধ্যে ঠিক টেস্ট খেলার মতো পরিপূর্ণতা ছিলো না, রান করতে পারিনি। তবে আমি যেটা করেছিলাম সাহস নিয়ে ব্যাটিং করেছিলাম। যা দেখে নির্বাচকরা বলেন, দলের অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা বলেন সবাই আমার সাহসী অ্যাপ্রোচের প্রসংসা করেছিলো। যা আমাকে খুবই সাহায্য করেছে।

আর গত সিরিজ (অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে) আমার ভালো যায়নি। তাই রান করার ক্ষুধা থাকবে। একাদশে সুযোগ পেলে আগে সেট হতে চাইবো। সেট হলে বড় রান করার চেষ্টা থাকবে।

-আগের সিরিজের কথা বললেন। এই সিরিজে আপনি তিনে ব্যাটিং করেছেন। সচরাচর আপনাকে ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে নামতে দেখা যায়। একটু অস্বস্তি কি বোধ করেছেন?

ইমরুল কায়েসঃ আমিতো অপেনই করে থাকি, এখন প্যাড পরে বসে থাকাটা আমাকে খুব বেশি ইজি ফিল করাবেনা এটাই স্বাভাবিক। মাইন্ডসেটের একটা ব্যাপার তো থাকেই। তবে ওপেনিংয়ে সৌম্য বেশ ভালো করেছে। ওর জায়গাতে ও রাইট। ও ডিজার্ভ করে পজিশনটা। কোচের সঙ্গে এই বিষয়ে আমার কথা হয়েছিলো।

আসলে প্রোফেশনাল ক্রিকেটে এসব এক্সকিউজ খাটেনা। আপনাকে যেখানে খেলতে বলা হবে আপনাকে সেখানেই ব্যাটিং করতে হবে, রান করতে হবে।

-তবুও, নিজের পছন্দের জায়গাটা হারিয়ে ফেললে নেগেটিভ কোন প্রভাব পড়েনা?

ইমরুল কায়েসঃ তা তো বটেই। সবক্ষেত্রেই এরকম হয়। নিজের জায়গা থেকে অন্যত্র সরে যাওয়া তো সুখকর কিছু না। কিন্তু, আমি মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করি যেখানেই আমি যায়।

ক্রিকেট৯৭ এর সাথে আলাপচারিতায় ইমরুল কায়েস

-ইমরুল কায়েসের যে প্রতিভা,সম্ভাবনা ছিলো বা আছে তা কি আপনার ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যানে প্রতিফলিত হয়েছে? ইমরুল কায়েস কি নিজের সামর্থ্যের প্রতি সুবিচার করতে পেরেছে?

ইমরুল কায়েসঃ আমি নিজে যখন নিজের স্ট্যাট দেখি আমার নিজেরই ভালো লাগেনা। অলরেডি ৩০ টা টেস্ট খেলে ফেলেছি। আমার মনে হয় আমার আরো ৭-৮ টা ফিফটি ও ২-৩ টা হান্ড্রেড থাকা উচিত ছিলো।

তবে ডেব্যু সিরিজ ও সদ্য শেষ হওয়া সিরিজ বাদ দিলে আমার খেলা সব সিরিজেই আমি দলে অবদান রেখেছি। অন্তত ছোট ছোট কিছু কন্ট্রিবিউশন ছিলোই। তবে আমি মনে করি দলকে আমার আরো বেশি কিছু দেওয়ার ছিলো বা আছে।

-গত সিরিজের পর আপনার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঘোষিত স্কোয়াডে অন্তর্ভূক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। এগুলো কতটা বিচলিত করে?

ইমরুল কায়েসঃ ভালো করলে সবাই সাধুবাদ জানাবে, খারাপ করলে সমালোচনা হবে এটাই স্বাভাবিক। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আমার ব্যাট হাসেনি বলেই সমালোচনা হচ্ছে। আবার সামনে ভালো করলেই সবাই চুপ হয়ে যাবে। এতে খুব বেশি বিচলিত হই না।

-১৬ তারিখ আপনারা দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য রওয়ানা হচ্ছেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশের সুযোগ কতটুকু?

ইমরুল কায়েসঃ দক্ষিণ আফ্রিকা কিন্তু খুবই শক্তিশালী, বিশেষ করে টেস্টে। এখন আমি যদি বলি আমরা টেস্টে জিতে ফিরবো সেটা বলা সোজা, কিন্তু করা খুবই কঠিন। হারজিত থাকবেই তবে আমি যদি বলি আমরা ভালো ক্রিকেট খেলবো সেটাই মনে করি ভালো হয়। আমি মনে করি দেশের বাইরে ভালো ক্রিকেট খেলে আমরা নতুন একটি স্ট্যান্ডার্ড ঠিক করতে পারবো।

-দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে ব্যক্তিগত কোন লক্ষ্য আছে?

ইমরুল কায়েসঃ লক্ষ্য ঠিক করলে সেটা নিজের ওপরেই প্রেশার হয়। ব্ল্যাংক মাথা নিয়ে ব্যাটিং করতে চাই। সেট হতে পারলে বড় ইনিংস খেলতে চাই। যেকোন কন্ডিশনে সেট না হতে পারলে ভালো করা সম্ভব না।

মন্তব্য

CRICKET- 97
অভিজ্ঞ হয়েই ফিরছেন এনামুল

নভেম্বর ২০১৫ এর পর লাল-সবুজের জার্সি গায়ে আর নামা হয়নি মাঠে। মাঝখানে লম্বা বিরতি। আবার ডাক পেয়েছেন বাংলাদেশ দলে। তবে...

এনামুল হক বিজয় বাংলাদেশ

বিস্তারিত

CRICKET- 97
‘দলের চাওয়াই আমার চাওয়া’

বিপিএল (বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ) অভিষেকেই রাজশাহী কিংসের হয়ে ৫ উইকেট নিয়ে হৈচৈ ফেলেছিলেন আফিফ হোসেন ধ্রুব। এক মৌসুম পর দল...

আফিফ হোসেন ধ্রুব

বিস্তারিত

CRICKET- 97
‘টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটটা বেশ ভাল বুঝতে পারি’

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে হুট করেই সুযোগ পেয়েছেন নাজমুল ইসলাম অপু। সাকিব আল হাসান আঙুলের চোটে খেলতে পারবেন...

নাজমুল ইসলাম অপু

বিস্তারিত