জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অবৈধ স্থাপনার থাবা, থাকছে ঝুঁকিও

জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অবৈধ স্থাপনার থাবা, থাকছে ঝুঁকিও

চট্টগ্রাম সিটি আউটার রিং রোড প্রকল্পের কাজ চলছে ২০১৬ সাল থেকে, প্রকল্পটির বাস্তবয়নকারী সংস্থা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। বঙ্গোপসাগরের পাশ দিয়ে পতেঙ্গা থেকে সাগরিকা পর্যন্ত নির্মাণাধীণ রাস্তার একটি ফ্লাইওভার জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের পাশ দিয়ে দক্ষিণ কাট্টলী ও সাগরিকা পোর্ট কানেকটিং রোডকে যুক্ত করবে। ফলে স্টেডিয়ামের মূল ফটক, ইনডোর সহ বেশ বড় একটা অংশ ফ্লাইওভার প্রকল্পে চলে যাচ্ছে।

এর ফলে ড্রেসিং রুম থেকে ফ্লাইওভারের দূরত্ব ২০-২৫ ফুটে নেমে এসেছে। ভারী যান চলাচলের কারণে সৃষ্ট কম্পনে স্টেডিয়ামের অবকাঠামোগত ঝুঁকি থেকেই যায়। এ ছাড়া ড্রেসিং রুম থেকে ফ্লাইওভারের দূরত্ব একদমই কম হওয়াতে আন্তর্জাতিক ম্যাচ চলাকালীন নিরাপত্তা ইস্যুতেও একটা শঙ্কা তৈরি হয়। তবে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের ভেন্যু ম্যানেজার ও এই প্রকল্পের প্রধান প্রকৌশলী বলছেন ঝুঁকি থাকবেনা- এমন পরিকল্পনাতেই তারা প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছেন। যদিও চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদকের দাবি পুরো প্রকল্পই হচ্ছে অবৈধভাবে।

জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম মূলত বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার অধীনে। ফলে স্টেডিয়ামটির কোন সংযোজন, বিয়োজন কিংবা সংস্কারে বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার অনুমতি প্রয়োজন। কিন্তু চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সিরাজ উদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর বলছেন প্রকল্পের জন্য স্টেডিয়ামের জায়গা অধিগ্রহণের কোন প্রক্রিয়াই মানেনি বাস্তবয়নকারী সংস্থা।

No description available.

No description available.

No description available.

No description available.

 

‘ক্রিকেট৯৭’ কে বিসিবির সাবেক এই পরিচালক বলেন, ‘এই কাজটা বৈধভাবে করা হয়নি, সম্পূর্ণ অবৈধভাবে বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কোন প্রকার ছাড়পত্র ছাড়া, কোন প্রকার পরামর্শ ছাড়া, সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে দখল করে করা হচ্ছে। এই বিভাগীয় স্টেডিয়ামটা পুরোপুরি বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সম্পত্তি। এই জায়গাটাও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার নামে। এটা আমাদের কোন পরামর্শ, অনুমতি ছাড়া করা হচ্ছে।’

‘এটার সাথে সিডিএর সাবেক যে চেয়ারম্যান ছিলেন, উনারা জড়িত। এটা চরম একটা অন্যায় কাজ করছে। এটা অবশ্যই বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাকে জানানো উচিৎ ছিল, কারণ এটাও একটা সরকারি সংস্থা। কোন প্রকার সমন্বয় ছাড়া যারা এই কাজটা করছে তাদের কোন না কোন সময় আইনের কাছে জবাবদিহিতা করতে হবে।’

তার ভাষাতে অবৈধভাবে হতে যাওয়া এই ফ্লাইওভারের কারণে সমূহ ঝুঁকিও তৈরি হয়। তিনি বলেন, ‘ফ্লাইওভার যেটা হচ্ছে এর সাথে ড্রেসিংরুমের দূরত্ব ২০-২৫ ফুটের বেশিনা। ভেন্যুর সিকিউরিটির সাথে আইসিসি যুক্ত, আমি জানিনা এটার ভবিষ্যৎ কি হয়। আমি খারাপ কিছু আশা করবোনা। একটা স্টেডিয়াম, এটা তো হাজার কোটি টাকার স্থাপনা। আপনি হয়তো আজকে বলছেন এরকম করে দিবেন, ওরকম করে দিবেন। সফরকারী দল বলল যে আমরা সুরক্ষা মনে করছিনা, ফ্লাইওভার থেকে ড্রেসিং রুম এত কাছাকাছি এটা নিরাপদ না।’

‘যখন ভারী যানবাহনগুলো চলাচল করবে তখন যে কম্পনটা হবে, এই কম্পনেইতো একটা প্রভাব পড়বে। আন্তর্জাতিক ম্যাচ হবে, আপনি তখন রাস্তা বন্ধ করে দিবেন। এটা তো হয়না। পৃথিবীর আর কোন স্টেডিয়ামের মুখের উপর এরকম ফ্লাইওভার আছে? এই স্টেডিয়ামের প্রবেশ পথ ৩০ ফুটের, আপনি সেখান থেকে ১৫ ফুট নিয়ে নিলেন, এটা হয়?’

