হাথুরুসিংহের কাছে যেকারণে কৃতজ্ঞ মুমিনুল

২০১৩ সালে ওয়ানডে ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক অভিষেক বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হকের। বিপিএলে তান্ডব চালিয়ে জানান দিয়েছেন বিষ্ফোরক ইনিংস খেলার সামর্থ্যও রাখেন। তবে সময়ের পরিক্রমায় রঙিন পোশাকে ধুলো জমেছে। মুমিনুল হয়ে গেছেন শুধুই টেস্ট খেলোয়াড়। দুর্দান্ত ফর্মে শুধু এক ফরম্যাটে খেলেও হয়ে যান নায়ক। ধারাবাহিক ব্যাটিং নৈপুণ্যে গায়ে ‘পকেট ডায়নামো’ ট্যাগও লেগে যায়। কেউ কেউ আবার বলে থাকে বাংলার লিটল মাস্টারও।

ক্যারিয়ারের প্রথম ১৪ টেস্টে গড় ৬০ এর বেশি। অথচ বাংলাদেশ ক্রিকেটের চিত্র বদলে দেওয়া কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের কাছে মুমিনুল যেন উপযুক্ত কেউ নন। রঙিন পোশাকে আগেই বাদ দিয়েছেন, টেস্টেও লড়াই করতে হত টিকে থাকতে, অস্বস্তিতে থাকা বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান পড়তি ফর্মে দলে জায়গাও হারিয়েছেন লঙ্কান এই কোচের অধীনে। ৬০ এর বেশি গড়ধারী মুমিনুলের গড় নেমেছে ৪০ এর নীচে।

বাংলাদেশ ক্রিকেটে হাথুরুসিংহে অধ্যায়ের অবসান হয়েছে, সাকিবের নিষেধাজ্ঞায় টেস্ট কাপ্তানের ভার উঠেছে মুমিনুলের কাঁধে। দুর্দান্ত টেস্ট ক্যারিয়ার শুরু করা এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরতে শুরু করেছেন।

ইতোমধ্যে দেশের সর্বোচ্চ টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান হিসেবেও নাম লিখিয়ে ফেলেছেন। তবে অভিযোগ নেই হাথুরুসিংহের বিরুদ্ধে বরং সংগ্রাম করতে শেখানোয় লঙ্কান এই কোচের প্রতি কৃতজ্ঞ। মুমিনুল বিশ্বাস করেন জীবনে যা হয় তা ভালোর জন্যই হয়।

বাংলাদেশের অনেক ব্যাটসম্যানেরই ব্যাটিং উন্নতিতে অবদান আছে হাথুরুসিংহের কিন্তু ঠিক কি কারণে তার অপছন্দের পাত্র ছিলেন মুমিনুল, জানেন না নিজেও,

ফাইল ছবি

‘এই মূহুর্তে এটা বলাটা খুব কঠিন। কারণ আমি নিজেও জানি না কেন। হয়তো একেক জনের ভিউ একেক রকম। ওর হয়তো মনে হয়েছিল আমার কোথাও দুর্বলতা আছে। আমি ওর কাছে কৃতজ্ঞ, কারণ মানুষ এমন একটা সিদ্ধান্তের কারণে অনেক সময় ভালো অবস্থানে চলে যায়। যেটা আমার ক্ষেত্রে হয়েছে। ভালো অবস্থানে বলতে আগের চেয়ে বেটার আল্লাহর রহমতে।’ ক্রিকফ্রেঞ্জির ফেসবুক লাইভ সেশনে বলেন মুমিনুল হক।

‘ওই সময় যদি ওই পরিস্থিতিটা তৈরি না হতো। তাহলে জিনিসটা আমি ওইভাবে নিতাম না। সিরিয়াসলি নিতাম না। এটা হওয়ার কারণে ওর কাছে অনেক কৃতজ্ঞ। আল্লাহ যা করে ভালোই করে। ওই জিনিসগুলো যখন হচ্ছিলো আমি পজিটিভলি নিয়েছিলাম।’

হাথুরুসিংহের অধীনে রঙিন পোশাকে একদমই অবহেলিত মুমিনুল হক তার বিদায়ের পরও খুব একটা সুযোগ পাননি ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টিতে। সবশেষ ওয়ানডে খেলেছেন ২০১৮ সালে, টি-টোয়েন্টি তারও চার বছর আগে। তবে এসবে আফসোস নেই ‘পকেট ডায়নামো’ খ্যাত এই ব্যাটসম্যানের, বিশ্বাস করেন যা ঘটে তা ভালোর জন্যই ঘটে।

‘আসলে একটু হতাশার মধ্যে ছিলাম (ওয়ানডে থেকে বাদ পড়ে)। খুব বেশি অবশ্য না তবে স্বাভাবিক যেটা হওয়ার কথা সেটা আরকি। তখন আমি চিন্তা করেছিলাম এটা আমার জন্য জীবন বদলে দেওয়া কোন ব্যাপার হতে পারে।’

‘আমার জীবনে আমি একটা জিনিস বিশ্বাস করি সত্যি কথা যে জীবনে যাই হবে ভালোর জন্য হবে। এটা আমার কৌশলগত উত্তর না, আমি আল্লাহর উপর অনেক বিশ্বাস করি। আমি বিশ্বাস করি আল্লাহ যা করে ভালো করে। আমি মনে করি হয়তো ওয়ানডে খেলছিনা কিন্তু ভবিষ্যতে আরও বড় কিছু অপেক্ষা করছে।’ যোগ করেন টাইগারদের টেস্ট অধিনায়ক।

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

পাকিস্তানের ক্যাম্পে কেন্দ্রীয় চুক্তির বাইরের ‘৯’ জন

Read Next

আইপিএল না হলেই বেশি ক্ষতি হবে ক্রিকেটের

Total
4
Share
error: Content is protected !!