খেলা হলেই ভালো বলে মত কোচদের

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ লিস্ট ‘এ’ মর্যাদা পাওয়ার পর এবার নিয়ে মাত্র দ্বিতীয় বার প্রিমিয়ার লিগে সুযোগ হচ্ছে ওল্ড ডিওএইচএস ক্লাবের। অন্যদিকে পারটেক্স স্পোর্টিং ক্লাব এর আগে দুইবার সুযোগ পেয়ে টেবিলের তলানির দিকে ছিল বলে অবনমন হয়েছে প্রথম বিভাগে। তারাও এবার নতুন উদ্যমে উঠে এসেছে প্রিমিয়ার লিগে। কিন্তু করোনা ভাইরাস প্রভাবে মাত্র এক রাউন্ড পরই থেমে যাওয়ায় হতাশায় পুড়তে হচ্ছে দুই দলকেই। বাস্তবতা মেনে নিয়ে দুই দলের কোচই চাইছেন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে লিগের বাকি অংশ যেন মাঠে গড়ায়।

লিস্ট ‘এ’ মর্যাদা পাওয়ার পর ২০১৪-১৫ মৌসুমের পর আবারও প্রিমিয়ার লিগে খেলা নিশ্চিত করেছে ওল্ড ডিওএইচএস। ঐ মৌসুমে ১৩ ম্যাচের সবকটিতেই হারা ডিওএইচএস তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়ে এবার শুরু করে দারুণভাবে। মাঠে গড়ানো প্রথম রাউন্ডের ম্যাচেই হারিয়ে দেয় তারকা সমৃদ্ধ লিজেন্ডস অব রুপগঞ্জকে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিহতে প্রিমিয়ার লিগ স্থগিত হওয়া অপ্রত্যাশিত ছুটি কাটাতে হচ্ছে দলগুলোর কোচ, খেলোয়াড়দের।

তবে ফাঁকা সময়ে ঠিকই নিজের শেখার জগতে নতুন কিছু যোগ করাতেই মনোনিবেশ ওল্ড ডিওএইচএস কোচ নাসিরউদ্দিন ফারুকের। ‘ক্রিকেট৯৭’ এর সাথে আলাপে তিনি জানান, ‘আসলে এই পরিস্থিতিতে ভাবারতো তেমন কিছু নেই। ক্রিকেটের বাইরে থাকাটাও কঠিন, বাসায় আছি ঐ ক্রিকেট নিয়েই সময় কাটানোর চেষ্টা। ক্রিকেট নিয়ে চিন্তা করছি বেশিরভাগ সময়। যেহেতু কোচিংয়ে আছি নতুন কিছু দেখতেছি। কিছু সাইটস আছে, কিছু মুভি আছে স্পোর্টসের। সেগুলোই দেখছি আরকি।’

লম্বা সময় পর প্রিমিয়ার লিগে ফেরা ওল্ড ডিওএইচএসে নেই কোন তারকা ক্রিকেটার, তবে তরুণদের নিয়েই প্রথম ম্যাচে হারিয়ে দেয় নাইম ইসলাম, সাব্বির রহমানদের লিজেন্ডস অব রুপগঞ্জকে। এমন ভালো শুরুর পর থমকে যাওয়াটা হতাশার বললেও দলটি কোচ বলছেন মেনে নিতে হবে বাস্তবতা, ‘অনেকদিন পর ফিরেছে, শুরুটাও দারুণ হয়েছে । রুপগঞ্জের মত (লিজেন্ডস অব রুপগঞ্জ) দলকে হারানো কম নয়। আসলে এটা বাজে একটা পরিস্থিতি, ক্রিকেট বলেন বা অন্য খেলাধুলার সাথে সংশ্লিষ্ট বিশ্বের সবার জন্যই মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নাই।’

‘যেহেতু আমাদের দলের ক্রিকেটাররা একদমই তরুণ, তাদের ক্যারিয়ারটা শুরু, প্রিমিয়ার লিগ খেলতে শুরু করলো। তো যেভাবে শুরু করেছে তাতে ভালো একটা ছন্দ সাথে অনুপ্রেরণা পাচ্ছিলো ভালো করার জন্য।’

তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে যেভাবেই হোক লিগ মাঠে গড়ানোর পক্ষেই মত নাসিরউদ্দিন ফারুকের। মূলত ক্রিকেটারদের আর্থিক ক্ষতির দিকটা বিবেচনায় নিয়েই তার এমন মত, ‘এটা কীভাবে শেষ হবে না হবে সম্পূর্ণ বোর্ড ও সিসিডিএমের সিদ্ধান্ত। তবে আমার মনে হয় যদি খেলা হয় প্লেয়ারদের জন্য ভালো হবে। সেটা যেভাবেই হোক, ছোট পরিসর কিংবা বড় পরিসর। প্লেয়াররা যেন মাঠে আসতে পারে আমার কাছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ।’

‘আমার দৃষ্টিকোণ থেকে যেটা সেটা হল মাঠে গড়ালে ১২ দল থেকে ২০ জন করে যদি খেলোয়াড় থাকে, অনেকগুলো ক্রিকেটার। তাদের পরিবারগুলো চলে প্রিমিয়ার লিগের টাকা দিয়ে। অন্যান্যগুলোর কথা বলবোনা বিশেষ করে এই প্রিমিয়ার লিগে ক্রিকেটাররা একটা ভালো অঙ্কের অর্থ পায়। আমি চাই খেলাটা হোক, যেভাবেই হোক খেলাটা হলে খেলোয়াড়দের জন্যই ভালো হবে।’

সিসিডিএম বলছে তারাও চান খেলোয়াড়দের যেন বিপদ না হয়, ছোট করে হলেও আয়োজন করতে চান বাকি অংশ। ওল্ড ডিওএইচএস কোচ খেলা মাঠে গড়ালেই খুশি হলেও পারটেক্স স্পোর্টিং ক্লাবের কোচ রেজাউল হক চান পুরো লিগই যেন অনুষ্ঠিত হয়। তবে শেষ পর্যন্ত সিসিডিএম যে সিদ্ধান্ত নিবে তাই মেনে নিবেন বলেও জানান, ‘আসলে লিগ বন্ধ হয়ে যাওয়াটা কারও হাতে ছিলনা, পরিস্থিতির কাছে সবাই হেরে গেছে। আমাদের বাসা ভাড়া নেওয়া আছে, প্লেয়াররা ফিরলে একসাথে উঠবে।’

‘এমনি খরচের একটা বিষয় আছে, এভাবে লিগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্ষতিতো একটু হয়েছেই। ছোট পরিসরে তারা যেভাবে আয়োজন করতে চায় করবে। আমার মনে হয় এভাবে হুট করে সিদ্ধান্ত নিলে অনেকেরই ক্ষতি হতে পারে। আমি পুরো লিগই খেলতে চাই। আমার প্লেয়াররাও তাই চায়। ছোট করলে আবার কি নতুন নিয়ম হয় সেটাও দেখার বিষয়। শেষ পর্যন্ত যাই করবে তাই মেনে নিব।’

নাজমুল হাসান তারেক

Read Previous

প্রতিবেশীদের সুরক্ষায় রাব্বির অভিনব প্রচেষ্টা

Read Next

করোনার কারণে আঁটকে আছে অজিদের বিয়ে!

Total
9
Share
error: Content is protected !!