‘প্রথম টেস্ট সিরিজের পর ভাবতেই পারিনি আবার টেস্ট খেলতে পারবো’

রস টেইলর

২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক রস টেইলরের। সিরিজের দুই ম্যাচে ৪ ইনিংসে ১১ গড়ে রান মাত্র ৪৪। অথচ এমন বাজে সিরিজ কাটানো টেইলর এখন দাঁড়িয়ে আছেন ১০০ তম টেস্ট খেলার সামনে। ইতোমধ্যে নিউজিল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ টেস্ট রানের রেকর্ডও নিয়েছেন নিজের দখলে। ২১ ফেব্রুয়ারি ওয়েলিংটনে ভারতের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে মাঠে নামলেই টেইলর গড়বেন প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে তিন ফরম্যাটেই ১০০ ম্যাচ খেলার নজির।

এমন দুর্দান্ত এক মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে ৩৫ বছর বয়সী এই কিউই ব্যাটসম্যান বলছেন প্রথম টেস্ট সিরিজের পর ভাগ্যক্রমে জায়গা হয়েছে দলে। নিজেও নিশ্চিত ছিলেন না আর কখনো টেস্ট খেলা হবে কিনা, ঘরের মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে পরের সিরিজেই বাদ পড়েন। কিন্তু পরের সুযোগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেডন পার্কে নেমেই হাঁকান সেঞ্চুরি। আর পেছনে তাকাতে হয়নি অভিজ্ঞ এই কিউই ব্যাটসম্যানকে। ৯৯ টেস্টে ৪৬.২৮ গড়ে রান করেছেন ৭১৭৪। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গতমাসে সিডনি টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ২২ রান করে পেছনে ফেলেন নিউজিল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ রানের স্টিভেন ফ্লেমিংয়ের রেকর্ড (৭১৭২)।

ভারতে বিপক্ষে প্রথম টেস্টের আগে তিন ফরম্যাটে ১০০ টেস্ট খেলা প্রথম ব্যাটসম্যান হওয়ার সুযোগ সম্পর্কে বলতে গিয়ে টেইলর জানান, ‘দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আমার প্রথম টেস্ট সিরিজের পর আমি ভাবতেই পারিনি যে আবার টেস্ট খেলা হতে পারে আমার। সম্ভবত ভাগ্যবান, (তিন ফরম্যাটে ১০০ ম্যাচ সম্পর্কে) টাইমিংটা ভালো ছিল। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট এসেছে ২০০৫ সালে আমার অভিষেক ২০০৬ সালে।’

‘সুতরাং এটা সম্ভবত টাইমিং ইস্যু যে ঠিক ওই সময়ে অভিষেক হওয়া। কিন্তু অবশ্যই এটা আনন্দের ব্যাপার যে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে সম্ভবত আমি এটি গড়তে যাচ্ছি। আশা করি আরও অনেক ক্রিকেটারই এটা হয়তো করতে পারবে। আমি নিশ্চিত আমার পাশে যে আছে (নেটে অনুশীলনরত কোহলি) তাদের একজন। সে সব ফরম্যাটে ২০০ করে ম্যাচ খেলতে পারে। আমাদের কেবল অপেক্ষা করতে হবে এবং দেখতে হবে।’

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাজে অভিষেক টেস্ট সিরিজ কাটানোর পর বাংলাদেশের বিপক্ষে হোম সিরিজে পড়লেন বাদ। এরপর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হোম সিরিজে অবশ্য ডাক পেয়েছেন আবারও। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আজকের টেইলর হয়ে ওঠা। প্রথম চার ইনিংসে ২০ পার করতে না পারা টেইলর হ্যামিল্টনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সুযোগ পেয়েই দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১২০ রানের ইনিংস খেলে ফেলেন। আর ওই ইনিংসের পরই মনে হয়েছে তার টেস্ট ক্যারিয়ার লম্বা হওয়া সম্ভব।

এ প্রসঙ্গে অভিজ্ঞ এই কিউই ব্যাটসম্যান বলেন, ‘সম্ভবত এখানে (হ্যামিল্টনে)। আমি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম সিরিজ খেলি, বাংলাদেশের বিপক্ষে বাদ পড়ি দুই টেস্টে। এরপর আমি ঘরের মাঠে নিজের প্রথম টেস্ট খেলি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর ওই টেস্টে আমার প্রথম সেঞ্চুরির দেখাও পাই। সম্ভবত ওই সময় আমি প্রথম ভাবতে পেরেছি এই লেভেলে খেলার যোগ্য আমি। পুরো ক্যারিয়ার জুড়েই আমি ভাগ্যবান ছিলাম। তৃতীয় টেস্টেই সেঞ্চুরির দেখা, তৃতীয় ওয়ানডেতেও তাই। ক্যারিয়ারের শুরুতে এমন কিছু করতে পারলে নিঃসন্দেহে আত্মবিশ্বাস বাড়ে।’

উল্লেখ্য এখনো নিউজিল্যান্ডের এই ব্যাটসম্যান খেলেছেন ৯৯ টেস্ট, ২৩১ ওয়ানডে ও ১০০ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। ওয়ানডে ও টেস্টে নিউজিল্যান্ডের সর্বোচ্চ রানের মালিক টেইলর প্রায় ১৮ হাজার আন্তর্জাতিক রান করেছেন। টেস্টে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন ১৯ টি ওয়ানডেতে ২১ টি।

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

পাকিস্তান সফর বাতিল করলো দক্ষিণ আফ্রিকা

Read Next

মারিও ভিল্লাভারানের জায়গা নিচ্ছেন ইংলিশ নিকোলাস লি

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Total
8
Share