দুইটি বিপরীত মেরুতে মাশরাফি, জাহানারারা

মাসের শেষভাগে দেশের রাজধানী ঢাকা’র বিভিন্ন এলাকাতে বাসা পরিবর্তনের ধুম পড়ে। এই সময়ে আসবাবপত্র, প্রয়োজনীয় গৃহস্থলী সামগ্রী পুরাতন বাসা থেকে নতুন বাসায় স্থানান্তর করতে ডাক পড়ে দিনমজুরের; যারা কিনা জিনিসপত্র বয়ে নিয়ে নতুন বাসায় নিয়ে যায়। দিনশেষে ঐ দিনমজুরেরা জনপ্রতি ৭০০-১০০০ টাকা পেয়ে থাকেন।

হঠাৎ দিনমজুরের কথা কেনো? তাদের সাথে ক্রিকেটের কি সম্পর্ক? আসলে সম্পর্ক নেই! বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়েরা ম্যাচপ্রতি ঐ দিনমজুরদের চেয়ে অনেক বেশি টাকা পেয়ে থাকেন। আর সেটা অমূলকও নয়। দেশের জন্যে সম্মান বয়ে আনা, বিশ্ব ক্রিকেটের মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা ক্রিকেটাররা বেশি কিছু পাবে এটাই স্বাভাবিক।

তবে এই স্বাভাবিকতা কেনো জানি প্রমীলা ক্রিকেটের বেলাতে খুব অপরিচিত! কায়িক পরিশ্রম করে কষ্ট করে অর্থ উপার্জন করা দিনমজুরদের প্রতি টুপিখোলা সম্মান দিয়ে বলছি, প্রমীলা ক্রিকেটাররা জাতীয় চ্যম্পিয়নশিপে ম্যাচপ্রতি সম্মানী হিসাবে পাবেন ৬০০ টাকা! হ্যা, মাত্র ৬০০ টাকা।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে, ঘরোয়া লিগে পুরুষ খেলোয়াড়েরা ম্যাচপ্রতি কেমন সম্মানী পান? জাতীয় লিগে প্রথম স্তরে খেলা একজন খেলোয়াড় ম্যাচপ্রতি পান ২৫ হাজার টাকা! যা ৬০০ টাকার ৪১.৬৬ গুন! শুধু তাইই না, দ্বিতীয় স্তরে খেলা একজন পুরুষ ক্রিকেটার পান ৬০০ টাকার ৩৩.৩৩ গুন বেশি, ২০ হাজার টাকা। যদিও পুরুষদের ক্রিকেটে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে খেলা হয়ে থাকে বড় দৈর্ঘ্যের ম্যাচ। সেই হিসাবেও জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে একদিনের ম্যাচ খেলা প্রমীলা ক্রিকেটারদের আপনাকে বঞ্চিত বলতে হবে, অন্যায় বৈষম্যের শিকার বলতে হবে।

আপনি বলতে পারেন, মাশরাফি-সাকিবদের খেলাতে তো ভুড়ি ভুড়ি স্পন্সরদের পাশে পেয়ে থাকে বিসিবি, সালমা-জাহানারাদের ক্রিকেটে তো তেমনটি হয় না। হ্যা, কথা অবশ্যই সঠিক। তবে, ক্রিকেটের বাইরেও অন্য খেলাতে অর্থ সাহায্য করতে পারা বিসিবি প্রমীলা ক্রিকেটারদের পেছনে অর্থ বিনিয়োগ করতে পারেনা স্পন্সরের অভাবে এটা আসলে খোঁড়া যুক্তি। এমন খোঁড়া যুক্তি অবশ্য ইতোমধ্যেই দিয়েছেন বিসিবির উইমেন্স উইং চেয়ারম্যান এমএ আউয়াল চৌধুরী।

তার মতে, “ছেলেদের ন্যাশনাল টিমের স্পন্সর স্বত্ব থেকে কোটি কোটি টাকা আসছে। কিন্তু মেয়েদের আলাদা স্পন্সর আসছে না। তাই নারী ক্রিকেট দলকেও ছেলেদের চুক্তির সঙ্গে একত্রিত করা হচ্ছে। এটা মেনেও নিতে হচ্ছে। কেননা কেউ এগিয়ে আসছে না। বড় বড় কোম্পানিকে আমরা বলি। কেউ আসে না। এবার আলাদা করে স্পন্সর নেওয়ার প্রস্তাব করেছি। সেটি না হলেও উইমেন্স উইংয়ের জন্য আলাদা করে যেন চুক্তি হয়।”

মাশরাফি-সাকিবদের মতো সালমা-জাহানারাদের ক্রিকেটের বৈশ্বিক মঞ্চে দারুণ কিছু করার জন্যে যথাযথভাবে অনুপ্রাণিত করতে পারছে না বিসিবি। তাদের ক্রিকেটে উন্নতির জন্যে অর্থ খরচের উৎস না পাওয়ার বাহানা দেখিয়ে বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি দেখিয়ে বরং কোন কিশোরীর সালমা খাতুন হবার ইচ্ছেটাকেই গলাটিপে হত্যা করা হচ্ছে।

শিহাব আহসান খান

Read Previous

জাতীয় দলের টাইটেল স্পন্সর হবার দৌড়ে কারা?

Read Next

নিজেদের যোগ্যতাতেই লভ্যাংশের এমন বৃদ্ধিঃ পাপন

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
0
Share