মুশফিকুর রহিম: বিস্ময় বালক থেকে মিস্টার ডিপেন্ডেবল

মুশফিকুর রহিম

Yes hand’s in the air, it’s gone through. What an innings! What a day for Bangladeshi cricket. Is it their biggest moment yet ?

কমেন্ট্রিবক্সে ইয়ান বিশপের জোরালো আওয়াজ, ততক্ষণে নিশ্চিত হয়েছে ক্রিকেটের বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ক্রিকেট  ইতিহাসের অন্যতম সেরা জয়। ৪৮তম ওভারের তৃতীয় বল, মুনাফ প্যাটেলের ফুল লেন্থের ডেলিভারিতে কাভার ড্রাইভে চার মারলেন মুশফিক। ব্যাট হাতে অপরাজিত ৫৬ রানে শিরোপা প্রত্যাশী ভারতের বিপক্ষে ২০০৭ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দলকে জয় এনে দেন মুশফিকুর রহিম। দেশের অন্যতম সেরা উইকেট রক্ষককে বাদ দিয়ে বিশ্বকাপে তাকে জায়গা দেওয়ার প্রতিদান দিলেন দলের সর্বোচ্চ স্কোরার হয়ে।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের মোড় বদলের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ১৩ বছর আগের সেই ম্যাচ। বল হাতে ট্রেড মার্ক ইনসুইংয়ে বীরেন্দর শেবাগের স্টাম্প উপড়ে ফেলাসহ ম্যাচ ৪ উইকেট মাশরাফির, লক্ষ্য তাড়ায় কিশোর তামিমের ডাউন দ্যা ট্র্যাকে এসে জহির খানকে হাঁকানো ছক্কার সাথে ফিফটি।তবে সব ছাপিয়ে ফিফটি তুলে নেওয়া মুশফিকের ব্যাট থেকেই আসে জয়সূচক রান। সময়ের পালা বদলে হাঁটি হাঁটি পায়ে এগোতে থাকা বাংলাদেশ এখন পরিণত, প্রতিপক্ষের চোখে চোখ রেখে কথা বলতে শিখেছে, জয়ের ক্ষুধা হয়েছে তীব্র।
দলের পাশাপাশি মুশফিকুর রহিম নামের একজন পরিবর্তন এনেছেন নিজের মধ্যেও। দলের অন্যতম ব্যাটিং ভরসা, টাইগারদের পাঁচ স্তম্ভের একজন বলা হয় তাকে। গ্যালারি ভর্তি দর্শক যার ব্যাটিংয়ে ফিরে পায় হারানো বিশ্বাস, তিনিই মুশফিকুর রহিম। নির্ভরতার প্রতীক বলে গায়ে লেগেছে মিঃ ডিপেন্ডেবল তকমা।

শুরুর গল্পটা একটু ভিন্ন এবং ব্যাট হাতে সাদামাটা। খালেদ মাসুদ পাইলট যখন দলের নিয়মিত উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান, তখন অন্য কোন কিপারের দলে অন্তর্ভূক্তির কথা ভাবাই যেতোনা। ২০০৫ ইংল্যান্ড সফরে টেস্ট স্কোয়াডে ব্যাটসম্যান হিসেবে ডাক পান মুশফিক। ইংল্যান্ডের বৈরী পরিবেশ ও পেস আক্রমণের বিপক্ষে দুই প্রস্তুতি ম্যাচে সাসেক্সের বিপক্ষে ৬৩ এবং নর্দাম্পটনশায়ারের বিপক্ষে অপরাজিত ১১৫ রানের ইনিংস মুশফিকের। এতি জায়গা নিশ্চিত হয় প্রথম টেস্টের একাদশে। অভিষেক টেস্টে ব্যাট হাতে খুব একটা সুবিধা করতে না পারলেও স্মৃতিটা বেশ রোমাঞ্চ জাগানিয়া বটে।

