‘তামিম ভাই ফোন দিয়ে বললো, অর্ধেক দিলে সমস্যা?’

ইয়াসির আলী চৌধুরী রাব্বি

করোনা ভাইরাস সংক্রমণে থমকে আছে বিশ্ব, ক্রীড়াঙ্গনেও শুনশান নীরবতা। তবে বাস্তবতা মেনে নিয়ে ক্রীড়াবিদ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো পাশে দাঁড়াচ্ছে অসহায় মানুষের। বাংলাদেশ জাতীয় দলের ২৭ জন ক্রিকেটারও চলতি মাসে নিজেদের মাসিক বেতনের অর্ধেক দান করেছে করোনা মোকাবেলা তহবিলে। তবে তালিকায় বোর্ডের চুক্তিবদ্ধ ১৭ ক্রিকেটারের বাইরেও ১০ জনের নাম নজর কেড়েছে যারা কেন্দ্রীয় চুক্তিতে নেই, কারও এখনো গায়ে উঠেনি জাতীয় দলের জার্সি। তবে দুর্যোগপূর্ণ সময়ে মানুষের জন্য কিছু করার সুযোগ পেয়ে আনন্দিত তারাও।

ডানহাতি ব্যাটসম্যান ইয়াসির আলি রাব্বি গতমাসে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টের স্কোয়াডে ডাক পান। চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটার নাহলেও বোর্ডের নিয়মানুসারে কোন নির্দিষ্ট সিরিজের দলে থাকলে সংশ্লিষ্ট মাসে নূন্যতম চুক্তির ক্যাটাগরিতে বেতন পাবেন। সে হিসেবে একমাসের একলাখ টাকা পাওয়ার কথা বেতন হিসেবে। ওয়ানডে কাপ্তান তামিম ইকবালের ডাকে সাড়া দিয়ে অর্ধেক দান করেছেন তহবিলে।

তামিমের উদ্যোগ বেশ মনে ধরে ইয়াসিরের, ‘ক্রিকেট ৯৭’ কে মুঠোফোনে তিনি জানান, ‘আসলে প্রথমে তেমন কিছু জানতাম না। তামিম ভাই আমাকে ফোন দিয়ে জানাইলো ব্যাপারটা যে এরকম কিছু একটা করতে যাচ্ছে। আমি বললাম ভাই এটাতো ভালো উদ্যোগ, আমাদের সবারই এগিয়ে আসা উচিত। তখন উনি বলল জিম্বাবুয়ে সিরিজে ছিলি ফলে তুই একমাসের বেতন পাবি, ওখান থেকে অর্ধেক দিলে তোর কি সমস্যা হবে? আমি বলছি না ভাইয়া আমার কোন সমস্যা নাই। আপনারা যেভাবে ভালো হয় সেভাবে করেন।’

জাতীয় দলের গার্সি গায়ে জড়ানোর সুযোগ হয়নি এখনো ফলে কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকার ব্যাপারটাও অনেক পরের। কিন্তু বোর্ডের মাসিক বেতনভূক্ত ক্রিকেটার নাহলেও নিজের সামর্থ্য মত মানুষের জন্য কিছু করতে পারাতে যত আনন্দ রাব্বির, ‘হয়েছে কি দেশের এরকম একটা অবস্থায় বোর্ডের কাছ থেকে প্রতি মাসে পাচ্ছি কি পাচ্ছি না জানিনা। কিন্তু আমাদের থেকে অনেক খারাপ অবস্থায় মানুষ আছে। তাদের জন্য যদি কিছু করতে পারি, হয়তো খুব বেশি কিছুনা কিন্তু যতটুক পারি নিজের কাছেতো ভালো লাগে।’