তবে সিডিএ ও এই প্রকল্পের প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস ‘ক্রিকেট৯৭’ কে বলছেন ভিন্ন কথা। যদিও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার অনুমতির ব্যাপারে তার কাছ থেকে মিলেনি সন্তোষজনক উত্তর। তার দাবি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক, সাবেক সিটি মেয়র ও বিসিবি পরিচালক আ.জ.ম নাসিরের সবুজ সংকেতেই তারা প্রকল্পে হাত দেন।

জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হলেও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থায় আ.জ.ম নাসির কেবলই একজন কাউন্সিলর। ফলে বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার জায়গা অধিগ্রহণে একজন কাউন্সিলরে রাজি হওয়াতেই প্রকল্প শুরু করা বেমানান। কিন্তু হাসান বিন শামস জানান বিষয়টিকে অনুমোদন দিয়েছেন খোদ বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনও।

তিনি যোগ করেন, ‘উনাদের (বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা) সাথে কয়েক দফায় বসা হয়েছে। আ.জ.ম নাসির ভাই , (নাজমুল হাসান) পাপন সাহেব সহ সবাই জানে, উনি নিজে পরিদর্শন করেছেন। আমরা কি জনে জনে গিয়ে বৈঠক করবো নাকি। এসব বিষয়ে আমাদের চুক্তি হয়েছে, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সহ সবার সাথে যোগাযোগ করেই আমরা এই প্রকল্পের কাজ শুরু করেছি।’

No description available.

এ ছাড়া এই প্রকল্পের ফলে স্টেডিয়ামের লাভই বেশি হচ্ছে বলে জানান সিডিএর এই প্রকৌশলী, ‘আগে একটা গেইট ছিল, এখন হচ্ছে দুইটা। লাভটা কার হচ্ছে তাহলে? লিংক রোডের এন্ট্রিটাও তারা পাচ্ছে। দুই দিক থেকে মানুষ আসতে পারলো। নাসির ভাইরা কনভিন্স কেন হয়েছেন? এই লিংক রোড হলে এয়ারপোর্ট থেকে দলগুলো সরাসরি হোটেলে উঠবে। ভবিষ্যতে লিংক রোডের পাশে পাঁচ তারকা হোটেল হবে, সরাসরি বাইপাস রোড হয়ে চলে আসলো তাহলে শহরের ভেতরেও থাকতে হলনা। সুবিধাটা তাদেরই বেশি হল।’

ড্রেসিং রুম থেকে ফ্লাইওভারের দূরত্ব কম হওয়াতেও সমস্যা দেখেন না হাসান বিন শামস। ড্রেসিংরুমকে নিরাপদ রাখতে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপই নেওয়া হবে উল্লেখ করে তিনি যোগ করেন, ‘না সমস্যা হবে না, আমরা ফেন্সিং করে দিব। যাতে ফ্লাইওভার থেকে ড্রেসিং রুমের কিছু দেখা না যায়। পুরো জায়গা আইসোলেটেড করে দেওয়া হবে। দুইটা প্রবেশ পথ থাকবে, একটা দিয়ে গাড়ি ফ্লাইওভার হয়ে চলে যাবে, আরেকটা দিয়ে মাঠের যাবতীয় কার্যক্রম চলবে। খেলা চলাকালীন সমস্যা এড়াতে ঐ রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হবে।’

এদিকে ভেন্যু ম্যানেজার ফজলে বারি রুবেলও মনে করেন সিডিএর দেখানো পরিকল্পনায় ক্ষতির চাইতে লাভই বেশি হবে স্টেডিয়ামের, ‘গেট টা একটু বাঁয়ে সরে আসবে। ওরা ড্রয়িং করছে আবার। আমাদের অভ্যন্তরীণ রাস্তাটা কিছুটা সংকীর্ণ হবে। আমাদের থেকে জায়গা গেলেও, রাস্তার পাশে আমাদের যে গ্রিন লনটা আছে সেটা থাকছে। আমার ধারণা স্টেডিয়ামের কানেক্টিভিটিটা আরও বেশি হবে।’

‘ওরা আগে থেকেই জানিয়েছে, আমাদের প্রেসিডেন্ট স্যারকেও দেখিয়েছে ম্যাচ চলাকালীন ফ্লাইওভারে যান চলাচল বন্ধ থাকবে। ফ্লাইওভারের পাশে যে দেয়ালগুলো আছে সেগুলো অনেক উঁচু কর দিবে যেন গাড়ি চলাচলের সময়ও ড্রেসিং রুমের আশেপাশে কিছু দেখা না যায়।’

নাজমুল হাসান তারেক

Read Previous

এখনো শতভাগ ফিট নন সাকিব, তবে…

Read Next

অনভিজ্ঞদের কঠিন চ্যালেঞ্জ থেকে দূরে রাখতে চান ডোমিঙ্গো

Total
11
Share