স্বপ্ন পূরণের অপেক্ষায় তানজিদ হাসান তামিম

তানজিদ হাসান তামিম

মানুষ নাকি তার স্বপ্নের চেয়েও বড়। টাইগারদের বর্তমান ওয়ানডে অধিনায়ক তামিমের ব্যাটিংয়ে মুগ্ধ হয়ে ক্রিকেট নিয়ে স্বপ্ন দেখা শুরু বগুড়ার তানজিদ হাসান তামিমের। তামিম ইকবালের নামের সাথে ব্যাটিং ধরণ,পজিশন বেশ কিছু বিষয়ে মিল যুব বিশ্বকাপ জয়ী দলের এই ক্রিকেটারের।

ব্যাট হাতে ইতোমধ্যে অর্জন করেছেন আস্থা। বয়সভিত্তিকের পাশাপাশি ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ (ডিপিএল), প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট সব জায়গাতেই হেসেছে জুনিয়র তামিমের ব্যাট। যুব বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে তার দারুণ এক ইনিংসে ভর করে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ যুব দল।

বিশ্বকাপের পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে সেঞ্চুরি, বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে অভিষেকেই ইস্ট জোনের হয়ে ৮২ রানের ইনিংস। সবশেষ ডিপিএলে শাইনপুকুরের হয়ে একমাত্র ম্যাচে ফিফটি। ধারাবাহিকভাবে নিজেকে প্রমান করতে থাকা তামিমকে থামতে হয়েছে করোনার কারণে ক্রিকেট স্থগিত হওয়ায়।

তানজিদ হাসান তামিম
তানজিদ হাসান তামিম

গৃহবন্দী সময়ে মুঠোফোনে ‘ক্রিকেট৯৭’ কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন স্বপ্ন দেখেন তামিমের সাথে ওপেন করার। তার ক্রিকেট ক্যারিয়ারে খালেদ মাহমুদ সুজনের অবদান, পরিবারের সমর্থন, ক্রিকেটের পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া, দেশের বাইরে নিজের আদর্শসহ কথা বলেছেন বিভিন্ন প্রসঙ্গে। নিচে পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল সাক্ষাৎকারটি-

ক্রিকেট৯৭- করোনাকালে সময়টা কীভাবে কাটছে?

তানজিদ হাসান তামিম- আসলে একদমই বিরক্তিকর, বাসাতেই (বগুড়া) সময় কাটছে। মাঠে যাওয়া ছাড়া আর কতদিন থাকা যায়! কিন্তু দেশের করোনা পরিস্থিতিতো খারাপের দিকে আছে তাই এসব মেনে নিতে হবে। আপাতত বাইরে যাওয়ার কোন উপায় নেই। আমাদের পাশের বাসায়ও করোনা রোগী পাওয়া গেছে, আপাতত পুরো এলাকাই লকডাউন। বাসায় ফিটনেস নিয়ে যতটা কাজ করা যায় আরকি। আমাদের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ট্রেইনার রিচার্ড আছে, তার লাইভ সেশন চলে নিয়মিত। তার পরামর্শ মেনে যতটুকু নিজেকে ফিট রাখা যায় আরকি, সেই চেষ্টাই করছি।

ক্রিকেটে আসার গল্প

ক্রিকেট৯৭- ক্রিকেটে হাতেখড়ির গল্পটা শুনতে চাই।

তানজিদ হাসান তামিম- প্রাইমারিতে থাকতেই আমার ক্রিকেটের প্রতি অন্যরকম ভালোবাসা ছিল। বাড়ির সামনে একজন বড় ভাই ছিল সজল ভাই, উনি অনুশীলন করতো সারাদিন। বাসার সামনে একটা খোলা মাঠ ছিল, ওখানে উনি অনুশীলন করতো। বেশ ভালো ক্রিকেট খেলতো, বগুড়া জেলা দলে খেলেছে, রাজশাহী বিভাগীয় দলের হয়ে খেলেছে, ঢাকা লিগ খেলেছে। তো উনার কাছে যাওয়া প্রথমে, পড়াশোনার চাপ থাকায় চুরি করে যেতে হত। তো ক্রিকেটের বেসিকটা উনার কাছ থেকেই জানা।

