অভাব অনুভব না করলেও লোভ লাগে জাহানারার

অভাব অনুভব না করলেও লোভ লাগে জাহানারার

বিসিসিআই আয়োজিত তিন দলের নারী টি-টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জ, যা নারীদের আইপিএল নামেই বেশি পরিচিত। বাংলাদেশ থেকে এবার সুযোগ পেয়েছেন দুইজন ক্রিকেটার। গত আসরে ভেলোসিটির হয়ে একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে অংশ নেওয়া জাহানারা আলম এবার সঙ্গী হিসেবে পাচ্ছেন অলরাউন্ডার সালমা খাতুনকে। জাহানারা আগের দল ভেলোসিটির হয়ে খেললেও সংযুক্ত আরব আমিরাতে আগামী ৪ থেকে ৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য নারী আইপিএলে সালমার দল ট্রেইলব্লেজার্স।

গত আসরে দুই ম্যাচ খেলার সুযোগ পাওয়া পেসার জাহানারা আলম ফাইনালে ছিলেন দারুণ উজ্জ্বল। দল হারলেও ৪ ওভার বল করে ২১ রান খরচায় তুলে নেন দুই উইকেট। বিশেষ করে বোল্ড করা দুটি ডেলিভারিই ছিল নজরকাড়া, স্টাম্প উপড়ে ফিরিয়েছেন ইংলিশ তারকা নাতালি শিভার ও নিউজিল্যান্ডের ব্যাটার সোফি ডিভাইনকে।

একই দলের হয়ে আবারও নারী আইপিএল খেলতে দেশ ছাড়বেন ২১ অক্টোবর। তার আগে ‘ক্রিকেট৯৭’ কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাহানার জানিয়েছেন নিজের লক্ষ্য, প্রস্তুতি ও এসব বড় ইভেন্টে খেলার পর ভাবনা, আকাঙ্খার কথা। নিচে তুলে ধরা হল পাঠকদের জন্য-

ক্রিকেট৯৭: টানা দুইবার নারীদের এমন বড় কোন টুর্নামেন্টে সুযোগ পাওয়াকে কীভাবে দেখছেন?

জাহানারা আলম: খুবই ভালো লাগছে। এখন ভালোভাবে টেস্টগুলো (করোনা) দিয়ে সুস্থভাবে ওখানে গিয়ে, ভালো খেলে দেশে ফিরতে চাই। এটাই এখন পর্যন্ত লক্ষ্য।

ক্রিকেট৯৭: আগের আসরে আপনি একা ছিলেন, এবার বাংলাদেশ থেকে দুইজন সুযোগ পেয়েছেন। এটা আমাদের মেয়েদের ক্রিকেটের জন্য একটা ইতিবাচক লক্ষ্মণ বলে মনে করেন কীনা?

জাহানারা আলম: অবশ্যই, গতবার একজন ছিলাম, এবার দুইজন। আমার বিশ্বাস যে যদি বাংলাদেশ দল কালেক্টিভলি ভালো খেলে অন্যান্য আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলোতে তাহলে পরের বছর দুইয়ের অধিক, তিন-চারও হতে পারে এই সংখ্যা। যেটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য আসলেই ভালো একটা দিক। যেটাকে অবশ্যই দেশের নারী ক্রিকেট উন্নয়নের একটা অংশ বলা যায়।

ক্রিকেট৯৭: অস্ট্রেলিয়ায় বিগ ব্যাশ, ভারতে আইপিএল সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মেয়েদের নিয়ে এমন টুর্নামেন্ট হচ্ছে। বাংলাদেশেও এমন কিছুর প্রয়োজনীয়তা কিংবা অভাব অনুভব করেন কীনা?

জাহানারা আলম: অভাব অনুভব করিনা, কিন্তু লোভ লাগে। লোভ লাগে অন্যান্যদের টুর্নামেন্ট দেখলে। ভারত শুরু করেছে এটা তাদের তৃতীয় আসর এবং বিগ ব্যাশের এটা ৬ষ্ট আসর। আমাদের বিপিএলেও শুরু করলে প্রথম আসরই হবে, খুব বেশি পিছিয়েও থাকবোনা বলে আমার মনে হয়। যেখানে ভারত ৯০ এর দশক থেকে মেয়েদের বিশ্বকাপ খেলে, আমরা হয়তো তখন শিশু, কোলে ছিলাম। ইংল্যান্ডে আবার ১৯৭৩ সাল থেকে মেয়েরা বিশ্বকাপ খেলে, ছেলেরা যেখানে ১৯৭৫ সালে শুরু করেছে।

 

সেদিক থেকে চিন্তা করেন অস্ট্রেলিয়াও বেশ আগে থেকে নারীদের ক্রিকেট খেলে, তাদের মেয়েদের বিগ ব্যাশ মাত্র ৬ষ্ঠ আসর, নারী আইপিএল মাত্র তৃতীয় আসর। আমি খুবই আশাবাদী, আমি অভাব বলবোনা আমি বলবো আমার লোভ হয়, আমার বিশ্বাস খুব শীঘ্রয়ই বিসিবিও নারী বিপিএল শুরু করবে। ইতোমধ্যে আমাদের উইমেন উইংয়ের চেয়ারম্যান বলেছেন এ বিষয়টা তাদের মাথায় আছে। তারা চেষ্টা করবে সামনের বছর হোক বা তার পরের বছর হোক উনারা শুরু করে দিবে। আমি আশাবাদী, আমি ব্যক্তিগতভাবে মুখিয়ে আছি, আমি খেলতে চাই।

ক্রিকেট৯৭: করোনার দীর্ঘ বিরতি শেষে এই টুর্নামেন্ট দিয়েই প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরবেন। নিজেদের প্রস্তুতি নিয়ে কতটা সন্তুষ্ট?

