পান্ডে-শঙ্করের ব্যাটে রাজস্থানকে হারাল হায়দ্রাবাদ

পান্ডে-শঙ্করের ব্যাটে রাজস্থানকে হারাল হায়দ্রাবাদ

কোয়ালিফায়ারের আশা জিইয়ে রাখতে জয়টা খুব বেশি প্রয়োজন ছিল সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের। দলের ভারতীয় খেলোয়াড়রা ফর্মে ছিলেন না। তবে ঠিক সময়ই তারা জ্বলে উঠলেন। মনীশ পান্ডে ও বিজয় শঙ্করের ব্যাটে চড়ে রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে ৮ উইকেটের বড় জয় পেল সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ।

দুবাই স্টেডিয়ামে টসে জিতে প্রথমে বোলিং নেন সানরাইজার্সের অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার। রয়্যালসের রবিন উথাপ্পা ও বেন স্টোকস শুরুটা ভালো করেন। ওভারপ্রতি ৯ রান করে রানের গতি বাড়াতে থাকেন। তবে ৩০ রানের মাথায় উথাপ্পাকে সানরাইজার্সের জেসন হোল্ডার রান আউট করেন। এরপর ২য় উইকেট জুটিতে স্টোকস এবং সাঞ্জু স্যামসন কিছুটা ধীর গতিতে খেলতে থাকেন।

এক্ষেত্রে সানরাইজার্সের বোলাররা বেশ কৃপণতার পরিচয় দেন। ৪৯ বলে ৫৬ রানের জুটির পর স্যামসনকে অফ কাটারে বোল্ড করেন এবারের আইপিএলে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা হোল্ডার। ২৬ বলে ৩৬ রান করেন স্যামসন। পরের ওভারে স্টোকসকেও চমৎকার ডেলিভারিতে বোল্ড করেন রাশিদ খান। জস বাটলারও খুব বেশি সুবিধা করে উঠতে পারেননি। বিজয় শঙ্করের বলে পয়েন্ট শাহবাজ নাদিমের হাতে ধরা পড়ার আগে মাত্র ৯ রান করেন বাটলার।

স্টিভেন স্মিথ ও রিয়ান পরাগ কিছুটা ঝড়ো গতিতে ব্যাটিংয়ের চেষ্টা করেন। তবে ১৯ তম ওভারে পরপর দুই বলে দুইজনকেই বিদায় করেন হোল্ডার। শেষদিকে জফরা আর্চারের চেষ্টায় দেড়শো রানের কোটা পার করে রয়্যালস। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভার শেষে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৫৪ রান সংগ্রহ করে রাজস্থান রয়্যালস। আর্চার ৭ বলে ১৬ রানে অপরাজিত থাকেন। সানরাইজার্সের পক্ষে হোল্ডার ৩টি এবং শঙ্কর ও রাশিদ খান ১টি করে উইকেট নেন।

১৫৫ রানের লক্ষ্যে সানরাইজার্সের হয়ে ব্যাট করতে নামেন অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার এবং জনি বেয়ারস্টো। ১ম ওভারে জফরা আর্চারের বলে বাউন্ডারি হাঁকানোর পর বেশিদূর যেতে পারেননি ওয়ার্নার। ৪র্থ বলে সেকেন্ড স্লিপে বেন স্টোকসের হাতে ধরা পড়েন তিনি। অপর ওপেনার জনি বেয়ারস্টোও ১০ রানের বেশি করতে পারেননি। আর্চারের দুর্দান্ত ইনসুইংগারে সরাসরি বোল্ড হন বেয়ারস্টো।

১৬ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ভীষণ চাপে পড়ে যায় সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ। তবে পরের গল্পটা মনীশ পান্ডে এবং বিজয় শঙ্করের। শুরু থেকে ঝড়ের বেগে ব্যাটিং করতে থাকেন মনীশ। কার্তিক তিয়াগি এবং বেন স্টোকসের ওপর চড়াও হন বেশি। চার-ছক্কার প্রদর্শনী দেখা যায় মনীশ পান্ডের ব্যাটিংয়ে। তাকে যোগ্য সাহচর্য দেন শঙ্কর।

সেট হওয়ার পর শঙ্করও নিজের স্বভাবিক ব্যাটিং করতে থাকেন। এ দুইজন অবিচ্ছিন্ন থেকে ৩য় উইকেটে ১৪০ রানের জুটি গড়েন এবং ১১ বল বাকি রেখে দলকে ৮ উইকেটের বিশাল জয় এনে দেন। ৪৭ বল খেলে ৪টি চার ও ৮টি বিশাল ছক্কার সাহায্যে ৮৩ রানে অপরাজিত থাকেন মনীশ পান্ডে। অন্যদিকে ৬টি বাউন্ডারির সহায়তায় ৫২ রানে অপরাজিত থাকেন বিজয় শঙ্কর। রয়্যালসের পক্ষে ২টি উইকেটই নেন আর্চার।

অপরাজিত থেকে ম্যাচজয়ী ইনিংসের জন্য ম্যাচ সেরা হন সানরাইজার্সের মনীশ পান্ডে।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

রাজস্থান রয়্যালসঃ ১৫৪/৬ (২০ ওভার), স্যামসন ৩৬, স্টোকস ৩০; হোল্ডার ৩/৩৩, শঙ্কর ১/১৫

সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদঃ ১৫৬/২ (১৮.১ ওভার), মনীশ ৮৩*, শঙ্কর ৫২*; আর্চার ২/২১

ফলাফলঃ সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ ৮ উইকেটে জয়ী

ম্যাচ সেরাঃ মনীশ পান্ডে (সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ)।

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

‘তাড়াহুড়োয় ধ্বংস হতে পারে আকবরদের ক্যারিয়ার’

Read Next

‘আগামী কয়েক মাসের মধ্যে খুব ভালো নেতা হয়ে উঠবে তামিম’

Total
3
Share
error: Content is protected !!