ক্রিকেট৯৭- অন্য অনেকের মত আপনার ক্রিকেট শুরুটাও একই রকম ছিল, পরিবারের বাধা। যদিও বাবার অনিচ্ছার বাইরে মা আপনাকে অনেক সাহায্য করতো। ব্যাপারটি নিয়ে যদি কিছু বলতেন।

ক্রিকেট৯৭- আব্বু সরকারি চাকরি করতো। উনি আসলে চাইতো আমি পড়াশোনা করে ভালো কিছু হতে পারি। আমার ক্রিকেট প্রেমকে শুরুতে উনি খুব একটা পছন্দ করতেন না। কিন্তু আম্মু আমাকে সমর্থন দিয়েছেন। আব্বুকে বুঝিয়ে আমাকে রাজশাহীতে পাঠায়, ওখানে বাংলা ট্র্যাক ক্রিকেট একাডেমিতে অনুশীলন শুরু করি। ধীরে ধীরে বয়সভিত্তিক দলগুলোতে সুযোগ পেতে শুরু করলে আব্বুও সমর্থন দেয় আমাকে।

আল্লাহর রহমতে এখন পরিবার থেকে পুরোপুরি সমর্থন করে। আব্বু আম্মু খুবই সাহায্য করে। আমার ভালো সময় খারাপ সময় সবসময় পাশে থাকে। খারাপ সময় কীভাবে মানসিকভাবে ঠিক থাকতে হয় সেসব পরামর্শ দেয়। মানে আব্বু এখন আমার খেলাতে শতভাগ সমর্থন দেয়। দুজনে অনেক সাহায্য করে।

তামিমের জীবনে ‘তামিম ইফেক্ট’

ক্রিকেট৯৭- আপনার নাম, ব্যাটিং ধরণ, পজিশন সবই তামিম ইকবালের সঙ্গে মেলে। নিজের মধ্যে ভবিষ্যৎ তামিমের প্রতিচ্ছবি দেখতে পান?

তানজিদ হাসান তামিম- যখন খেলা শুরু করি তখন টিভিতে দেখতাম তামিম ভাই ব্যাটিং করছে। তামিম ইকবাল ব্যাটিং করছে এটা দেখেই আসলে আমার ক্রিকেটের প্রতি বাড়তি ভালোবাসা। তখন থেকেই আমার ক্রিকেট অনুশীলন। আমার মনে আছে বাঁহাতে একটু একটু ব্যাটিং করতে পারতাম। তো সজল ভাই আমাকে বলছে যে তুই বাঁহাতি ব্যাটিংই শিখ তাহলে দাম পাবি। তারপর দেখলাম তামিম ভাই বাঁহাতে ব্যাটিং করে। সেখান থেকেই একটা ইচ্ছে ছিল যদি কখনো ভালো পজিশনে যেতে পারি তামিম ভাইয়ের সাথে ওপেন করলেও করতে পারি। তো ছোট থেকেই ইচ্ছেটা ছিল ভবিষ্যতে ইন শা আল্লাহ স্বপ্নটা পূরণ হবে আশা করি।

ক্রিকেট৯৭- তানজিদ হাসান তামিমও যখন কোথাও ভালো করে গণমাধ্যমে লেখা হয় তামিমের ব্যাটিংয়ে দলের জয় বা এরকম কিছু। ব্যাপারটি কতটা উপভোগ করেন?

তানজিদ হাসান তামিম- সত্যি কথা বলতে এখন একটু হলেও উপভোগ করি। আমার মূল লক্ষ্য হচ্ছে ওনার সাথে ওপেন করা। যেদিন দুজন একসাথে ওপেন করতে পারবো সেদিন স্বার্থক হবে আমার সবকিছু। তখন বেশি উপভোগ করবো আরকি।

ক্রিকেট৯৭- তামিম ইকবালের সাথে ব্যক্তিগতভাবে কথা হয়েছে কখনো? কোন পরামর্শ কি এখনো পর্যন্ত নিয়েছেন তার কাছ থেকে?