ক্রিকেটের মক্কা খ্যাত লর্ডসে সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে মাত্র ১৬ বছর বয়সে সাদা পোশাকে মাঠে নামেন মুশফিকুর রহিম। এত অল্প বয়সে তার আগে লর্ডসে কোনো টেস্ট খেলোয়াড় টেস্ট খেলেনি। প্রথম ইনিংসে তিন অঙ্ক ছোঁয়া তিন টাইগার ব্যাটসম্যানের একজন ছিলেন তিনি।  প্রথম ইনিংসে ১৯ রান করা মুশফিক দ্বিতীয় ইনিংসে করেন মাত্র ৩ রান।

জাতীয় দলে অভিষেক হয়ে গেলেও ২০০৬ সালে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেন। তার নেতৃত্বে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছায় টাইগার যুবারা। ঐ বছরই জাতীয় দলের হয়ে রঙিন পোশাকে জিম্বাবুয়ের মাটিতে অভিষেক। রঙিন পোশাকে প্রথম চার ম্যাচে মাত্র একবার ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়ে ব্যাট হাতে ১৮ রান করে অপরাজিত থাকেন। ২০০৭ সালে হারারে স্পোর্টস গ্রাউন্ডে ওডিআই ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি তুলে নেন মুশফিক। এরপরতো জায়গা পান স্বপ্নের বিশ্বকাপ স্কোয়াডেও। ২০০৭ বিশ্বকাপে একমাত্র উইকেট রক্ষক হিসেবে ওয়েষ্ট-ইন্ডিজে পাড়ি জমান মুশফিক। তাকে জায়গা দিতে বাদ পড়তে হয় অভিজ্ঞ খালেদ মাসুদ পাইলটকে।

প্রথম ম্যাচেই ভারতের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ে তুলে নেন ফিফটি। এরপর টুর্নামেন্টে আর হাসেনি মুশফিকের ব্যাট। দলে তার টিকে থাকা নিয়ে জাগে সংশয়। বিশ্বকাপ পরবর্তী  তিন সিরিজ দলে টিকে গেলেও পারফরম্যান্স দিয়ে সন্তুষ্ট করতে ব্যর্থ আজকের এই তারকা ব্যাটসম্যান। ২০০৮ সালে পাকিস্তান সফরের বাদ পড়েন। তার স্থলাভিষিক্ত হন ধীমান ঘোষ। তবে ধীমানও ব্যর্থ হওয়ায় ঐ বছরই পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপে ফের ডাক পান মুশফিক। জায়গা পাকা করার মত পারফরম্যান্স না করলেও নির্বাচকরা আস্থা হারাননি। ২০০৯ সালে জিম্বাবুয়ের মাটিতে প্রথমবারের মত ওপেন করতে নেমে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি বঞ্চিত হন ২ রানের জন্য।

অনেকটা গড়পড়তা পারফরম্যান্সেই কেটে যায় উইকেট রক্ষক এই ব্যাটসম্যানের ক্যারিয়ারের প্রথম ৫ বছর। দেখা মেলেনি কোন আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরির। মুশফিকের সাদা ও রঙিন পোশাকে ক্যারিয়ারের প্রথম দুই শতক দলের পরাজয় ঠেকাতে পারেনি। ২০১০ সালে ভারতের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে মুশফিকের ১০১ এবং ২০১১ সালে বিশ্বকাপ পরবর্তী জিম্বাবুয়ে সফরেও সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার আগে করেন ১০১ রান। ঘরের মাঠে ২০১১ বিশ্বকাপেও খুব একটা উজ্জ্বল ছিলনা তার পারফরম্যান্স৷ ৬ ম্যাচে ১৬.২০ গড়ে রান ৮১।  যদিও বিশ্বকাপের আগে বেশ ভালোই ছন্দে ছিলেন। বিশ্বকাপের পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ হারের পর সাকিব কে সরিয়ে দলের অধিনায়কত্ব উঠে তার কাঁধে।

