দাপুটে জয়ে ফাইনাল নিশ্চিত হলো টাইগারদের

তামিম-সৌম্যর শুরুটাও দারুণ হয়েছিল। তারপর দুর্দান্ত খেলে ফিরেন সাকিব। শেষ কাজটা দারুণভাবে সম্পন্ন করলেন মুশফিক-মিঠুন-মাহমুদউল্লাহরা। তাদের দারুণ ব্যাটিংয়ে উইন্ডিজের দেওয়া ২৪৮ রানের টার্গেট ১৬ বল এবং ৫ উইকেট হাতে রেখেই ছুঁয়ে ফেলল বাংলাদেশ। এই জয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল নিশ্চিত হয়েছে মাশরাফি বাহিনীর। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের এক ম্যাচ হাতে রেখেই নিশ্চিত করেছে লিগপর্বে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকাটাও। ১৫ মে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি এখন কেবলই আনুষ্ঠানিকতা।

বল হাতে মুস্তাফিজ-মাশরাফিদের তাণ্ডবের পর মুশফিকুর রহিমের অনবদ্য ব্যাটিংয়ে হেসেখেলে জিতে ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। ত্রিদেশীয় সিরিজের তিন ম্যাচে দুই জয়ে ১০ পয়েন্ট অর্জন করে বাংলাদেশ। সমান ম্যাচে দুই জয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে আগেই ফাইনাল নিশ্চিত করে উইন্ডিজ ক্রিকেট দল।

সিরিজে বাংলাদেশ দুই ম্যাচেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পরাজিত করে। প্রথম ম্যাচে ক্যারিবীয়দের ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারায় টাইগাররা। দ্বিতীয় ম্যাচে আজ সোমবার ৫ উইকেটে পরাজিত করে। বৃষ্টির কারণে বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়।

২৪৮ রান করলেই ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল নিশ্চিত হবে বাংলাদেশ দলের। এমন সমীকরণের ম্যাচে উদ্বোধনীতে সৌম্য সরকারের সঙ্গে ৫৪ রানের জুটি গড়ে সাজঘরে ফেরেন তামিম ইকবাল।

ইনিংসের নবম ওভারে অ্যাসলে নার্সের প্রথম দুই বলে ব্যাক টু ব্যাক বাউন্ডারি হাঁকান তামিম ইকবাল। এই অফ স্পিনারের চতুর্থ বলে বিভ্রান্ত হয়ে বোল্ড হন তামিম। সাজঘরে ফেরার আগে ২৩ বলে ২১ রান করেন তামিম।

বাংলাদেশ শতরান পাড়ি দেয় মাত্র এক উইকেট হারিয়ে। তবে ইনিংসের ২১তম ওভারে নার্সের জোড়া আঘাতে হঠাৎ ছন্দপতন ঘটে। ৩৫ বলে ২৯ রান করে কাভারে রস্টন চেজের হাতে সহজ ক্যাচ তুলে দেন সাকিব। এক বল পরই শর্ট লেগে আমব্রিসের হাতে ক্যাচ দেন সৌম্য। আউট হওয়ার আগে তুলে নেন নিজের নবম ফিফটি। ৬৭ বলে ৫৪ রানের ইনিংসে ছিল ৪টি চার ও দুটি ছয়ের মার।

ফিফটির সুযোগ হাত ছাড়া করলেন মোহাম্মদ মিঠুন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে যাওয়া এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান ফেরেন ৫৩ বলে দুই চার ও ২টি ছক্কায় ৪৩ রান করে।

জয় থেকে মাত্র ৮ রান দূরে থাকতে কেমার রোচকে ছক্কা মারতে গিয়ে ক্যাচ দেন মুশফিক। শেষ হয় তার ৭৩ বলে ৫ চার ১ ছক্কায় ৬৩ রানের কার্যকরী ইনিংস। উইকেটে আসেন সাব্বির। এই দুজনই দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। ৩০ রানে অপরাজিত ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। সাব্বির ৭ মিনিট উইকেটে থাকলেও তাকে কোনো বল মোকাবিলা করতে হয়নি।

টস জিতে ব্যাট করতে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজ শুরু থেকেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে। একপাশে শাই হোপ লড়াই চালিয়ে গেলেও অন্য পাশে যাওয়ার মিছিলে ৯৯ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে বসে ক্যারিবিয়ানরা। ৩৭ রানের মাথায় ওপেনার সুনিল অ্যাম্ব্রিসকে(২৩) দিয়ে ক্যারিবিয়ান শিবিরে আঘাত শুরু করেন মাশরাফি। পরে যোগ দেন মিরাজ-মুস্তাফিজরাও। আগের ম্যাচে বাজে বল করা মুস্তাফিজ ফিরেছেন স্বরুপে, সাকিব ছিলেন আগের মতই রান খরচে কৃপন।

৯৯ রানে চার উইকেট হারানো ক্যারিবিয়ানদের পথ দেখান শাই হোপ ও অধিনায়ক হোল্ডারের ৫ম উইকেট ঠিক ১০০ রানের জুটিটি। বিপর্যয় কাটিয়ে দলীয় সংগ্রহ বড় করার পথে এগোনো ওয়েস্ট ইন্ডিজের টুটি চেপে ধরেন আবারও মাশরাফি। ৮ রানের ব্যবধানে ফেরান সর্বোচ্চ ৮৭ রান করা শাই হোপ ও দলের বাজে সময়ে দুর্দান্ত ফিফিটি তুলে নেওয়া হোল্ডারকে(৬২)।

এরপর সাকিব-মুস্তাফিজের তোপে বেশিদূর এগোতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস, থেমেছে ২৪৭ রানে। আগের ম্যাচের দু:স্মৃতি ভুলে মুস্তাফিজ করেছেন দুর্দান্ত কামব্যাক। ৪৩ রান খরচায় তুলে নেন ৪ উইকেট। ৬০ রানে মাশরাফির শিকার তিনটি, ২৭ রানে সাকিব নিয়েছেন একটি।

৪১ রানে স্পিনার মিরাজ এক উইকেট পেলেও দেশের ১৩৩ তম ওয়ানডে ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেক হওয়া পেসার আবু জায়েদ রাহী রাঙ্গাতে পারেননি নিজের অভিষেক ম্যাচ। ৯ ওভারে ৫৬ রান দিয়ে ছিলেন উইকেট শূণ্য।

97 Desk

Read Previous

মুস্তাফিজদের দাপুটে বোলিং, ২৪৭ এ থেমেছে উইন্ডিজ

Read Next

আমিরের বিশ্বকাপ স্বপ্ন ফিকে হওয়ার পথে!

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
0
Share
error: Content is protected !!