সম্মিলিতভাবে এমন উদ্যোগ অনেক মানুষের কাজে আসবে বিশ্বাস ডানহাতি এই ব্যাটসম্যানের, ‘আমি যদি নিজের থেকে করতে যেতাম এই একই অর্থ খরচ হত কিন্তু এতগুলো মানুষের জন্য হয়তো করতে পারতাম না। যেহেতু সবাই মিলে কাজটা আমরা করছি দেখা যাচ্ছে অর্থের অঙ্কটাও বেশি ফলে অনেক কিছুই করতে পারি। সে হিসাবে এতা আমার কাছে বেশ ভালো উদ্যোগ মনে হচ্ছে। আসলে চুক্তির ভেতরে বাইরে না, মানুষতো মানুষেরই জন্য। মানুষের জন্য কিছু করতে পারাটা ভালো লাগায়।’

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রভাবে দেশের সবধরণের ক্রিকেট স্থগিত অনির্দিষ্টকালের জন্য। ঘরোয়া লিগে সীমিত ওভারের সবচেয়ে জমজমাট আসর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ বন্ধ হয়েছে মাত্র এক রাউন্ড মাঠে গড়ানোর পর। ফলে অপ্রত্যাশিত ছুটি কাটাতে হচ্ছে ক্রিকেটারদের, ব্যাটে-বলে অনুশীলন করার চাইতে ফিটনেস ধরে রাখাটা এ সময় বড় চ্যালেঞ্জ। করোনা সচেতনতায় নির্দেশনা মেনে বাসাতেই ফিটনেস নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন চট্টগ্রামের এই ক্রিকেটার।

ফিটনেস নিয়ে কাজ করছেন জানাতে গিয়ে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের ইয়াসির যোগ করেন, ‘যতটুকু সম্ভব হচ্ছে বাসায় থেকে ফিটনেস ঠিক রাখার চেষ্টা করছি। খেলা থাকুক না থাকুক ফিটনেসটাতো ঠিক রাখতে হবে। সামনেতো খেলা হবে। কতদিন আর বাসায় বসে থাকবো, কখনো না কখনোতো খেলা শুরু হবে। সেক্ষেত্রে নতুন করে তখন ফিটনেস নিয়ে কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় নষ্ট হবে। তো এখন থেকে যতটুকু এগিয়ে রাখতে পারি।’

যত সময় যাচ্ছে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ মাঠে গড়ানোর সম্ভাবনা কমে আসছে। এমন দূর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার পর সময় স্বল্পতা কিংবা সূচী বিপর্যয়ের কারণে এবারের লিগ আর শুরু না হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে ক্রিকেটাররা। জাতীয় দলের বাইরের ক্রিকেটারদের আয়ের একটা বড় উৎস ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ। এ প্রসঙ্গে রাব্বি বলেন, ‘সবারই ক্ষতি হবে আমার মনে হয় কারণ বেশিরভাগেরই মূল আয়ের উৎস এই ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ। সবাই এই লিগটার অপেক্ষায় থাকে যেহেতু জাতীয় দলে সবার সুযোগ হয়না। তো স্বাভাবিক, শতভাগ ক্ষতি হবে ক্রিকেটারদের।’

তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় আপাতত সুস্থ থাকাতেই নজর ক্রিকেটারদের। কারণ সুস্থ থাকলে ভবিষ্যতে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবেন, ‘সবাই এটাকে নিয়ে চিন্তা ভাবনা করে কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সবার সুস্থ থাকাটাই মূখ্য বিষয়। যার যার জায়গা থেকে একটাই বার্তা এখন সচেতনতা মেনে চলে সুস্থ যেন থাকা যায়। কারণ সুস্থ থাকলে ভবিষ্যতে এই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যেতে পারে।’

নাজমুল হাসান তারেক

Read Previous

করোনা ইস্যুতে ২৫ লাখ রুপি অনুদান দিচ্ছে সিএবি

Read Next

দুস্থদের জন্য ‘চাল’ দিচ্ছেন সৌরভ গাঙ্গুলি

Total
31
Share