বঙ্গবন্ধু বিপিএলে মুশফিকের চোখে যত প্রাপ্তি

মুশফিকুর রহিম

সদ্য সমাপ্ত বঙ্গবন্ধু বিপিএল শুরুর আগে আগের আসরগুলোর মত বিতর্ক সঙ্গী হবে এমনটাই ধারণা করা হচ্ছিল। তবে মাঠের লড়াই শুরু হতেই পাওয়া যায় প্রতিদ্বন্দ্বীতার আঁচ, সমানে সমানে লড়াই করেছে দলগুলো। উইকেট নিয়ে হয়নি বিতর্ক; ঢাকা, চট্টগ্রামে রান হয়েছে সমানতালে। রাজশাহী রয়্যালসের বিপক্ষে ২১ রানে হেরে শিরোপা বঞ্চিত হওয়া খুলনা টাইগার্সের দলপতি বঙ্গবন্ধু বিপিএলে দেখছেন অনেক প্রাপ্তি। স্থানীয় ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স, উইকেটের প্রশংসা করতে গিয়েতো বলেই দিলেন আইপিএলের পর সেরা লিগ বিপিএল।

ফ্র্যাঞ্চাইজিদের বাদ দিয়ে এবার বিসিবি (বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড) নিজে আয়োজন করছে বিপিএল। বিসিবির তত্বাবধান ও ব্যবস্থাপনার বিপিএল অন্য আসরের চেয়ে কেমন পার্থক্য দেখেছেন জানতে চাইলে মুশফিক বলেন, ‘পার্থক্য যদি বলেন শুধু পারিশ্রমিকে পার্থক্য। এর থেকে আর কোনও পার্থক্য নেই। আর আমি মনে করি স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী অনেক ভালো। আইপিলের পর এটা সেরা লিগে পুরো বিশ্বে। এখানে অনেক বড় বড় ক্রিকেটাররা খেলেন।’

‘যারা ধারাবাহিক অনেক, বিশ্ব মানের। যাদের সঙ্গে খেলে আমাদের স্থানীয় ক্রিকেটারদের অনেক উন্নতি হয়, আমাদের অনেক উন্নতি হয়- তো এটা আমাদের জন্য অতিরিক্ত পাওনা। আগের তুলনায় উইকেটগুলো ভালো ছিল, ক্রিকেটাররাও অনেক ভালো খেলেছে। তো আমার কাছে মনে হয় অল ইন ওয়ান, অনেক ইতিবাচক। পরের বছর যদি আমাদের পারিশ্রমিক বাড়ে তাহলে আরও ভালো কিছু হবে।’

চট্টগ্রামে প্রতিবারই হয় রান উৎসব, যেখানে ঢাকার উইকেট সঙ্গী হয় বিতর্কের। তবে বঙ্গবন্ধু বিপিএলে রান বন্যা দেখেছে ঢাকার উইকেটও, পারফেক্ট টি-টোয়েন্টি মানের উইকেটের দেখা মিলেছে বেশিরভাগ ম্যাচেই। বিপিএলের পর্দা নামা ফাইনালের পর মুশফিক ধন্যবাদ দিয়েছেন কিউরেটরদের, ‘ঢাকা এবং চিটাগংয়ের কিউরেটরদের ধন্যবাদ দিতে চাই। একটা দুইটা এমন হতেই পারে, এতো বড় একটা টুর্নামেন্ট। অন্য বিপিএলগুলো যদি দেখেন। অন্য ব্যাটসম্যানরা রান করেছে তাদের স্ট্রাইক রেট দেখেন। বোলারদের ইকোনোমি দেখেন এটা অনেক হাই। এটাই শো করে উইকেট যখন ভালো হবে স্পোর্টিং হবে সেখানে ব্যাটসম্যানদের জন্য এনাফ রান থাকবে এবং বোলারদের জন্য অনেক চ্যালেঞ্জিং থাকবে।’

‘আপনি যদি পুরো বিপিএল দেখেন স্পিনারদের জন্য অনেক কঠিন ছিল। আগের বিপিএলে অনেক দেখেছি অনেক হেল্প পাচ্ছিলো তারা পাওয়ার প্লেতে ইজিলি তিন চার ওভার বোলিং করতে পারছে। এটা (এবারের উইকেট) শুধু বাংলাদেশ দলের জন্য না যেকোনো দলের জন্য টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে অনেক বেটার। আমাদের জাতীয় দলে এমন প্লেয়ার অনেক কম যারা ১৪০ বা ১৫০ এর বেশি স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং করি। এরকম উইকেটে যখন ১৮০ সেট করবেন বা চেজ করবেন ২০০। তখন কনফিডেন্সটা বাড়বে।’ এমন উইকেটে খেললে ক্রিকেটারদের লাভ উল্লেখ করে যোগ করেন মুশফিক।

স্থানীয় ক্রিকেটারদের ভালো করাটাও বেশ নজর কেড়েছে মুশফিকের, ‘বিশ্বে উইকেট কিন্তু এমনই থাকে ফ্ল্যাট। আমার মনে হয় তাদেরও (স্পিনার) কাজ করার বাকি আছে। তারাও চ্যালেঞ্জ নিবে। কিভাবে ভ্যারিয়েশগুলো বের করা যায় আরও। আমি যেন পাওয়ার প্লে এবং ডেথ ওভারে যেন আরও কম রান দিতে পারি। এটা খুবই ভালো একটা দিক। আমাদের লোকাল প্লেয়াররা অনেক ভালো করেছে এবারের বিপিএলে। আগের অনেক বিপিএলে দেখা যেত এক দুইজন হয়তো ভালো করেছে।’

‘এবার অনেক প্লেয়ার ভালো খেলেছে। অনেক অলরাউন্ডার আছে ব্যাটসম্যান আছে বোলার আছে। এটা বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য গুড সাইন। আমি আশা করি তারা এক বছর খেলেই শান্ত থাকবে না। এটা থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করে পরবর্তীতে যেন আরও ভালো করতে পারে এটাই চ্যালেঞ্জ। একটা বছর অনেক এফোর্ট দিয়ে কষ্ট করে ভালো খেলতে পারেন কিন্তু প্রত্যেক বছর ধারাবাহিক ভাবে ভালো খেলা অনেক কঠিন।’

নাজমুল হাসান তারেক

Read Previous

যেকারণে বঙ্গবন্ধু বিপিএলে টুর্নামেন্ট সেরা আন্দ্রে রাসেল

Read Next

মুশফিকুর রহিম: শিরোপা ছুঁয়ে দেখে রবার্ট ব্রুস হতে না পারার কথকতা

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
4
Share