তানজিদ হাসান তামিম- না এখনো হয়নাই (তামিম ইকবালের সঙ্গে কথা)। কিন্তু তামিম ভাই যখন একাডেমি মাঠে অনুশীলন করেন আমরাও যদি তখন একাডেমিতে থাকি সবসময় আমি ওনার ব্যাটিং দেখি উপর থেকে। আবার অনেক সময় নিচে নেমে দেখতাম ভাইয়ার ব্যাটিং। কিন্তু এখনো সেই সাহসটা হয়নি যে সামনে গিয়ে কথা বলবো।

ক্রিকেট৯৭- নিজের ব্যাটিং আদর্শ হিসেবে দেশের বাইরে কাকে অনুসরণ করেন?

তানজিদ হাসান তামিম- দেশের বাইরে আমি কুমার সাঙ্গাকারাকে অনুসরণ করি।

ক্রিকেটের পাশাপাশি পড়াশোনা

ক্রিকেট ৯৭- ব্যাটিং এর মত পড়াশোনায়ও আপনি দুর্দান্ত। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে পেয়েছেন জিপিএ-৫। স্নাতক করছেন ‘আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ’ এ (ইংরেজি বিভাগে)। আমাদের সংস্কৃতিতে ক্রিকেট ও পড়াশোনা দুটোই ভালোভাবে চালিয়ে নেওয়া কঠিন। কীভাবে করছেন?

তানজিদ হাসান তামিম- এটা আসলে নিজেদের উপর। আমরা আসলে ছোট থেকে দেখে আসছি মানে আমাদের পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ডটাই এমন যে পড়াশোনা করে ভালো একটা পর্যায়ে গেছে। তো ওখান থেকে আসলে সেভাবে গড়ে ওঠা। আমার আব্বু আম্মুরও ইচ্ছে আমি যেখানেই থাকিনা কেন পড়াশোনাটা যেন আমি চালিয়ে যাই এবং ঠিকভাবে শেষ করতে পারি।

ক্রিকেট৯৭- এ ক্ষেত্রে মুশফিকুর রহিম হতে পারে বাকিদের জন্য উদাহরণ। দেশের হয়ে ১৫ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। স্নাতকোত্তর শেষে এম ফিল করছেন। ইচ্ছে আছে পিএইচডি করার। আপনারও কি এমন কোন লক্ষ্য আছে?

তানজিদ হাসান তামিম- মুশফিক ভাইতো আমাদের জন্য সবদিক থেকেই আদর্শ। আমাদের সংস্কৃতিতে আসলে এক পর্যায়ে দুটো একসাথে চালিয়ে যাওয়া খুব একটা সহজ নয়। কিন্তু মুশফিক ভাই সেটাও দেখিয়েছেন যে ক্রিকেটের পাশাপাশি চাইলে পড়াশোনাটাও চালিয়ে নেওয়া যায়। এতটাই ট্যালেন্টেড উনি, পড়াশোনা শেষ করেছে। এখন পিএইচডি (এম ফিল) করছে। তো আমারও ইচ্ছে আছে খেলাধুলার পাশাপাশি পড়াশোনাটা শেষ করবো ইন শা আল্লাহ। আল্লাহর রহমতে এখনও পর্যন্ত ভালো যাচ্ছে।

খালেদ মাহমুদ সুজনের ভূমিকা

ক্রিকেট৯৭- বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্টের প্রধান খালেদ মাহমুদ সুজন আপনাকে নিয়ে বেশ আশাবাদী। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন আপনি যদি জাতীয় দলে খেলতে না পারেন তাহলে খুব অবাক হবেন উনি। তার কাছ থেকে পাওয়া এমন প্রশংসাকে কীভাবে দেখেন?

