বিনিময় চুক্তিতে জহুর আহমেদে ৬ কোটি টাকার ইনডোর

বিনিময় চুক্তিতে জহুর আহমেদে ৬ কোটি টাকার ইনডোর

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে নির্মিত হচ্ছে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে বিশ্বমানের ইনডোর। এর আগেও এখানে ইনডোর ছিল, তবে সেটি আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন ছিল না। নতুন করে নির্মানাধীন ইনডোরটি অবশ্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কিংবা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অধীনে হচ্ছে না।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএর) প্রকল্প সাগরিকা-পোর্ট কানেক্টিং রোডের ফ্লাইওভারের কারণে স্টেডিয়ামের পুরাতন ইনডোর ভাঙা পড়া ও জায়গা ব্যবহারের ক্ষতিপূরণ হিসেবে নতুন ইনডোরটি তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। এই ইনডোরটি স্টেডিয়ামের তিন নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশের পর বাম পাশে চোখে পড়বে। থাকছে বিশ্বমানের সব সুযোগ সুবিধা।

শুধু ইনডোর নয়, ক্ষতিপূরণ হিসেবে একটি একাডেমিও দাবি করা হয় বিসিবির পক্ষ থেকে। সেটিও সরকারি অনুমতি সাপেক্ষে করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে সাগরিকা-পতেঙ্গা আউটার রিং রোড প্রকল্পের বাস্তবয়নকারী প্রতিষ্ঠান সিডিএ।

সিডিএ এবং জাপানি প্রতিষ্ঠান জাইকার তত্বাবধান ও অর্থায়নে ইনডোরটির কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের নভেম্বরে। তবে করোনা প্রভাবে কিছুটা ধীর গতি হলেও সাম্প্রতিক সময়ে বেশ দ্রুতই কাজ এগোচ্ছিল। যদিও বর্তমানে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ চলায় কাজে পড়েছে বিরতি। সিরিজ শেষে আবারও পুরোদমে চলবে কাজ, শেষ হবে আগামী দুই-আড়াই মাস পর।

নতুন এই ইনডোরটি বাংলাদেশের সবচেয়ে সেরা ইনডোর হবে বলে দাবি জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের ভেন্যু ম্যানেজার ফজলে বারি রুবেলের। ‘ক্রিকেট৯৭’ কে তিনি জানান ইনডোরে কি কি সুবিধা চান তা জানিয়ে সিডিএকে প্রস্তাব দেওয়া হলে তারাই ড্রয়িং, ডিজাইন করে কাজ শুরু করে। যেখানে থাকবে চারটি উইকেট, চেঞ্জিং রুম, রেস্ট এরিয়া, লকার।

রুবেল বলেন, ‘আগের ইনডোরটাই একটু বড় করে হচ্ছে। যেহেতু এখানে ফ্লাইওভারের ল্যান্ডিংটা পড়েছে সেহেতু ক্ষতিপূরণ না নিয়ে তাদেরকে অনুরোধ করা যে ইনডোরটা নতুন করে তৈরি করে দেওয়া। সিডিএ জাইকার অর্থায়নেই করছে, ড্রয়িং, ডিজাইন ওরাই করেছে। আমাদের দেওয়া সুপারভেশনে ওরা করছে।’

‘আমরা শুধু বলেছি আমাদের কি কি লাগবে, চারটা উইকেট হবে, জিম থাকবে, চেঞ্জিং রুম থাকবে, রেস্ট এরিয়া, ভিউ এরিয়া থাকবে। আগে জিম ছিলনা, চেঞ্জিং রুম ফ্যাসিলিটিস ভালো ছিলনা, আগে শুধু ওয়াশরুম ছিল এখন লকার ও চেঞ্জিং রুম দুটোই থাকবে। বহির্বিশ্বে আধুনিক ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলোতে যেসব সুবিধা দেখেছি তাদেরকে সে হিসেবেই বলেছি যে এগুলো এগুলো লাগবে। ড্রয়িং, ডিজাইন ওরাই করেছে।’

এদিকে প্রকল্পের প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামসও জানালেন বিশ্বমানের ইনডোরই তারা তৈরি করে দিচ্ছেন চাহিদা অনুসারে। এমনকি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সধারণ সম্পাদক, সাবেক সিটি মেয়র ও বিসিবি পরিচালক আ.জ.ম নাসিরের অনুরোধে একটা একাডেমিও তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে প্রক্রিয়াও।

কাজী হাসান বিন শামস ‘ক্রিকেট৯৭’ কে বলেন, ‘ইনডোর স্টেডিয়াম যেটা করতেছি এমন বিশ্বমানের ইনডোর বাংলাদেশে আরেকটাও নাই। আমাদেরতো আ.জ.ম নাসিরের সাথে কথা হয়েছে। তারা রাজি হয়ে বিনিময়ে ইনডোর ছাড়াও একটা ক্রিকেট একাডেমি করে দিতে বলেছে আমাদের। সরকার অনুমতি দিলে আমরা একাডেমিটাও করে দিব।’

‘আমাদেরকে চিঠিও দিয়েছে। তাদের আগের ইনডোর স্টেডিয়ামের জায়গায় ফ্লাইওভারের ল্যান্ডিং পড়েছে। জায়গার ক্ষতিপূরণ দিইনাই আমরা, তার বদলে ইনডোরটা করে দিচ্ছি। এসব বিষয়ে আমাদের চুক্তি হয়েছে, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সহ সবার সাথে যোগাযোগ করেই আমরা এই প্রকল্পের কাজ শুরু করেছি।’

চট্টগ্রাম থেকে, নাজমুল তারেক

Read Previous

বাংলাদেশের ‘জড়তা’ না কাটার সুযোগ নিতে চায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ

Read Next

ভারতেই প্রথম, ভারতেই শততম; রুটের কাছে ‘ভেরি স্পেশাল’

Total
8
Share