মাহমুদউল্লাহ একাদশকে উড়িয়ে দিল নাজমুল একাদশ

মাহমুদউল্লাহ একাদশকে উড়িয়ে দিল নাজমুল একাদশ

গত ১১ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপ। আজ (১৭ অক্টোবর) চতুর্থ ম্যাচে একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে মাহমুদউল্লাহ একাদশ ও নাজমুল একাদশ। এই ম্যাচের খুটিনাটি হালনাগাদ এই লাইভ রিপোর্টে।

মাহমুদউল্লাহ একাদশকে উড়িয়ে দিল নাজমুল একাদশঃ

৩৬ রানের ব্যবধানে শেষ ৫ উইকেট হারিয়ে ১৩১ রানের বড় পরাজয় সঙ্গী হয়েছে মাহমুদউল্লাহ একাদশের। এক প্রান্ত আগলে রেখে কিছুটা লড়াইয়ের আভাস দিলেও যগ্য সমর্থনের অভাবে ইনিংস বড় করতে পারেননি নুরুল হাসান সোহান। শেষ ব্যাটসম্যান রুবেল হোসেন দ্রুত দুই রান নিতে গিয়ে কাটা পড়েন রান আউটে। ফলে ১৩৩ রানেই গুটিয়ে যায় মাহমুদউল্লাহ একাদশ। নুরুল হাসান সোহান অপরাজিত ছিলেন ২৭ রানে।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

নাজমুল একাদশ ২৬৪/৮ (৫০), ইমন ১৯, সৌম্য ৮, শান্ত ৩, মুশফিক ৫২, আফিফ ৯৮, হৃদয় ২৭, শুক্কুর ৪৮*, রিশাদ ১, তাসকিন ০, নাসুম ০*; এবাদত ১০-০-৬০-২, রুবেল ১০-২-৫৩-৩, সুমন ৯-০-৫২-১

মাহমুদউল্লাহ একাদশ: ১৩৩/১০ (৩২.১ ওভার ), ইমরুল ৪, লিটন ২৭, মুমিনুল ১৩, মাহমুদুল হাসান ১৩, মাহমুদউল্লাহ ১১, নুরুল ২৭*, সাব্বির ১০, মিরাজ ১৬, রাকিবুল ০, সুমন ২, রুবেল ১; তাসকিন ৬-০-২৫-০, আল আমিন ৫-১-২০-১, নাসুম ৮.১-১-২৩-৩, রাহি ৭-০-৩৪-৩, রিশাদ ৬-০-২৬-২।

সেরা ব্যাটসম্যানঃ আফিফ হোসেন ধ্রুব (নাজমুল একাদশ)
সেরা বোলারঃ রিশাদ হোসেন (নাজমুল একাদশ)
সেরা ফিল্ডারঃ নাজমুল হোসেন শান্ত (নাজমুল একাদশ)
ম্যাচ সেরাঃ আফিফ হোসেন ধ্রুব (নাজমুল একাদশ)।

একাই লড়ছেন সোহানঃ

মাহমুদউল্লাহ একাদশের আসা যাওয়ার মিছিল যেন থামছেই না। ৭৮ রানেই ৫ উইকেট হারানোর পর নুরুল হাসান সোহান ও সাব্বির রহমান কিছুটা আশা দেখাচ্ছিলেন। তবে দলীয় ৯৭ রানে আবু জায়েদ রাহির বলে রিশাদ হোসেনকে ক্যাচ দিয়ে সাব্বির ফিরে যান ১০ রান করে। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়ে ২৪ রানের জুটি গড়েন সোহান। রাহির তৃতীয় শিকার হয়ে মিরাজ ফিরেছেন ১৬ রান করে। এরপর রিশাদ হোসেনের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্রিজে আসা রাকিবুল গোল্ডেন ডাকে ফিরলে ১২৮ রানেই ৮ উইকেট হারিয়ে বসে মাহমুদউল্লাহ একাদশ। ১৩০ রানের মাথায় ৯ম ব্যাটসম্যান হিসাবে আউট হন সুমন খান। ২৬ রানে ব্যাট করছেন একাই লড়তে থাকা সোহান।

নাসুমের তিনঃ

দায়িত্ব নিয়ে খেলতে পারলেন না মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। নাসুম আহমেদের দ্বিতীয় শিকার হয়ে সাজঘরে ফিরেছেন মাহমুদউল্লাহ একাদশের অধিনায়ক। ১০ বলে ১ চারে ১১ রান করেন তিনি। নিজের করা ৬ষ্ঠ ওভারের ৫ম বলে নাসুম ফেরান মাহমুদুল হাসান জয়কেও। ২৮ বলে ১ চারে ১৩ রান করা জয় ক্যাচ দেন নাজমুল হোসেন শান্তকে। ৭৮ রানেই নেই মাহমুদউল্লাহ একাদশের ৫ উইকেট।