তানজিদ হাসান তামিম- সত্যি এটা সৌভাগ্যের বিষয়। সুজন স্যারের সাথে আমার প্রথম দেখা হয় বাংলা ট্র্যাক ক্রিকেট একাডেমিতে। আমি যখন বাংলা ট্র্যাকে অনুশীলন করতে যাই (বাংলা ট্র্যাকের প্রধান কোচ সুজন)। তখন অনূর্ধ্ব-১৮ বিভাগ খেলা শেষ, ঢাকা লিগ খেলার আগে। আমি স্যারের কাছ থেকে অনেক টিপস নিতাম, স্যারকে বলতাম এটা সমস্যা, ওটা সমস্যা। মানে সবকিছু শেয়ার করতাম। তারপর একাডেমিতে ভালো করার পর উনি আমাকে সুযোগ দিলেন ঢাকা প্রথম বিভাগে, উত্তরার হয়ে খেলেছি। আমি কিন্তু ঢাকার ক্রিকেটে দ্বিতীয় বিভাগ, তৃতীয় বিভাগ খেলিনি, সরাসরি প্রথম বিভাগে। আর সেবারই সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়েছি। স্যারের কাছে ভালো লাগছে যে সুযোগ পেয়ে প্রথম বারই এমন পারফরম্যান্স করতে পেরেছি।

ক্রিকেট৯৭- আপনাকে আলাদা করে কিছু বলেছে কাজ করার সময়টাতে?

তানজিদ হাসান তামিম- অনূর্ধ্ব-১৯ এ যখন সুযোগ আসলো আমি স্যারের সাথে শেয়ার করতাম সবকিছু। আমার কোন সমস্যা হলে স্যারই দেখতেন সেটা। মানে তার সাথে এত কাছে থেকে কাজ করা সত্যি সৌভাগ্যের। স্যার আমাকে একটা কথাই বলছে যখন যেখানে সুযোগ পাবি অবশ্যই কাজে লাগানোর চেষ্টা করবি। কারণ পরে সুযোগ নাও আসতে পারে, তোর পেছনে অনেক খেলোয়াড় আছে। নিজে ভালো না করলে তারাই জায়গা নিয়ে নিবে। স্যার আমাকে যেভাবে উৎসাহ দিত, পরামর্শ দিত সেভাবে চলার চেষ্টা করতেছি। বাকিটুকু উপরওয়ালার ইচ্ছে।

ক্রিকেট৯৭- জাতীয় দলের অনেক ক্রিকেটারই বল থাকেন খালেদ মাহমুদ সুজন তাদের অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। আজকের অবস্থানে আসার পেছনে তার অবদান অনেক। আপনার সাথেও উনি কাজ করেছে, আসলে কীভাবে ক্রিকেটারদের অনুপ্রেরণা দেন উনি?

তানজিদ হাসান তামিম- অনেক অনুপ্রেরণামূলক কথা বলে। উনার কথাগুলো শুনলে ভেতর থেকে একটা কিছু কাজ করে। জিনিসটা হল এমন মানে একটা ভালো ক্রিকেটার হতে গেলে কি কি গুণ থাকতে হবে, কি ধরণের পরিকল্পনা থাকা উচিৎ এসব নিয়ে কথা বলেন। কীভাবে নিয়ম শৃঙ্খলার মধ্যে থাকতে হবে, উনাদের সময়টা কেমন ছিল, কীভাবে তারা চাপ সামলেছেন এসব আমাদের সাথে শেয়ার করে। আগের খেলা আর এখনকার মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরে। এখন কোন কোন জিনিস বাড়তি করতে হয় এসব জানায়। উনিতো অনেক বড় বড় ক্রিকেটারের সাথেও কাজ করেছেন। তাদের সাথে কাজের অভিজ্ঞতাও আমাদের শেয়ার করেন।

পারফরম্যান্স ও লক্ষ্য 

 

ক্রিকেট৯৭- যুব বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলা ৮০ রানের ইনিংসটিকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

তানজিদ হাসান তামিম
© ICC via Getty Images

তানজিদ হাসান তামিম- এরকম কয়েকটা ইনিংস আছে। তবে বিশ্বকাপের মত মঞ্চে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৮০ রানের একটা ইনিংস খেলেছি। ঐ ইনিংসটা খেলার পর আসলে মনে হয়েছে যে, দলের জন্য কিছু করেছি আবার নিজেও মজা পেয়েছি। তৃপ্তি পেয়েছি যেটা আসলে একজন ব্যাটসম্যান সাধারণত চায়।

ক্রিকেট৯৭- বিশ্বকাপের পরই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে ডাক পেলেন, ৭ নম্বর পজিশনে নেমেই সেঞ্চুরি। সিনিয়র লেভেলের ক্রিকেটে পার্থক্যটা কেমন টের পেলেন?