তার নেতৃত্বেই প্রথমবারের মত এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠে বাংলাদেশ, পাকিস্তানের বিপক্ষে ২ রানে হেরে শিরোপা বঞ্চিত হওয়া এখনো পোড়ায় কোটি ভক্তকে। টুর্নামেন্টে ভারতের বিপক্ষে ২৫ বলে অপরাজিত ৪৬ রানের ঝড়ো ইনিংসে মুশফিক সামর্থ্যের জানান দেন নতুনভাবে। ঐ টুর্নামেন্টে শিরোপা ঘরে না উঠলেও বাংলাদেশও বড় কিছু করতে পারে সেটার আরও একবার প্রমাণ মিলে। বছরের শেষদিকে ঘরের মাঠে ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতে বাংলাদেশ। ৫ ম্যাচে ৫১ গড়ে ২০৪ রান করে সিরিজ সেরা অধিনায়ক মুশফিক। ২০১৩ সালের মার্চে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গল টেস্টে হাঁকান প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরি।

একই বছর নিউজিল্যান্ডকে দ্বিতীয় দফায় বাংলা ওয়াশের স্বাদ উপহার দেয় টাইগাররা। যদিও তার আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ হারে নিজে থেকেই অধিনায়কত্ব ছাড়তে চান মিঃ ডিপেন্ডেবল। আস্থা হারায়নি বিসিবি, মুশফিকের কাঁধেই থাকে লাল-সবজের প্রতিনিধিত্বকারীদের দায়িত্ব। ২০১৪ সাল বাংলাদেশ ক্রিকেটের পার করা সবচেয়ে বাজে সময়। হারতে হারতে ক্লান্ত টাইগার শিবির, বেশ কয়েকটি ম্যাচে তিরে এসে ডুবেছে তরীও। দলের বাজে পারফরম্যান্সের বিপরীতে মুশফিক ছিলে ব্যাট হাতে দারুণ উজ্জ্বল।

সমালোচনায় জর্জরিত মুশফিকের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয় অধিনায়কত্ব। রঙিন পোশাকে টাইগারদের সামলে নেওয়ার দায়িত্ব পান দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সফল অধিনায়ক হিসেবে দিন কয়েক আগেই অধিনায়কত্ব ছাড়া মাশরাফি বিন মর্তুজা। যদিও টেস্টের দায়িত্বে বহাল ছিলেন মুশফিকই। ২০১৭ সালে টেস্ট অধিনায়কত্ব ছাড়া মুশফিকই বাংলাদেশের সফলতম টেস্ট কাপ্তান, তার হাত ধরেই এসেছে ৭টি জয়। তার অধীনেই ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার মত দলকে হারানো, নিজেদের শততম টেস্ট ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে তাদের মাটিতেই হারানো অন্যতম সফলতা।

ব্যাট হাতে ফর্মের তুঙ্গে থাকা মুশফিকের কাছে ২০১৫ বিশ্বকাপে ভক্তদের প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী। ভক্তদের আশা ও আস্থার প্রতিদান দিতে ভুল করেননি তিনি। ৬ ম্যাচে তিন ফিফটিতে ৪৯.৬৭ গড়ে ২৯৮ রান করেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল। বিশ্বকাপের পর দেশে ফিরে মাশরাফির নেতৃত্বে একের পর এক সিরিজ জেতে বাংলাদেশ। পাকিস্তান, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথমবারের মত সিরিজে জয়। তিন সিরিজেই ব্যাট হাতে প্রতিপক্ষ বোলারদের শাসন করেছেন মুশফিক। প্রতিপক্ষ স্পিনারদের দিশেহারা করেছিলেন স্লগ সুইপে বাউন্ডারি ছাড়া করে। রঙিন পোশাকে ঐ বছর দুই সেঞ্চুরি মুশফিকের।

