মাঠ থেকে অবসর নেওয়া হচ্ছেনা মাশরাফির!

মাশরাফি বিন মর্তুজা

বাংলাদেশের ওয়ানডে দলের কাপ্তান মাশরাফি বিন মর্তুজার অবসর নিয়ে হচ্ছে বেশ জলঘোলা। বিসিবি-মাশরাফি দুই পক্ষই দ্বিধায় রেখেছিল আমজনতাকে। দিন দুয়েক আগে বিসিবি জানিয়েছে মাশরাফি চাইলে আবারও প্রস্তাব দিবেন তারা, ঘটা করে দেওয়া হবে বিদায়। অন্যদিকে মাশরাফি বলছেন মাঠ থেকে অবসর নিতেই হবে এমন কিছু ভাবছেন না তিনি। উপভোগ করছেন বলে খেলে যেতে চান ক্রিকেট, জাতীয় দলেই খেলতে হবে এমন নয়। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ, বিপিএল খেলতে পারলেই খুশি তিনি।

সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে মাশরাফি-বিসিবির বক্তব্যের সারমর্ম দাঁড়ায় অন্যরকম। বিসিবি চাইছে মাশরাফি অবসরে যাক, সে রাজি হলেই আয়োজন করা হবে বড়সড় বিদায়ী সংবর্ধনার। অন্যদিকে এমন প্রস্তাবেই মাশরাফির যেন যত অভিমান, ‘অবসরের কথা যেটা বললেন, আমার জায়গা থেকে সবাই আমাকে রিটায়ার করিয়েই দিয়েছে। আমি কেবল যেটা খেলছি সেটাকেই উপভোগ করছি।’

এদিকে গত ১২ জানুয়ারি বোর্ড সভা শেষে সংবাদমাধ্যমের সাথে কথা বলতে গিয়ে নাজমুল হাসান পাপন বলেন, ‘আমরাতো চাইবো তাকে ভালোভাবে, খুব ভালোভাবে বিদায় দিতে। যেটা কিনা বাংলাদেশে এর আগে কেউ পায়নি এবং অদূর ভবিষ্যতেও কেউ পাবে। এখন সে রাজি হলে ভালো, নাহলে কিছু করার নেই।’

নাজমুল হাসান পাপনের শেষ লাইনটাকে টেনেই মাশরাফি আবার পরদিন সংবাদ সম্মেলনে বললেন, ‘পাপন ভাই তো বলেই দিয়েছে যে নিলে ভালো নাহলে তো কিছু করার নেই। আমি নিব কিনা সেটা তো মনে হয় আপনাদের বলেছি। আমি খেলছি, আপনারা বার বার আমার খেলাটিকে জাতীয় দলে নিয়ে এসেছেন। আমি তো বলছি যে শুধু জাতীয় দলকে কেন্দ্র করেই একজন ক্রিকেটার ক্রিকেট খেলে না।’

কারও জোর করায় অবসরে যেতে চাননা মাশরাফি, ‘আমার সামনে যে খেলা আসছে আমি সেখানে খেলছি, আনন্দ পাচ্ছি খেলে। জাতীয় দলের চিন্তা যারা নির্বাচক আছেন, বিসিবিতে আছেন তাঁরা চিন্তা করবেন। আমার মনে হয় অতটুকু স্বাধীনতা আমার আছে যে আমি খেলতে চাই। কারো জোর করার জন্য তো আমি অবসর নিব না বা তেমন কিছু। বাংলাদেশের অনেক ক্রিকেটার আছে যারা মাঠ থেকে অবসর নেয়নি। আমি তো মনে করে করি আমার চেয়ে অনেক বড় ক্রিকেটার ছিল, যেমন হাবিবুল বাশার সুমন।’

‘সে তো বাংলাদেশের ক্রাইসিস মোমেন্টে সবসময় রান করেছে। মাঠ থেকে তো আর সে অবসর নেয়নি। আমি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কথা বলছি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সুমন ভাই বা আরো যারা ছিল হয়তো সুজন ভাই করতে পেরেছে। আর এছাড়া তো খুব কম বা রেয়ার কেস। আসলে একটা সময় আমিও ভাবতাম যে মাঠ থেকে অবসর নিব কি নিব না, দেখা যাক সময়ে বলে দিবে। তবে এখন মনে হয় যে এর প্রয়োজন নেই।’

অন্যদের প্রসঙ্গ টানতেই সাংবাদিকেরা ছুঁড়ে দেয় আরেক প্রশ্ন। তাদের ক্ষেত্রে নাহয় বোর্ড চায়নি, আপনার ক্ষেত্রেতো বোর্ড মনেপ্রাণে চাইছে বেশ আয়োজন করে বিদায় দিতে তাহলে নিচ্ছেন না কেন? জবাবে মাশরাফির কন্ঠে ঝরেছে অনাস্থা, ‘কে মনেপ্রাণে দিতে চায়? দেখুন গতকাল পর্যন্ত আমি বোর্ডের চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটার ছিলাম। আজকে থেকে তো আর চুক্তিবদ্ধ নেই। আমি সবসময় চিন্তা করি যে ক্রিকেট বোর্ড হচ্ছে খেলোয়াড়দের অভিভাবক।’

তাকে অবসর করাতে চাওয়ায় বিসিবিকে দিয়েছেন ধন্যবাদ, তবে মাঠ থেকে অবসরে যাচ্ছেন না স্পষ্ট বার্তা দেশসেরা অধিনায়ক ও পেসারের, ‘আমি সবসময় মনে করি যে একজন খেলোয়াড়কে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়া উচিত তার ক্রিকেট বোর্ডকে। ক্রিকেট বোর্ড একজন খেলোয়াড়ের দেখাশুনা করে। তাই ক্রিকেট বোর্ডকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ যে তারা চেয়েছে আমাকে অবসর করানোর জন্য।’

কার কাছ থেকে অবসর নিবেন সেটাও তার একান্ত নিজের সিদ্ধান্ত উল্লেখ করেন মাশরাফি, ‘তবে আমি তো আগের দিনও বলেছি যে আমি ক্লিয়ার ম্যাসেজ দিয়ে দিয়েছি (মাঠ থেকে অবসর) যে তেমন ইচ্ছা আমার নেই। যদি আল্লাহতায়ালা তেমন সুযোগ রাখে বা আসে তখন দেখা যাবে। আমার তেমন কোনও ইচ্ছা নেই। পরিস্থিতি তেমন আসলে সেটা দেখা যাবে। কার কাছ থেকে নিবো সেটাও দেখার বিষয়।’

নাজমুল হাসান তারেক

Read Previous

খালেদ মাহমুদ সুজনের প্রসংশায় আমির

Read Next

আজকের সুপারস্টারদের জন্য মাশরাফির বার্তা

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
16
Share