তানজিদ হাসান তামিম- অবশ্যই পার্থক্য আছে। দেখেন আমরা যখন বিশ্বকাপ জিতে দেশে আসি তখন একটা ভালো শেপে ছিলাম। মানে সবার আত্ববিশ্বাসটা অনেক উপরে ছিল। আর ঐ সময়ই একটা জাতীয় দলের বিপক্ষে খেলাটা সৌভাগ্যের। কারণ সবসময় এমন সুযোগ পাওয়া যায়না। যখন সুযোগটা পেয়েছি ম্যাচের দিন কিছুটা মন খারাপ ছিল যেহেতু আমি ওপেনার কিন্তু খেলতে হয়েছে ৭ নম্বরে। তাও যখন ব্যাটিংয়ে যাই দলের অবস্থাও খারাপ ছিল (৬৯ রানে ৫ উইকেট) । আল আমিন ভাই (আল আমিন জুনিয়র) ছিল ব্যাটিংয়ে। উনি অনেক সাহায্য করছে, আমিতো আসলে ৭ নম্বরে খেলে অভ্যস্ত না। ঐ পজিশনে কীভাবে সামলাবো অভিজ্ঞতা ছিলনা।

জিম্বাবুয়ের একটা জিনিস লক্ষ্য করেছি, বুঝতে পেরেছি সিনিয়র লেভেলে মাইন্ড সেট কতটা জরুরী। কয়েকটা বল খেলার পরই ওরা বুঝে যায় কোনটা স্ট্রং জোন কোনটা উইক জোন। সেভাবে বোলাররা প্ল্যান করে, ফিল্ডিং সাজায়। সে হিসেবে বড়দের দেখে অনেক কিছু শেখার চেষ্টা করেছি যে সিনিয়র লেভেল ও বয়স ভিত্তিকের পার্থক্য। কিন্তু আমি বাড়তি চাপ নিইনি, নিজে স্বাভাবিক থেকেছি। আল্লাহর রহমতে ৭ নম্বরে নেমেও সেঞ্চুরি পেয়েছি (১২৫*)।

ক্রিকেট৯৭- বিশ্বকাপের পর প্রস্তুতি ম্যাচ, বিসিএল হয়ে ঢাকা লিগের একমাত্র ম্যাচ দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন। ঢাকা লিগের শুরুটাও হয়েছে ফিফটি দিয়ে। এবারের লিগে বাড়তি কোন লক্ষ্য ঠিক করেছিলেন?

তানজিদ হাসান তামিম- লক্ষ্য তো সবারই থাকে। তবে আমার আলাদা করে কোন লক্ষ্য সেভাবে ছিলনা। আমি যখন প্রিমিয়ার লিগ শুরু করি, আমার ইচ্ছে ছিল গেম বাই গেম ভালো করবো। আমার কোন লক্ষ্য ছিলনা যে ৭-৮ টা ফিফটি মারবো, দুই-তিন টা সেঞ্চুরি মারবো। শুধু প্রিমিয়ার লিগ না যেকোন লেভেলে আমি চিন্তা করি গেম বাই গেম ভালো করার। আমার শুধু একটাই লক্ষ্য ছিল যে ম্যাচটাই খেলবো নিজের সেরাটা দিব, ভালো কিছু করার চেষ্টা করবো।

নাজমুল হাসান তারেক

Read Previous

ওয়াহাব রিয়াজের অলটাইম পিএসএল একাদশ

Read Next

না ফেরার দেশে রামচাঁদ গোয়ালা

Total
22
Share
error: Content is protected !!