অনেকটা গড়পড়তা ব্যাটিং গোরে মুশফিক নিজেকে ভিন্ন রূপে চেনাতে শুরু করেন ২০১২ সাল থকেই। ব্যাটিং গড় ৩০ এর নীচে থাকলেও নিয়মিত বিরতিতে মুশফিক পারফরম্যান্স দিয়ে তাক লাগাতে শুরু করেন। ধীরেধীরে উন্নতি ঘটে তার ব্যাটিং গড়েও। ২০১৬ টি-২০ বিশ্বকাপে ক্রিকেট ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় শিক্ষালাভ করেন মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ। ব্যাঙ্গালোরে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ জিততে শেষ ৩ বলে ২ রান প্রয়োজন ছিলো। বড় শট দিয়ে ম্যাচ শেষ করতে গিয়ে পরপর দু বলে সাজঘরে ফেরেন দুজন। নিশ্চিত জয়ের পথে থাকা বাংলাদেশ  মাঠ ছাড়ে ১ রানের আক্ষেপ নিয়ে।

২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ড সফরে টেস্টে সাকিবের সাথে ৫ম উইকেটে ৩৫৯ রানের রেকর্ড জুটি গড়েন মুশফিক। সাকিবের ডাবল সেঞ্চুরির পাশাপাশি মুশফিক করেন ১৫৯ রান। একই বছর প্রথমবারের মত ভারতের মাটিতে টেস্ট খেলতে যায় বাংলাদেশ। হায়দ্রাবাদে একমাত্র টেস্টে ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি তুলে নেন ভারতীয়দের বিপক্ষে। বছরজুড়েই মুশফিকের ব্যাটে রানের ফোয়ারা ছুটে। আয়ারল্যান্ডে ত্রি-দেশীয় সিরিজ, চ্যাম্পিয়নস ট্রফি, দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজেও ব্যাট হাতে সমান উজ্জ্বল ছিলেন মুশফিক। আফ্রিকার মাটিতে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে শতকও হাঁকিয়েছিলেন।

২০১৮ সালে ত্রিদেশীয় সিরিজ, নিদাহাস ট্রফি, উইন্ডিজদের বিপক্ষে সিরিজ, এশিয়া কাপ, জিম্বাবুয়ে সিরিজ কোনোটিতেই ভক্তদের হতাশ করেননি মুশফিক। নিদাহাস ট্রফিতে তার অপরাজিত ৩৬ বলে ৭২ রানের ইনিংসে টি-২০ তে ২১৫ রানের বিশাল রানের বাঁধা টপকে যায় বাংলাদেশ। চোটে পড়ে সাকিব-তামিমের ছিটকে যাওয়া এশিয়া কাপে ৫ ম্যাচে ৩০২ রান করেন মুশফিক ৬০.৪০ গড়ে৷ পাঁজরের ব্যাথা সহ্য করতে না পেরে ৫টি পেইন কিলার খেয়ে মাঠে নেমে প্রথম ম্যাচেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে করেন ক্যারিয়ার সেরা ১৪৪ রান।

এশিয়া কাপেই পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলেন দলকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তোলা ৯৯ রানের অসাধারণ আরও একটি ইনিংস। বছরের শেষ দুই সিরিজে ৬ ম্যাচের ৪ ম্যাচেই নট আউট ছিলেন মুশফিক। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে প্রথম বাংলাদেশী ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একমাত্র উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান হিসেবে করেন দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি। অপরাজিত ২১৯ রান মুশফিকের টেস্ট ক্যারিয়ার সেরা পারফরম্যান্স।

২০১৯ মানেই বিশ্বকাপ। কিন্তু প্রস্তুতিমূলক নিউজিল্যান্ড সফর ও আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলে বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডে ব্যর্থ হলেও আয়ারল্যান্ডে ৪ ম্যাচে ৫৫.৩৩ গড়ে ক্ষুরধার মুশফিকের উইলো। বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল তার প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জনে ব্যর্থ হলেও ৮ ম্যাচে  দুই ফিফটি ও এক সেঞ্চুরি তে ৫২.৪৩ গড়ে ৩৬৭ রান প্রমাণ করে কতটা কথা বলেছে মুশফিকের ব্যাট। তৃতীয় বাংলাদেশী হিসেবে বিশ্বকাপে এবং মোহাম্মদ আশরাফুলের পর দ্বিতীয় বাংলাদেশী হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওডিআই শতক হাঁকান মুশফিক। বিশ্বকাপে দলের হতাশাজনক পারফরম্যান্স শ্রীলঙ্কা সিরিজেও টেনে আনে টাইগাররা। দলীয় ব্যর্থতার ভীড়ে অবশ্য উজ্জ্বল ছিল মুশফিকের ব্যাট। ৩ ম্যাচে ৮৭.৫০ গড়ে ১৭৫ রান করেন।