জাহানারা আলম: আলহামদুলিল্লাহ আমার মনে হয় যথেষ্ট ভালো প্রস্তুতি নিয়েছি এবং নিচ্ছি। আর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড যেভাবে সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে, আমরা বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার আগে যেরকম সুযোগ সুবিধা পাই ইতোমধ্যে বলা যায় সেরকমই আমাদের দিয়েছে আইপিএল সামনে রেখে। প্রকৃতপক্ষে কুরবানি ঈদের পর ছেলেদের যখন শুরু হয় তখনই মেয়েদের ব্যক্তিগত অনুশীলন শুরু হয়।

ছেলেদের মত একই রকম সুযোগ সুবিধা দিয়েছে। আমাকে একটা জিনিস উল্লেখ করতেই হয় ফ্লাডলাইট কিন্তু একটা ব্যয়বহুল বিষয়। ফ্লাডলাইটের নিচে দুইটা অনুশীলন সেশন রেখেছে আমাদের জন্য, বিশেষ করে আইপিএলে দিবা-রাত্রির ম্যাচ খেলবো বলে। এটা সত্যি আনন্দের বিষয় যে এমন সুযোগ সুবিধা পেয়েছি। আমি নিঃসন্দেহে বলতে পারি আমরা ভালো প্রস্তুতি নিয়েছি।

তিন দিন আগে আমাদের জন্য বোর্ড থেকে একজন কোচও দিয়ে দিয়েছে, মাহবুব আলি জ্যাকি স্যার। উনি আছেন, বিশেষ করে আইপিএল সামনে রেখে উনাকে দেওয়া হয়েছে। এজন্য বিসিবির কাছে কৃতজ্ঞ। বিশেষ করে তৌহিদ ভাই, উনিই সব আয়োজন করেছেন।

ক্রিকেট৯৭: করোনা বিরতি শেষে বিশ্বের অন্যান্য দেশে নারী ক্রিকেট ফিরেছে। বাংলাদেশও ফেরার পথে, সবমিলিয়ে তুলনামূলক অবস্থানটা কোথায় বলে মনে করেন?

জাহানারা আলম: করোনার মধ্যে আমরা যে সময়টা অতিবাহিত করেছি আমার মনে হয় পুরো পৃথিবী যেমন একসাথে থমকে ছিল আমরাও ছিলাম। ধীরে ধীরে সবাই শুরু করেছে। তো আমি বলবনা যে কোন দেশ অনেক বেশি এগিয়ে আছে। যারা আগে ক্রিকেট শুরু করেছে তারা হয়তো আগে প্রস্তুতি নিয়েছে, আমরা হয়তো দেরি করে করেছি। কিন্তু আমার মনে হয় সবাই একই অবস্থানে আছে প্রস্তুতির দিক থেকে।

ক্রিকেট৯৭: গতবার আপনার করা বোল্ড দুটি টুর্নামেন্ট সেরা ডেলিভারির তকমা পেয়েছিল। এবার লক্ষ্যটা কি থাকবে?

জাহানারা আলম: আলাদা কোন লক্ষ্য নেই, তবে ঐ যে বললেন ফাইনাল ম্যাচের কথা, আমরা রানার আপ হয়েছিলাম। এবার যদি অমন পরিস্থিতিতে আবার পড়ি বা আমার সুযোগ থাকে কিছু করার তো আমি আপ্রাণ চেষ্টা করবো আমার সেরাটা দিয়ে যেন দলের জয়ে অবদান রাখতে পারি। এটাই নির্দিষ্ট লক্ষ্য।’

আমি আবারও যাচ্ছি ভেলোসিটির হয়ে খেলতে, একই দল। বলতে পারেন একটা আলাদা সফট কর্নার, ভালো লাগাতো আছেই। মোটামুটি ৯০ ভাগ আগের দলই পাচ্ছি আমি, কিছু পরিবর্তন হয়েছে। একটাই লক্ষ্য ভালো খেলবো, ভেলোসিটির জন্য কিছু করবো।

ক্রিকেট৯৭: কবে নাগাদ দেশ ছাড়ছেন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে কয়দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হচ্ছে আপনাদের?

জাহানারা আলম: কালকে একটা (করোনা টেস্ট) আছে এরপর ১৮ বা ১৯ তারিখ একটা মোট দুইটা টেস্ট হবে। ইন শা ল্লাহ সব ঠিক থাকলে ২১ তারিখ ফ্লাইট। ওখানে গিয়ে ৬ দিনের আইসোলেশন এবং তিনবার করোনা টেস্ট হবে। সবমিলিয়ে মোট ৫ টা করোনা টেস্ট, দেশে ২ টা, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৩ টা, সবগুলোতে নেগেটিভ হলে ২৮ তারিখ থেকে অনুশীলন করার সুযোগ পাবো। ৪ তারিখ আমাদের প্রথম ম্যাচ।

নাজমুল হাসান তারেক

Read Previous

চেনাইয়ের জয়ের নায়ক জাদেজা

Read Next

ব্যাটসম্যানদের ওপর দায় দিলেন তামিম ইকবাল

Total
8
Share
error: Content is protected !!