জলিল চাচা, সুধীরের আক্ষেপ, শোয়েব আলির কৃতজ্ঞতা

জলিল চাচা, সুধীরের আক্ষেপ, শোয়েব আলির কৃতজ্ঞতা

জহুর আহমেদ চৌধুরীর ফাঁকা গ্যালারিতেও টাইগার বেশে দুইজন সমর্থকের ‘বাংলাদেশ বাংলাদেশ’ চিৎকার স্পষ্টই শোনা যায়। করোনা পূর্ববর্তী সময়ে বাংলাদেশের খেলা মানেই এমন হাজারো দর্শকের স্লোগানে মুখরিত ছিল স্টেডিয়াম। করোনার ভয়াল থাবা দর্শকদের মাঠে আসার পথটা করেছে কঠিন। বেশ কয়েকটি দেশে সীমিত আকারে দর্শক ফিরলেও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এখনো সেই ঝুঁকি নিতে পারছেনা। তবে বাংলাদেশের আইকনিক ফ্যান শোয়েব আলির জন্য অবশ্য দরজাটা রেখেছে খোলাই।

বেশ কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশের খেলা মানে শোয়েব আলির মাঠে থাকা নিশ্চিত। দেশে কিংবা বিদেশে, দ্বিপাক্ষিক সিরিজ কিংবা বৈশ্বিক কোন টুর্নামেন্ট শোয়েব কঠিন সব পথ পাড়ি দিয়ে পৌঁছেছেন ভারত, শ্রীলঙ্কা, সংযুক্ত আরব আমিরাত কিংবা জিম্বাবুয়ের মত দেশেও। জিম্বাবুয়ে গিয়ে পাসপোর্ট, ভিসা সহ কাগজপত্র হারিয়ে জেলও খাটতে হয়েছে। শ্রীলঙ্কার উগ্র সমর্থকদের বাজে আচরণের শিকারও হয়েছেন ।

চলমান বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে টাইগার শোয়েবের সাথে বাঘ বেশে গ্যালারিতে দেখা যাচ্ছে মোহাম্মদ রবি নামের একজন ক্রিকেট ভক্তকেও। যিনি বাংলাদেশ দলের মিস্টার ডিপেন্ডেবল খ্যাত ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিমের পাঢ় ভক্ত। নেট কিংবা ব্যক্তিগত অনুশীলন মুশফিককে সাহায্য করে থাকেন, দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে টিম বয় হিসেবে কাজও করে থাকেন। কৃতজ্ঞতায় মুশফিকও তার পুরো পরিবারের দেখভাল করেন।

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের ওয়েস্টার্ন গ্যালারিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিনে এই প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় শোয়েব আলি ও মোহাম্মদ রবির।

শোয়েব জানান ফাঁকা মাঠে বাংলাদেশকে সমর্থন দিতে এসে ঘরের মাঠেও বাইরের মাঠে সমর্থন দেওয়ার অনুভূতি পাচ্ছেন। বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের খেলা হলে অনেকটা একাই পতাকা উড়াতে হয়, ঠিক যেমনটা করোনা প্রভাবে বর্তমানে দেশের মাটিতেও করতে হচ্ছে।

No description available.

শোয়েব বলেন, ‘এখন গ্যালারিতে কেউ না থাকায় মনে হয় যেন বিদেশে খেলা দেখছি। আমি জিম্বাবুয়ে, শ্রীলঙ্কাতে যেমন দেখেছিলাম, গ্যালারিতে তেমন কেউ ছিল না সেই রকম লাগে, একা একা চিৎকার করা সেই রকম লাগে। দেশে দর্শক হলো খেলার মূল। দর্শকদের সঙ্গে যে আনন্দটা করি সেইটা গ্যালারিতে আসার আসল কারণ। আমি যখন বলি – তোমার দেশ, আমার দেশ আর গ্যালারির সবাই বলে বাংলাদেশ, বাংলাদেশ তখন শরীরের পশম দাঁড়িয়ে যায়। আমি এখন সেই অনুভূতিটা খুব মিস করছি।’

করোনা পরবর্তী সময়ে এখনই মাঠে দর্শক ফেরানোর ঝুঁকি নিচ্ছেনা দেশগুলো। যে কয়েকটি দেশে ফিরেছে সেখানেও একটা সামান্য অংশ এই সুযোগ পাচ্ছে। শোয়েবের মত আইকনিক ফ্যান হিসেবে বেশ সমাদৃত ভারতের সুধীর গৌতম, পাকিস্তানের চৌধুরী আব্দুল জলিল (জলিল চাচা), শ্রীলঙ্কার গায়ান সেনানায়েক ও মোহাম্মদ নিলাম।

তবে এদের মধ্যে ভারত, পাকিস্তান কিংবা শ্রীলঙ্কার আইকনিক ফ্যানরা এখনই মাঠে ফেরার সুযোগ পাচ্ছে না। যেটা ইতোমধ্যে পেয়েছেন শোয়েব আলি। সেদিক থেকে বিসিবির প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞ এই টাইগার ফ্যান।

শোয়েব বলেন, ‘গতকাল পাকিস্তানের জলিল চাচা আমাকে মেসেজ পাঠাল যে দেশের মাঠে খেলা দেখতে পারছেনা। উনার খেলা দেখার বয়স ৩০-৪০ বছর অথচ তিনি সুপার ফ্যান হওয়ার পরও দক্ষিণ আফ্রিকারে বিপক্ষে খেলা দেখতে পারছেন না। আবার ভারতের সুধীর সে বোর্ড থেকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ দেখার অনুমতি পাচ্ছে না। ওর ২০ বছরের ক্যারিয়ারে দেশের খেলা মিস করেনি, সেও ঢুকতে পারছে না। সেখানে বিসিবি আমাকে খেলা দেখার অনুমতি দিয়েছে। এরজন্য আমি বিসিবির কাছে খুব কৃতজ্ঞ। এই সিরিজেও সমর্থক হিসেবে আমাকে বিনা টিকিটে অনুমতি দিয়েছে।’

এদিকে মোহাম্মদ রবি জানালেন ভরা গ্যালারিতেই খেলা দেখতে তার ভালো লাগে কিন্তু তবে খেলার প্রতি আলাদা টান থাকায় ফাঁকা গ্যালারিতেও খেলা দেখাতে মন খারাপ নেই তার।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by cricket97 (@cricket97bd)

রবি বলেন, ‘মানুষ ভরা গ্যালারিতেই খেলা দেখতে ভাল লাগে কিন্তু দেশের খেলা যেহেতু তাই যেভাবেই হোক সরাসরি দেখতে পারলেই আমি খুশি। খালি গ্যালারি কোন সমস্যা না। এই সিরিজেও মুশফিক ভাই আমাকে খেলা দেখার ব্যাবস্থা করে দিছে। মুশফিক ভাই-ই সব খরচ দেয় থাকা-খাওয়ার।’

চট্টগ্রাম থেকে, নাজমুল তারেক

Read Previous

আক্সারের ইনজুরিতে স্কোয়াডে শাহবাজ-চাহার

Read Next

আজ সাকিবকে বোলিং করতে দেখা যাবে না

Total
11
Share