হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে নেই ইমরুল, গতির জোরে আছেন হাসান মাহমুদ

ওয়াহাব রিয়াজ হাসান মাহমুদ ঢাকা প্লাটুন

ভারত সফরে টেস্ট দলে সুযোগ পেয়ে পূরণ করেছেন ব্যর্থতার ষোলকলা। ফরম্যাট বদলে বিপিএলে ব্যাট হাতে নেমেই দেখিয়েছেন দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা। ১৩ ম্যাচে ১৩২.৩৩ স্ট্রাইকরেটে প্রায় ৫০ গড়ে রান করেছেন ৪৪২, ছিল চার ফিফটি। চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের সফলতার পেছনে ইমরুক কায়েসের অবদান ছিল অনবদ্য।

মুশফিক-সাকিববিহীন বাংলাদেশের পাকিস্তান সফরের টি-টোয়েন্টি দলে তার জায়গা পাওয়ার জোর সম্ভাবনা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তাঁকে ছাড়াই দল ঘোষণা করতে হল।

সদ্য সমাপ্ত বিপিএলে ওপেন করতে নামা বাংলাদেশীরা ছিলেন বেশ ছন্দে। তামিম ইকবাল, লিটন দাস, নাইম শেখের সাথে ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করেছেন আফিফ হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাজমুল হোসেন শান্ত। জাতীয় দলের ওপেনার ভূমিকায় খেলা ইমরুল অবশ্য বেশিরভাগ ম্যাচেই খেলেছেন তিন, চার কিংবা পাঁচ নম্বরে। ফলে তামিম, লিটন, নাইম শেখদের রাখা স্কোয়াডে তাঁকে বিবেচনা করাই হত মিডল অর্ডারের জন্যই।

কিন্তু শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করেও হ্যামস্ট্রিং চোটে পড়া ইমরুলকে দলে রাখা সম্ভব হয়নি। তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য তার জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন সিলেট থান্ডারের হয়ে খেলা মোহাম্মদ মিঠুন। উইকেট রক্ষক এই ব্যাটসম্যান ১২ ম্যাচে রান করেছেন ৩৪৯, স্ট্রাইক রেটও একদম মন্দ নয়। এদিকে শুধু ওপেনার বিবেচনায় নিলেও ঘোষিত ১৫ সদস্যের দলে সুযোগ পেয়েছেন তামিম ইকবাল, লিটন দাস, নাইম শেখ ও নাজমুল হোসেন শান্ত। এদিকে ভূমিকা না বদলালে সৌম্য সরকারেরও ওপেনার হিসেবেই থাকার কথা ছিল।

বয়সভিত্তিক থেকে ইমার্জিং গতি দিয়ে নজরে আসা ঢাকা প্লাটুন পেসার হাসান মাহমুদ পাকিস্তান সফরে ডাকও পেয়েছেন গতি দিয়েই। নিয়মিত বল করতে পারেন ১৪০ এর কাছাকাছি। বিপিএলে ১৪০ এর বেশি গতিতে বল করেছেন নিয়মিতই। গতির সাথে লাইন লেংথও ছিল মনে ধরার মত। ২০ বছর বয়সী তরুণ এই পেসার পরিসংখ্যান বিবেচনায় হয়তো ছিলেন না উপরের দিকে তবে মূল শক্তি গতিকেই প্রাধান্য দিয়েছে নির্বাচকরা। সিলেট পর্বে খুলনা টাইগার্স ব্যাটসম্যান রাইলি রুশোকে আউট করা ডেলিভারিটি গতি, লেংথ, বাউন্সের মিশেলে বলটিতো টুর্নামেন্টে সেরা ডেলিভারির তালিকায় উপরের দিকেই থাকবে।

ফলে ১৩ ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়েও যথাক্রমে ১৮ ও ১৯ উইকেট নেওয়া মেহেদী হাসান রানা ও শহীদুল ইসলামকে পেছনে ফেলে জায়গা করে নেন হাসান মাহমুদ। বিপিএল চলাকালীনই হাসান মাহমুদের প্রশংসা করেছেন সতীর্থ পাকিস্তানি পেসার ওয়াহাব রিয়াজ, প্লাটুন বোলিং কোচ সৈয়দ রাসেল, ধারাভাষ্যকার ব্র্যাড হগ, খুলনা টাইগার্স পেসার মোহাম্মদ আমির। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু ও বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনও গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে হাসান মাহমুদের প্রশংসা করেছেন অনেকবার।

পাকিস্তান সফরে তাঁকে দলে ভেড়ানোর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু জনপ্রিয় ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকবাজকে বলেন, ‘হাসান এই মুহূর্তে আমাদের সবচেয়ে বেশি গতির বোলার। আর তার এই গতি দেখেই আমরা তাঁকে অন্তর্ভূক্ত করেছি। আমরা অনুভব করছি তাঁকে যদি সঠিক পরিচর্যা করা যায় ড্রেসিং রুমের পরিস্থিতি বোঝানোর মাধ্যমে তাহলে সে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপ সামলানোটা শিখতে পারবে।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

পাকিস্তান সফরের জন্য টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা

Read Next

ক্রিকইনফোর চোখে বঙ্গবন্ধু বিপিএলের সেরা একাদশ

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
13
Share
error: Content is protected !!