ইমরুলের পর সাজঘরে লিটনওঃ

লিটন দাস শুরুটা করেছিলেন দারুণ, অনায়াসে বাউন্ডারি আদায় করে নিচ্ছিলেন। তবে ১০০ স্ট্রাইক রেটে রান করা লিটন পার করতে পারেননি ৩০ রানের গন্ডি। ৫ চারে ২৭ বলে ২৭ রান করে নাসুম আহমেদের বলে লেগ বিফোর উইকেটের ফাদে পড়েন লিটন। মুমিনুল হকের সঙ্গে ২৩ রানের জুটি গড়েছিলেন তিনি। লিটন ফেরার পর বেশিক্ষণ টেকেননি মুমিনুল। ৩২ বলে ১৩ রানের ইনিংস থামে আবু জায়েদ রাহির বলে উইকেটের পেছনে মুশফিকুর রহিমকে ক্যাচ দিলে।

দ্রুত ফিরলেন ইমরুলঃ

২৬৫ রানের জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নামা মাহমুদউল্লাহ একাদশের শুরুটা ভাল হবার দরকার ছিল। তবে লিটন দাস ও ইমরুল কায়েসের উদ্বোধনী জুটি স্থায়ী হয়েছে কেবল ৩.২ ওভার। ১১ বলে ১ চারে ৪ রান করে আল আমিন হোসেনের বলে উইকেটের পেছনে মুশফিকুর রহিমকে ক্যাচ দেন ইমরুল। যদিও আম্পায়ার আঙুল তুলে দেওয়ায় খুশি ছিলেন না ইমরুল।

ইরফান শুক্কুরের ঝড়ো ইনিংস, নাজমুল একাদশের বড় সংগ্রহ:

আফিফ হোসেন ধ্রুব ও মুশফিকুর রহিম ভীতটা গড়ে দিয়ে গিয়েছিলেন। নাজমুল একাদশের ইনিংসে তুলির শেষ আচড় দেন তৌহিদ হৃদয় ও ইরফান শুক্কুর। ২৯ বলে ২৭ রান করে আউট হন হৃদয়, ৩১ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৪৮ রান করে অপরাজিত থাকেন ইরফান শুক্কুর। ৮ উইকেটে ২৬৪ রানে থামে নাজমুল একাদশ। মাহমুদউল্লাহ একাদশের পক্ষে ৩ উইকেট নেন রুবেল হোসেন, ২ উইকেট নেন এবাদত হোসেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ (১ম ইনিংস শেষে),

নাজমুল একাদশ ২৬৪/৮ (৫০), ইমন ১৯, সৌম্য ৮, শান্ত ৩, মুশফিক ৫২, আফিফ ৯৮, হৃদয় ২৭, শুক্কুর ৪৮*, রিশাদ ১, তাসকিন ০, নাসুম ০*; এবাদত ১০-০-৬০-২, রুবেল ১০-২-৫৩-৩, সুমন ৯-০-৫২-১

মুশফিককে ফেরালেন এবাদতঃ

আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছিলেন, দল হারলেও জিতেছিলেন ম্যাচের সেরা ব্যাটসম্যানের পুরষ্কার। আজ ধীর লয়ে রান তুলতে থাকা মুশফিকুর রহিম ফিফটি পূর্ণ করার পর বেশিক্ষণ টেকেননি, ফিরেছেন এবাদত হোসেনের বলে নুরুল হাসান সোহানকে ক্যাচ দিয়ে। ৯২ বলে ১ চারে ৫২ রান করেন তিনি।

আফিফের ‘২’ রানের আক্ষেপঃ

শুরুর বিপর্যয় কাটিয়ে মুশফিক-আফিফের ব্যাটে সংগ্রহের পথে ছিল নাজমুল একাদশ। দুজনের শতরানের জুটিতে সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তেও পৌঁছে যায় আফিফ হোসেন ধ্রুব। তবে ভুল বোঝাবুঝিতে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র দুই রান দূরে থেকে রান আউটে কাটা পড়েন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। ৩৯ তম ওভারের পঞ্চম বলে ফেরার আগে করেন ১০৮ বলে ১২ চার ১ ছক্কায় ৯৮ রান করে। তার বিদায়ে ভাঙে দুজনের ১৪৭ রানের জুটি। নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্রিজে এসেছেন তৌহিদ হৃদয়। আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করা মুশফিক তুলে নিয়েছেন ফিফটি।

আফিফের ফিফটি, জমে উঠেছে মুশফিক-আফিফ জুটিঃ

রানখরার মিরপুরে আজও ব্যর্থ নাজমুল একাদশের টপ অর্ডার। পাওয়ার প্লের ১০ ওভারেই তিন উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ ছিল ৪৬। সেখান থেকে দারুণ এক জুটিতে ইনিংস মেরামত করছেন আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান মুশফিকুর রহিম ও তরুণ আফিফ হোসেন ধ্রুব। দুজনের অবিচ্ছেদ্য জুটিতে ইতোমধ্যে দলীয় সংগ্রহ ১০০ পার হয়েছে। আফিফ তুলে নিয়েছেন ফিফটি। ৭০ বলে ৬ চারে ফিফটি ছুঁয়েছেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। তাকে সঙ্গ দেওয়া মুশফিক ব্যাট করছেন ৩৩ রানে।