গত বছর ঘরের মাঠে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে দলের সাথে ব্যর্থ মুশফিকও।  ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টিতে তে এক ম্যাচে ওপেন করে ব্যর্থ হন মুশফিক। ঐ সিরিজ থেকে শিক্ষা নিয়ে ভারতের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি জয়ের মূল কারিগর মিঃ ডিপেন্ডেবল, খেলেন অপরাজিত ৬০ রানের ইনিংস। ২০১৬ ব্যাঙ্গালোরের পাপ মোচন করেন দিল্লীতে। টেস্ট সিরিজে দলের সবাই ব্যর্থ হলেও দুটো ফিফটি করেন মুশফিক।

২০২০ সালে করোনার আগে এখন পর্যন্ত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হোম সিরিজে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। একমাত্র টেস্টে তৃতীয়বারের মত ডাবল সেঞ্চুরি করে নতুন রেকর্ড গড়েন মুশফিক। ওডিআই সিরিজে করেন এক ফিফটি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট শেষে, বন্ধু তামিম কে টপকে মুশফিক এখন বাংলাদেশ ক্রিকেটের সর্বাধিক রান সংগ্রহকারীর তালিকায় এক নম্বরে।

ক্যারিয়ারের নানা উত্থান পতনের মধ্য দিয়ে যাওয়া মুশফিক বর্তমানে বিশ্ব ক্রিকেটে ৪ নম্বর পজিশনে অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে বিবেচিত।  বিকেএসপির গুরুদের কাছ থেকে দীক্ষিত এই ব্যাটসম্যান বয়সভিত্তিক দল থেকেই ব্যাপক পরিশ্রমী। সবসময় পছন্দ করেন নিজেকে গুছিয়ে পরিপাটি করে রাখতে। মুশফিক ব্যক্তিজীবনে যতটুকু পরিপাটি ঠিক ততটুকুই পরিপাটি মাঠের ক্রিকেটে। ২০ এর আশেপাশে গড়ের একজন ব্যাটসম্যান শেষ ৫-৬ বছরে নিয়মিত পারফর্ম করে নিজের টেস্ট ও ওডিআই গড় কে নিয়ে গেছেন প্রায় ৩৭ এর কাছাকাছি। স্বপ্ন দেখেন ক্যারিয়ারটা শেষ করবেন ৪০ এর উপরে গড়ধারী ব্যাটসম্যান হিসেবে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আজকের দিনে ১৫ বছরে পা দিয়েও বগুড়া জিলা স্কুলের ছাত্র মুশফিকুর রহিম এখনও নেটে ঘাম ঝরিয়ে যান ঘন্টার পর ঘন্টা, সতীর্থরা প্র‍্যাকটিস শেষে বাসায় চলে গেলেও নিজে অনুশীলন চালিয়ে যান। ক্রিকেটের প্রতি তার নিবেদন সেই শুরুর মতই আছে, বরং মাঝে মনে হয় যতই দিন গড়াচ্ছে পরিশ্রমের ক্ষত্রে নিজেকে আরও বড় উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা তার। দেশের ক্রিকেটে এখনও নিজের অনেক কিছুই দেওয়ার বাকি আছে বলে বিশ্বাস তার। অনুপ্রেরণা হিসেবে বাবা মাহবুব হামিদ তারা তো সবসময়ই আছেন গ্যালারি তে।

 

লেখাঃ ইফতেখার নিলয়

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

স্টোকসদের যেভাবে রাগিয়ে দিয়েছিলেন তামিমরা

Read Next

হরভজনের কণ্ঠে আক্ষেপ, ফিরতে চান জাতীয় দলে

Total
55
Share
error: Content is protected !!