ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে আবাহনীর প্রথম হার

ডিপিএল(ঢাকা প্রিমিয়ার লীগ) এর বর্তমান ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আবাহনী লিমিটেড। এবারের আসরেও প্রথম তিন ম্যাচই জিতে শিরোপা নিজেদের ঘরে রেখে দেবার ইঙ্গিত দিয়েছিল দলটি। কিন্তু চতুর্থ ম্যাচে এসে শেখ জামালের কাছে হোঁচট খায় আবাহনী।

ফতুল্লায় আজকের ম্যাচে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব ৬ উইকেটে জয় ছিনিয়ে নেয় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের থেকে। নিয়মিতই উদ্বোধনী জুটি পরিবর্তন করা আবাহনী এই ম্যাচেও পরিবর্তনের পথে হাঁটে। লিটন কুমার দাস অপরিবর্তিত থাকলেও সঙ্গী হিসেবে পান অনুর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক সাইফ হাসানকে।

দুজন মিলে উদ্বোধনী জুটিতে যোগ করেন ৬৭ বলে ৫৯ রান। যার মধ্যে সাইফ হাসানের অবদান মাত্র ১৯ রান। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে সাইফ হাসান রান আউট হয়ে বিদায় নিলে লিটন দাসকে সঙ্গ দিতে উইকেটে আসেন নাজমুল হোসেন শান্ত। এই জুটি অবশ্য বেশিক্ষণ টেকেনি। ব্যক্তিগত ১৩ রানের মাথায় জিয়াউর রহমানের বলে বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন শান্ত।

তানভির হায়দারের ১ম শিকার বনে সাজঘরে ফেরার আগে ৮৩ বলে ৩টি চার ও ২টি ছয়ে ৬২ রান করেন লিটন। এটি তার লিস্ট এ ক্যারিয়ারের ৯ম অর্ধশতক। লিটন দাস ফেরার পর দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন আবাহনী লিমিটেড এর অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। মোসাদ্দেক,মিঠুন, শুভাগতদের সঙ্গে নিয়ে ইনিংসকে সামনে বাড়িয়ে নিতে থাকেন তিনি। তানভির হায়দারের লেগস্পিনে বোল্ড হয়ে যাবার আগে ৬৬ বলে ২টি চার ও ৩টি ছয়ে লিটন দাসের সমান ৬২ রান করেন রিয়াদ।

এছাড়া শেষদিকে শুভাগত হোম ২টি করে চার ও ছয়ে ২৭ বলে ৩২ রান করলে ২৬৯ রানের পুঁজি পায় আবাহনী। শেখ জামালের হয়ে ৪টি উইকেট দখল করেন তানভির হায়দার। এছাড়া শাহাদাত হোসেন ও অধিনায়ক আব্দুর রাজ্জাক নেন দুইটি করে উইকেট। ২৭০ রানের জবাবে ব্যাট হাতে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই সাইফুদ্দিন এর শিকার হয়ে ফিরে যায় শেখ জামালের ওপেনার ইমরুল কায়েস।

এরপর প্রশান্ত চোপরা এসে জুটি বাঁধেন আরেক ওপেনার ফজলে রাব্বির সঙ্গে। তাদের দুইজনের ১০৪ রানের জুটিতে শুরুর সাময়িক ধাক্কা সামাল দেয় শেখ জামাল। প্রসান্ত এবং রাব্বি দুইজনেই তুলে নেন অর্ধশতক। দলিয় ১১৮ রানে প্রসান্তকে সাজঘরে পাঠান আবাহনীর অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন। এরপর ৩০ ওভারে দলিয় ১৪৫ রানের মাথায় ওপেনার ফজলে রাব্বি রিটায়ার্ড হার্ট করলে ক্রিজে আসেন অভিজ্ঞ রাজিন সালেহ।

কিন্তু ব্যক্তিগত ১১ রানের মাথায় রান আউটের ফাঁদে পরেন রাজিন। এরপর শেখ জামালের উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহান এবং অলরাউন্ডার জিয়াউর রহমানের ব্যাটিং দৃঢ়তায় জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে যায় শেখ জামাল। এই দুইজন মিলে স্কোর বোর্ডে যোগ করেন ১০২ রান।

শেষ দিকে অর্ধশতক থেকে চার রান দূরে থাকতে আবাহনীর বামহাতি স্পিনার সাকলাইন সজিবের শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন সোহান। কিন্তু অপরপ্রান্তে জিয়াউর রহমান তুলে নেন অর্ধশতক। তিনি ব্যক্তিগত ৭৩ রানের ইনিংস খেলে ইনিংসের দুই ওভার বাকি থাকতেই দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান। আবাহনীর হয়ে সাইফুদ্দিন, মোসাদ্দেক এবং সাকলাইন সজিব একটি করে উইকেট নেন।

 সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

আবাহনী লিমিটেড ২৬৯/১০(৫০), লিটন দাস ৬২, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ৬২, তানভির হায়দার ৪/৪৫

শেখ জামাল ধান্মন্ডি ক্লাব ২৭০/৪ (৪৮), জিয়াউর রহমান ৭৩, ফজলে রাব্বি ৬৩, প্রশান্ত চোপরা ৫৭, নুরুল হাসান ৪৬

Read Previous

নতুন গঠনতন্ত্রে আপত্তি জানিয়ে আইসিসিকে বিসিবির চিঠি

Read Next

মমিনুলের বিধ্বংসী ইনিংসে জয় গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Total
0
Share