বিপিএলে ফিক্সিং ও দুর্নীতি, বিসিবির তিন সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
বিপিএলে ফিক্সিং ও দুর্নীতি, বিসিবির তিন সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
বিপিএলে ফিক্সিং ও দুর্নীতি, বিসিবির তিন সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ১২তম আসরকে কেন্দ্র করে ম্যাচ ফিক্সিং, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির অভিযোগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক তিন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আকসুর (অ্যান্টি-করাপশন ইউনিট) দীর্ঘ তদন্তে অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার প্রমাণ মেলায় তাদের তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিসিবি এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করে।
অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন বিসিবি’র সাবেক পরিচালক ও অডিট কমিটির প্রাক্তন প্রধান মুহাম্মদ মুখলেসুর রহমান (শামীম)। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি নিজের পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপিএলের ম্যাচের গতিপথ অবৈধভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন এবং অন্য সহকর্মীদেরও এমন অনৈতিক কাজে নামাতে প্ররোচিত করেছেন। শুধু তা-ই নয়, অনৈতিক প্রস্তাবের বিষয়টি গোপন রাখা এবং পরবর্তীতে অপরাধ ঢাকতে তদন্তের তথ্য ও মেসেজ মুছে ফেলার মতো গুরুতর অভিযোগও উঠে এসেছে তার বিরুদ্ধে।
তদন্তের মুখোমুখি হয়েছেন বিসিবি’র সাবেক সিকিউরিটি লিয়াজো অফিসার (এসএলও) জাকির হোসেনও। নিরাপত্তা সংক্রান্ত দায়িত্বে থেকেও তিনি খেলার স্বাভাবিক শৃঙ্খলা নষ্ট করা এবং অসাধু উপায়ে ম্যাচের ফল নির্ধারণের চেষ্টায় জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ মিলেছে। এছাড়া তদন্তকারী দল যখন তার কাছে জবাবদিহিতা চেয়েছিল, তিনি কোনো যুক্তিযুক্ত কারণ ছাড়াই তাতে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানান।
অভিযুক্ত তৃতীয় ব্যক্তি হলেন অডিট কমিটির সাবেক সদস্য সচিব ও বগুড়া জেলার প্রাক্তন কাউন্সিলর রাকিবুল ইসলাম সানি। তার বিরুদ্ধে মূলত অনৈতিক প্রস্তাব পেয়েও বোর্ডের কাছে গোপন রাখা এবং তদন্ত কমিটির চাহিদা অনুযায়ী তথ্য না দিয়ে পুরো প্রক্রিয়াকে এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিসিবি জানিয়েছে, ক্রিকেটের ভাবমূর্তি রক্ষায় এই তিনজনকে আপাতত সব ধরনের ক্রিকেটীয় কর্মকাণ্ড থেকে বরখাস্ত করে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আত্মপক্ষ সমর্থন ও অভিযোগের জবাব দেওয়ার জন্য তাদের ১৪ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আইনি ও শৃঙ্খলাগত ব্যবস্থা চলমান থাকায় এ মুহূর্তে সংস্থাটি আর কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেবে না।