প্রথম বলেই সুমনের বাজিমাতঃ

মাহমুদউল্লাহ একাদশের স্ট্রাইক বোলার এবাদত হোসেন নিজের প্রথম স্পেলে ৪ ওভার করলেও সুবিধা করে উঠতে পারেননি। অন্যদিকে নিজের পরথম ৪ ওভারে ২ উইকেট তুলে নেন রুবেল হোসেন। তৃতীয় পেসার হিসাবে বল করতে এসে প্রথম বলেই সফলতার মুখ দেখেন সুমন খান। ৪ চারে ২১ বলে ১৯ রান করা পারভেজ হোসেন ইমনকে লেগ বিফোর উইকেটের ফাদে ফেলেন তিনি। উইকেটে থাকা মুশফিকুর রহিমকে সঙ্গ দিতে এসেছেন আফিফ হোসেন ধ্রুব।

রুবেল হোসেনের জোড়া শিকারঃ

নিজের করা প্রথম ওভারে দুইটি বাউন্ডারি হজম করলেও একাধিক আউটের সুযোগ সৃষ্টি করেন রুবেল হোসেন। সৌম্য সরকারকে বোল্ড করে (প্লেয়েড অন) ফেরানও। দ্বিতীয় ওভারে উইকেট না পেলেও নাজমুল হোসেন শান্তকে অস্বস্তিতে রেখেছিলেন, যার শেষ হয় পরবর্তী ওভারের ১ম বলে। ১৪ বলে ৩ রান করা শান্তকে দারুণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড করে সাজঘরে ফেরান রুবেল। নতুন উইকেটে আসা ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম ওভারের বাকি ৫ বলে কোন রান নিতে পারেননি।

ব্যর্থতার বৃত্তে বন্দি সৌম্যঃ

বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার মিছিলে সৌম্য সরকার যেন বড় বিজ্ঞাপন। আগের ম্যাচে ৪৭ বলে ৯ রান করে আউট হওয়ার পর আজ মাহমুদউল্লাহ একাদশের বিপক্ষেও ফিরেছেন শুরুতেই। রুবেল হোসেনের বলে ইনসাইড এজ হয়ে বোল্ড হয়েছেন দলীয় ১৩ রানে। ৪ বল স্থায়ী ইনিংসে ২ চারে করেন ৮ রান। ২ চারের শেষটি অবশ্য সুযোগ (ক্যাচের) ছিল ফিল্ডিং দলের জন্য।

খেলছেন যারাঃ

বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপের নিয়ম অনুযায়ী (প্লেয়িং কন্ডিশন) এক ম্যাচে প্রতি দলে ১২ জন ক্রিকেটার থাকবে। যদিও মাঠে একসঙ্গে ফিল্ডিং এ নামবে ১১ জন, ব্যাটিং করতে পারবে ১১ জন। উল্লেখ্য, এই টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো লিস্ট-এ ম্যাচের তকমা পাবে না।

নাজমুল একাদশে এসেছে তিন পরিবর্তন। আগের ম্যাচের একাদশ থেকে জায়গা হারিয়েছেন সাইফ হাসান, মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ ও নাইম হাসান। তাদের পরিবর্তে জায়গা পেয়েছেন পারভেজ হোসেন ইমন, আবু জায়েদ রাহি ও নাসুম আহমেদ।

অন্যদিকে মাহমুদউল্লাহ একাদশে এসেছে দুই পরিবর্তন। ওপেনার নাইম শেখ ও স্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লবের জায়াগায় অন্তর্ভূক্ত হয়েছেন মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান মাহমুদুল হাসান জয় ও স্পিনার রাকিবুল হাসান।

মাহমুদউল্লাহ একাদশ- (খেলবেন যে ১২ জন)

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (অধিনায়ক), লিটন কুমার দাস (সহ অধিনায়ক), ইমরুল কায়েস, মুমিনুল হক সৌরভ, নুরুল হাসান সোহান (উইকেটরক্ষক), সাব্বির রহমান রুম্মন, মেহেদী হাসান মিরাজ, সুমন খান, এবাদত হোসেন চৌধুরী, মোহাম্মদ রুবেল হোসেন,মাহমুদুল হাসান জয় ও রাকিবুল হাসান।

নাজমুল একাদশ (খেলবেন যে ১২ জন)-

নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার (সহ অধিনায়ক), আফিফ হোসেন ধ্রুব, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), তৌহিদ হৃদয়, ইরফান শুক্কুর, পারভেজ হোসেন ইমন, তাসকিন আহমেদ, আল আমিন হোসেন, আবু জায়েদ রাহি, নাসুম আহমেদ ও রিশাদ হোসেন।

টস আপডেটঃ

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতেছে মাহমুদউল্লাহ একাদশের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। টসে জিতে আগে নাজমুল একাদশকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

চোখের জলে ক্রিকেটকে বিদায় বললেন উমর গুল

Read Next

প্রধান নির্বাচকের কাছে বড় পাওয়া যা

Total
13
Share
error: Content is protected !!