ব্যর্থতা যখন মুমিনুলের কাছে আশীর্বাদ

মুমিনুল হক

টাইগারদের টেস্ট অধিনায়কত্বটা হুট করেই পেয়েছেন মুমিনুল হক। সাকিব আল হাসানের নিষেধাজ্ঞায় গতবছর ভারত সফরের ঠিক আগ মুহূর্তে নেতৃত্ব ভার ওঠে তার কাঁধে। এমনিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে নাজুক ফরম্যাট ধরা হয় টেস্টকে। তার উপর অধিনায়কত্বের অভিষেক সিরিজ ভারতের মাটিতে। ফলাফল যা হওয়ার তাই হয়েছে ২-০ ব্যবধানে বেশ বাজেভাবে হারতে হয় টাইগারদের। এরপর পাকিস্তান সফরেও ভরাডুবি, মুমিনুলের নেতৃত্বে প্রথম জয় ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে।

অধিনায়কত্বের শুরুতেই বাজে সময় দেখাকে আশীর্বাদ বলছেন টাইগারদের সাদা পোশাকের কাপ্তান। এদিকে টেস্ট ক্রিকেটে উন্নতিতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নয় বরং স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনাতেই বিশ্বাসী মুমিনুল হক। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা দলের ক্রিকেটারদের চাপের কারণ হতে পারে বলেও মত বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যানের।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) কে মুমিনুল বলেন, ‘আমাদের দীর্ঘমেয়াদী কোন পরিকল্পনা নেই। বরং সিরিজ বাই সিরিজ পরিকল্পনা রয়েছে। যা আমাদের খেলোয়াড়দেরকে একই সময় একটি বিষয়ে মনোযোগী থাকার সুযোগ করে দেবে বলে আমরা মনে করি। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় আপনাকে সামগ্রিক বিষয়ে চিন্তা করার স্বাধীনতা দেবে।’

‘তবে আমরা এখনো সুনির্দিষ্ট ছোট ছোট বিষয়ে মনোযোগী থাকার পরিকল্পনা করছি। যা আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে মানানসই। আমরা জানি টেস্টে আমরা খুব ভালো নই। তবে আমরা এটিও জানি যে আমাদের মধ্যে ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সিরিজ বাই সিরিজ এগুনোই বরং ভালো।’

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ফেব্রুয়ারিতে মিরপুর টেস্টে জয়ের আগে তার নেতৃত্বে তিন ম্যাচেই ইনিংস ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। আর এমন কিছু নিজেদের ঘাটতি সম্পর্কে জানতে সাহায্য করেছে বলে মনে করেন মুমিনুল।

‘এটি ঠিক যে অধিানয়ক হিসেবে আমার শুরুটা ভালো হয়নি। তবে আমি মনে করি এটি একটি আশীর্বাদ। প্রথম সুযোগেই নিজেদের ঘাটতি কোথায় রয়েছে সেটি বুঝে নেয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছে।’

‘ঐ বড় পরাজয়ের পর আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি। আমরা নিজেদের ঘাটতি খুঁজে নিয়ে তা পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছি। আমরা বেশ ভালোভাবেই সেটি পুষিয়ে নিয়েছি। যার ফলে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজে আমরা খুব ভালো করেছি। এটি একটি ভালো দিক।’

নিজেদের কতটা উন্নতি হয়েছে সেটা বোঝার সুযোগ হত এপ্রিলের শেষ দফায় পাকিস্তান সফরের দ্বিতীয় টেস্টে। কিন্তু এর আগেই করোনা থাবায় থমকে যায় ক্রিকেট। পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টসহ মোট ৮ টি টেস্ট স্থগিত হয়েছে টাইগারদের। যার সবকটিই টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ। আর সে কারণেই পুনরায় টেস্টগুলো খেলার ব্যাপারে আশাবাদী মুমিনুল হক, ‘আমরা পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ টেস্টের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। কারণ সেখানেই নিজেদের সঠিক ভাবে জানার সুযোগ ছিল। বুঝতে পারতাম আমরা সঠিক পথে আছে কীনা।’

‘এটি সত্যিই হতাশার। তবে আমাদের কী ই বা করার আছে? আশা করি দ্রুতই বিদায় নিবে এই ভাইরাস। আর আমরা ক্রিকেটে ফিরে আসব। এক বছরে বাংলাদেশ খুব কম টেস্টই খেলার সুযোগ পেয়ে থাকে। আশা করি আইসিসি আমাদের টেস্টগুলো পুনরায় খেলার সুযোগ করে দিবে। কারণ ঐ টেস্টগুলো ছিল আইসসির টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ। যদিও ব্যস্ত সূচীর মধ্যে এমন সময় বের করে আনা কঠিন। তারপরও আমি আশাবাদী।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

১ আগস্ট থেকে মাঠে ফিরছে কাউন্টি ক্রিকেট

Read Next

আকাশ চোপড়ার অলটাইম আইপিএল একাদশে নেই গেইল-রাসেল

Total
4
Share
error: Content is protected !!