সিলেটের উইকেটের হঠাৎ পেসার প্রীতি!

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের অভিষেক টেস্টে বাংলাদেশ দল মাঠে নেমেছে সফরকারী জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। সেখানে স্পিননির্ভর বাংলাদেশ দলে সবেধন নীলমণি পেসার সিলেটের ছেলে আবু জায়েদ চৌধুরী রাহি। এক পেসার নিয়ে মাঠে নামার মতো নেতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা হয়েছে বিস্তর। তবে কন্ডিশন বিবেচনায়, স্পিনিং ট্র্যাক বিবেচনা পক্ষে ছিল টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্তের।

জিম্বাবুয়ে প্রথম ইনিংসে ব্যাট করেছে ১১৭ ওভার ৩ বল। যেখানে আবু জায়েদ রাহি বল করেছেন মোটে ২১ ওভার। মিডিয়াম পেসে আরিফুল হকের করা ৪ ওভার বাদ দিলে বাকি ওভার গুলো করেছেন স্পিনাররা। আবু জায়েদ বোলিং শুরু করলেও দ্বিতীয় ওভারে বোলিংয়ে আসতে হয়েছিল তাইজুল ইসলামকে। ২১ ওভার বল করে আবু জায়েদ রাহি উইকেট পেয়েছেন ১ টি। বাকি ৯ উইকেট ভাগ করে নিয়েছেন তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজ ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানরা কাবু হয়েছে বাংলাদেশের স্পিনারে

প্রথম দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে আসা রাহি বলেছিলেন, ‘ম্যানেজমেন্ট ভাল বুঝতে পেরেছে উইকেটটাতে আসলে ভাল পেস বোলিং হবে না। বেশ কিছু দিন থেকে কিন্তু সিলেটের উইকেট নিয়ে দ্বিধা ছিল কি হবে না হবে এটা নিয়ে। ২০১৩-১৪ তে সিলেটের উইকেট অনেক বাউন্সি ছিল। দুই বছর ধরে এমন হয়ে গেছে। এবার জাতীয় লিগেও আমরা তিন পেসার নিয়ে খেলেছি। দুই পেসার সাত, সাত ওভার করে সর্বমোট ১৪ ওভার বল করেছে। কাজেই আমার মনে হয় টিম ম্যানেজমেন্ট যা ভাল মনে করছে সেটাই করছে।’

প্রথম দিন পর্যন্ত ঠিকই ছিল, কিংবা সময়টা দ্বিতীয় দিনে জিম্বাবুয়ের অল আউট হওয়া পর্যন্ত লম্বা করে নিতে পারে টিম ম্যানেজমেন্ট নিজেদের সন্তুষ্টির জন্য। এরপরে যা হলো তাতে টিম ম্যানেজমেন্টের মুখ লোকানোর যোগাড়।

প্রথম স্পেলে ৩ উইকেট নিয়ে টাইগারদের বিপাকে ফেলেছেন টেন্ডাই চাতারা

জিম্বাবুয়ের দুই পেসার কাইল জার্ভিস প্রথম স্পেলে বল করলেন ৭ ওভার, অপর প্রান্ত থেকে প্রথম স্পেলে টেন্ডাই চাতারা করলেন ৬ ওভার। ১৩ ওভারে দুজন মিলে রান দেন মাত্র ২০, বিনিময়ে উইকেট তুলে নেন ৪ টি! একে একে বিদায় নেন ইমরুল কায়েস, লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ৯ রান খরচে ৩ উইকেট চাতারার, ১১ রান খরচে লিটনের উইকেট জার্ভিসের।

প্রশ্ন আসতে পারে, হঠাৎ করেই কি পেস ফ্রেন্ডলি উইকেট হয়ে গেলো সিলেটের উইকেট? আসলে তেমনটি হয়নি, দুই প্রান্ত থেকেই নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছেন জিম্বাবুয়ের দুই পেসার। আর তাতেই খেই হারিয়েছে টাইগার টপ অর্ডার। পেসারদের সামলে নিলেও সিকান্দার রাজার স্পিনে সাজঘরে ফিরেছেন মুমিনুল হকও। জিম্বাবুয়ের প্রথম ইনিংসে করা ২৮২ রান এখন মনে হচ্ছে অনেক দূরের পথ।

শিহাব আহসান খান

Read Previous

তাইজুলের দাপুটে বোলিংয়ে লাঞ্চের আগেই শেষ জিম্বাবুয়ে

Read Next

অভিষেকে লড়লেন আরিফুল, পাশে পেলেন না কাউকে

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।