গোলাপি বলে বাংলাদেশের এক অন্ধকার দিন

গোলাপি বল আর দিবারাত্রির ইডেন টেস্ট উপলক্ষ্যে মাঠের বাইরে বাংলাদেশকে সম্মানিত করতে কার্পণ্য না করলেও ২২ গজের লড়াইয়ে প্রথম দিন হতাশাই উপহার দিয়েছে ভারত। ইশান্ত, শামি, উমেশ যাদবদের তোপে ৩০ ওভারের বেশি টিকেনি বাংলাদেশের ইনিংস, স্কোরবোর্ডে তুলতে পারে মাত্র ১০৬ রান ৪৬ ওভার ব্যাট করার সুযোগ পেয়ে ৭ উইকেট হাতে নিয়ে ভারতের সংগ্রহ ১৭৪, লিড ৬৮। সাথে বাড়তি দুঃসংবাদ হিসেবে আছে আঘাত পেয়ে লিটন দাস ও নাইম হাসানের টেস্ট থেকেই ছিটকে যাওয়া।

নানা আয়োজনে রঙিন ইডেন টেস্টের শুরুটা, সব আনুষ্ঠানিকতা সেরে মাঠে নামতেই দেখা মিলল চেনা বাংলাদেশের। ইনদোরে যেখানে শেষ হয়েছে ঠিক সেখান থেকেই যেন শুরু করেছে বাংলাদেশ, বরং আরও বেশি বিপর্যস্ত। ইনদোরে দুই ইনিংসে করেছে যথাক্রমে ১৫০ ও ২১৩। ইডেনে প্রথম ইনিংসে গুটিয়ে যায় মাত্র ১০৬ রানে। নামের পাশে কোন রান যোগ করার আগেই সাজঘরের পথ ধরেন চার ব্যাটসম্যান (মিঠুন, মুশফিক, মুমিনুল ও রাহী)। দুই অঙ্ক ছুঁয়েছেন মাত্র তিনজন, ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ সাদমানের ২৯!

নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানো বাংলাদেশকে কিছুটা পথ দেখাচ্ছিলেন লিটন কুমার দাস, কিন্তু শামির দেওয়া বাউন্সার কেবল ইংসই নয় ম্যাচ থেকেই ছিটকে দেয় লিটনকে। শামির দেওয়া বাউন্সার ব্যাটে বলে সংযোগ করাতে না পেরে আঘাত পান মাথায়, কিন্তু ব্যাটিং চালিয়ে যান লিটন দারুণ শটে হাঁকান দুটি চারও। এক পর্যায়ে ব্যথা সহ্য করতে না পেরে ছাড়েন মাঠ, ঠিকানা হয় হাসপাতাল। প্রথমবারের মত বাংলাদেশ সুবিধা নেয় কনকাশন বদলি ক্রিকেটারের, লিটনের জায়গায় মিরাজই হয়ে যান একাদশের অংশ।

২৭ বলে ৫ চারে ২৪ রান করা লিটনে পরিবর্তে ব্যাট করা মিরাজ করতে পারেননি ৮ রানের বেশি। শেষদিকে ২৮ বলে ৪ চারে ১৯ রান করেন নাইম হাসান। এই ইনিংস খেলার পথেই শামির বাউন্সার আঘাত হানে নাইমের মাথায়ও, ইনিংসের মাঝপথে মাঠ না ছাড়লেও ই নিংস শেষে স্ক্যান করাতে তাকেও যেতে হয় হাসপাতালে। দুঃসংবাদ আসে সেখান থেকেও, নাইমের পরিবর্তে দ্বিতীয় কনকাশন হিসেবে মাঠে নামেন তাইজুল ইসলাম।

গত অ্যাশেজ সিরিজ দিয়ে কনকাশন বদলি ক্রিকেটার নিয়ম চালুর পর এটিই এক ম্যাচে দুই কনকাশন বদলি ক্রিকেটারের ঘটনা। লিটনের পরিবর্তে নামা মিরাজ কেবল ব্যাটিং করতে পারলেও নাইমের বদলি তাইজুল করতে পারছেন ব্যাটিং-বোলিং দুটোই। মজার বিষয় এ নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কনকাশন বদলির ঘটনা ঘটেছে ৬ টি যার ৪ টি ঘটেছে ভারতীয় বোলারদের আঘাতে।

২২ রান খরচায় ইশান্ত শর্মা ১০ম বারের মত তুলে নেন ইনিংসে ৫ উইকেট, উমেশ যাদবের শিকার তিনটি ও মোহাম্মদ শামির দুটি। জবাবে ব্যাট করতে নেমে মায়াঙ্ক আগারওয়াল ও রোহিত শর্মা শুরু করেন বেশ সাবলীল্ভাবেই, প্রথম বলেই চার দিয়ে শুরু, ওভার থেকে আসে ১১ রান। এরপর অবশ্য শঙ্কা জেগেছিল বিপর্যয়ের তবে ভারতীয় শক্ত ব্যাটিং লাইন আপ সেটা আর হতে দিল কই? দলীয় ২৪ রানে ১৪ রান করে আল আমিনের শিকার আগারওয়াল, ৩২ রানে ফিরতে পারতেন রোহিত শর্মাও।

তবে এবার আল আমিনের সহজ ক্যাচ মিসে ব্যক্তিগত ১২ রানে জীবন পায় রোহিত, উইকেট বঞ্চিত হয় আবু জায়েদ। জীবন পেয়েও অবশ্য বেশি দূর যেতে পারেনি রোহিত ২১ রান করে এবাদতের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন। এরপর কাপ্তান ভিরাট কোহলি ও চেতেশ্বর পুজারার ৯৪ রানের জুটিতে বিপর্যয়ের শঙ্কা দূরে সরায় ভারত। ৫৫ রান করে এবাদতের দ্বিতীয় শিকার হয়ে ফেরেন পুজারা, পুজারার বিদায়ের পরে আজিঙ্কা রাহানেকে নিয়ে নিরাপদেই দিনের বাকি অংশ পার করেন কোহলি।

দুজনে অবিচ্ছেদ্য জুটিতে যোগ করেন ৩৭ রান। ততক্ষণে ফিফটি তুলে নেন কাপ্তান কোহলি, ফিফটির পথে গড়েন অধিনায়ক হিসেবে দ্রুততম ৫০০০ রানের রেকর্ড। ৯৭ ইনিংসে করা রিকি পন্টিংয়ের রেকর্ড পেছনে ফেলে এখন কোহলির ৮৬ ইনিংসে ৫০০০ রান আছে শীর্ষে। শেষ পর্যন্ত ৯৩ বলে ৮ চারে ৫৯ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেন কোহলি, অন্যদিকে সঙ্গী রাহানে অপরাজিত থাকেন ২৩ রানে। ৬১ রান খরচায় এবাদতের শিকার দুটি ও ৪৯ রান খরচায় আল আমিনের একটি উইকেট।

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

লিটনের পর ইডেন টেস্ট থেকে ছিটকে গেলেন নাইম হাসান

Read Next

প্লে-অফে নিশ্চিত হল বাংলা টাইগার্সের প্রতিপক্ষ

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।