রিয়াজ আফ্রিদির উদ্ভট এক আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার

রিয়াজ আফ্রিদির উদ্ভট এক আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার

পাকিস্তানের রিয়াজ আফ্রিদি এই নামটা অচেনা। কারণ, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের সামর্থ্য জানান দেওয়ার আগেই যে তার ইতি টানতে হয়। পাকিস্তানের জার্সিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন নামমাত্র, ১টি মাত্র টেস্ট।

অথচ ২০০৪ যুব বিশ্বকাপে যথেষ্ট আলো ছড়িয়েছিলেন এই বোলিং অলরাউন্ডার। আর তাতেই টেস্ট স্কোয়াডে নাম, অভিষেক ম্যাচেই সাঙ্গাকারা, জয়াবর্ধনের উইকেট। কিন্তু তার যেন শুরুর আগেই শেষ। নানান কারণে রিয়াজ আফ্রিদি পাকিস্তান ক্রিকেটে হয়ে যান বিস্মৃত,অচেনা।

পাকিস্তানের রিয়াজ আফ্রিদি ২০০৪ যুব বিশ্বকাপে ছিলেন দ্বিতীয় সেরা উইকেটশিকারী (৮ ম্যাচে ১৯ উইকেট)। দেশের ঘরোয়া ক্রিকেট ও অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের সুবাদে ১৯ বছর বয়সেই রিয়াজ আফ্রিদি পাকিস্তান টেস্ট দলে সুযোগ পান।

করাচি টেস্টের প্রথম ইনিংসেই রিয়াজ লঙ্কান কুমার সাঙ্গাকারা ও মাহেলা জয়াবর্ধনের উইকেট তুলে নেন। দারুণ ভাবেই নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন রিয়াজ আফ্রিদি।

সত্যিকারের বোলিং অলরাউন্ডার আফ্রিদি অভিষেকে ২ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ালেও তা সুখকর হলো না বেশিদিন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলা এই টেস্টই রিয়াজ আফ্রিদির পাকিস্তান জার্সিতে প্রথম ও শেষ টেস্ট।

এরপর বোলিং অ্যাকশনের জন্য তাকে সন্দেহ করা হয়। ইনজুরির শিকার হন, আর এসবই রিয়াজ আফ্রিদির ক্যারিয়ারকে দুর্বিষহ করে দিয়েছে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডও পরবর্তীকালে তাকে উপেক্ষা করেছিল।

রিয়াজ আফ্রিদি ২০০৭ সালে ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লিগে (আইসিএল) যোগ দিয়েছিলেন এবং এই ইস্যুতেই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড তাকে নিষিদ্ধ করেছিল। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পরেও রিয়াজ আবার ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরেছেন। ঘরোয়া পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে দুর্দান্ত পারফর্ম্যান্স করছিলেন। দুর্ভাগ্যক্রমে রিয়াজের পক্ষে, জাতীয় দলের একাদশে নিজের নাম পুনরুদ্ধার করা হয়নি। উদ্ভট এক আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার রিয়াজ আফ্রিদির সঙ্গী।

নিজের খেলা শেষ প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেন রিয়াজ ২০১৩ তে ২৮ বছর বয়সে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ২৪.৬০ গড়ে সর্বমোট ৩২৮ উইকেট শিকার করে নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ইতি টানেন রিয়াজ আফ্রিদি।

জাতীয় দলে দুই বছর আগে অভিষেক ঘটেছে রিয়াজ আফ্রিদির ছোট ভাই শাহীন শাহ আফ্রিদির। এর মধ্যে তরুণ পেসার হিসেবে নিজের জাত চিনিয়েছেন। পাকিস্তানের হয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলেছেন ২০১৮ সালে। আসরে পাকিস্তানের হয়ে সবচেয়ে বেশি উইকেট শিকার করেছেন। এক ইনিংসে ১৫ রানের বিনিময়ে ছয় উইকেটসহ পাঁচ ম্যাচে ১৪.৫৮ বোলিং গড়ে ১২ উইকেট শিকার করেছিলেন তিনি।

২০১৮ সালের এপ্রিলেই পাকিস্তানের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে শাহিন শাহ আফ্রিদির। ইতোমধ্যে খেলেছেন ১১ টেস্ট, ১৯ ওয়ানডে এবং ১৫ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। তিন টেস্টে ৩৫ উইকেট, ওয়ানডেতে ৪০ উইকেট ও টি-টোয়েন্টিতে ১৮ উইকেট (৩ ফরম্যাট মিলিয়ে সর্বমোট ৯৩ উইকেট) শিকার করে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়েছেন রিয়াজ আফ্রিদির ১৫ বছরের ছোট শাহীন আফ্রিদি। বড় ভাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের গল্প রচনা না করতে পারলেও শাহিন আফ্রিদি বড় মঞ্চ মাতিয়ে যাচ্ছেন নিয়মিত।

রাকিবুল হাসান

Read Previous

ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে এপিএল আয়োজনের ভাবনায় আফগান বোর্ড

Read Next

বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপ: সরাসরি ফেসবুকে, ধারাবিবরণী বেতারে

Total
47
Share
error: Content is protected !!