ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘৮’, বাংলাদেশ ‘৬’

অ্যান্টিগা টেস্টের দ্বিতীয় দিনে এসে আজও গতকালের মতো দুই সেশনের বেশি ব্যাট করা ওয়েস্ট ইন্ডিজের মোট ৮ টি উইকেটের পতন হয়েছে। অন্যদিকে এক সেশনেরও কম খেলে ৬ উইকেট হারিয়ে বসে নিশ্চিত লজ্জাজনক হারের মুখে বাংলাদেশ।

২০০২ সালে ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে এই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই ইনিংস ও ৩১০ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ দল। টেস্টে বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে বাজে ঐ হার ইনিংস ব্যবধানে হারের তালিকায় আছে ৭ম স্থানে। অ্যান্টিগায় সাকিব আল হাসানের দলকে চোখ রাঙাচ্ছিল এর চেয়েও বড় হার। প্রথম ইনিংসে ৪৩ রানে অলআউট হওয়া বাংলাদেশ দল যে দ্বিতীয় ইনিংসেও ৪৩ রান তুলতে হারিয়ে ফেলেছিল ৫ উইকেট।

না, তেমন লজ্জার রেকর্ড নতুন করে গড়তে হচ্ছেনা বাংলাদেশ দলের। তবে যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে ম্যাচ তাতে চিন্তায় কপালে ভাজ পড়াটা স্বাভাবিক।

অ্যান্টিগা টেস্টের প্রথম দিনের প্রথম সেশনে নিজেদের টেস্ট ইতিহাসের সর্বনিম্ন সংগ্রহ ৪৩ রান তুলেই অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ। স্কোরবোর্ডে ২ উইকেট হারিয়ে ২০১ রান তুলে দিন শেষ করেছিল স্বাগতিকরা।

দ্বিতীয় দিনে এসেও কমেনি টাইগার বোলারদের বিরুদ্ধে উইন্ডিজ ব্যাটসম্যানদের আধিপত্য। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির আগেই নিজের সপ্তম টেস্ট সেঞ্চুরি (বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয়) তুলে নেন ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট। আগেরদিন নাইট ওয়াচম্যান হয়ে নামা দেবেন্দ্র বিশুর উইকেটই মধ্যাহ্নভোজের আগে বাংলাদেশ বোলারদের একমাত্র সাফল্য ছিল। ১৯ রান করা বিশুকে বোল্ড করেন কামরুল ইসলাম রাব্বি।

মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পরে খেলা শুরু হলে প্রথম ওভারেই ১২১ রান করা ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েটকে ফেরান সাকিব আল হাসান। তাঁর তিন ওভার পর রস্টন চেজকে ফিরিয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের ১০০ তম উইকেটের দেখা পান মেহেদী হাসান মিরাজ। সাকিবের বলে লিটন দাসের অসাধারণ ক্যাচে সাজঘরে ফিরতে হয় ডরউইচকে।

এরপর শাই হোপকে সঙ্গ দিতে এসে কর্তৃত্ব নিজের কাঁধে নিয়ে নেন উইন্ডিজ দলপতি জেসন হোল্ডার। ২ চার ও ২ ছয়ে ৪৬ বলে ৩৩ রান করে মিরাজের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন তিনি। হোল্ডারের উইকেটটি মিরাজের টেস্ট ক্রিকেটে ৫০ তম উইকেট।

এরপর কেমার রোচকে নিয়ে ৫৬ রানের জুটি গড়েন শাই হোপ, যেখানে ৩৩ রানই তোলেন রোচ। দলীয় ৪০০ রানের মাথায় ৯ম ব্যাটসম্যান হিসাবে ৬৭ রান করে আউট হন শাই হোপ। এরপর আর বেশিদূর যায়নি উইন্ডিজদের ইনিংস। ৪০৬ রানেই গুটিয়ে যায় তাঁরা।

মেহেদী হাসান মিরাজ ও অভিষিক্ত আবু জায়েদ রাহি ৩ টি করে উইকেট নেন। ২ উইকেট পান অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।

১ম ইনিংসে ৩৬৩ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। এ দফাতে ভালো শুরু করেন তামিম ইকবাল। তবে প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসাবে ৪০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করার পরেই শ্যানন গ্যাব্রিয়েলে বলে আউট হন ১৩ রান করা তামিম। রানের খাতা না খুলেই গ্যাব্রিয়েলের বলে বোল্ড হন মুমিনুল হক।

প্রথম ইনিংসের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক লিটন এদিন ফেরেন ২ রান করেই। ১৬ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ দল। সাকিব-মুশফিক জুটি বড় কিছু করবে এমন ভাবনা যখন মাথায় আসছিল তখনই ৮ রান করে গ্যাব্রিয়েলের বলে বোল্ড হন মুশফিকুর রহিম। এরপর সাকিবও টেকেননি বেশীক্ষণ। ১৮ বলে ২ চারে ১২ রান করে গ্যাব্রিয়েলের চতুর্থ শিকারে পরিণত হন সাকিব। দলীয় ৫০ রানের মাথায় ৬ষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন মেহেদী হাসান মিরাজ।

৬ উইকেটে ৬২ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করেছে বাংলাদেশ দল। ইনিংস ব্যবধানে হার এড়াতে এখনো ৩০১ রান করা লাগবে মাহমুদউল্লাহ, নুরুলদের।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: (২য় দিন শেষে)

বাংলাদেশ ৪৩/১০ ও ৬২/৬ (১৮), তামিম ১৩, লিটন ২, মুমিনুল ০, মুশফিক ৮, সাকিব ১২, মাহমুদউল্লাহ ১৫*, মিরাজ ২, নুরুল ৭*, গ্যাব্রিয়েল ৩৬/৪, হোল্ডার ১৫/২

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪০৬/১০ (১৩৭.৩), ব্র্যাথওয়েট ১২১, স্মিথ ৫৮, পাওয়েল ৪৮, হোপ ৬৭, হোল্ডার ৩৩, রোচ ৩৩, রাহি ৮৪/৩, মিরাজ ১০১/৩, সাকিব ৭১/২।

শিহাব আহসান খান

Read Previous

রানের পাহাড়ের নিচে চাপা পড়ছে বাংলাদেশ

Read Next

সাকিবকে ছাড়িয়ে সবার আগে মিরাজ

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Total
0
Share