এক নজরে মাঝপথে ক্রিকেট সিরিজ বাতিলের ইতিহাস

ক্রিকেট ইতিহাসে মাঝপথে সিরিজ বাতিলের ঘটনা কম নয়। তবে নিউজিল্যান্ডবাংলাদেশ টেস্ট সিরিজ বাতিলের মতো এতো বড় রক্তাক্ত ইতিহাস নেই ক্রিকেট ইতিহাসে। ২০০৯ সালে লাহোরে শ্রীলঙ্কার টিম বাসে হামলার পর পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিষিদ্ধ। এবার ক্রাইস্টচার্চের এই ঘটনা নতুন আরেকটি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে আইসিসিকে। আশার কথা হলো বাংলাদেশ ক্রিকেট দল হামলার মধ্যে পড়েনি এবং প্রত্যেকে নিরাপদে আছেন। হ্যাগলি ওভালের ম্যাচটি এরইমধ্যে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। দেশে ফিরে আসছেন বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা।

প্রায় এক দশক আগে পাকিস্তানের লাহোরে শ্রীলংকা দলের ওপর সন্ত্রাসী হামলা হয়েছিল। এরপর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজনের অধিকার একপ্রকার হারিয়েছে পাকিস্তান। ২০০৯ সালের সেই ঘটনাও ছিল মার্চে। ৩ মার্চ। এরপর অনেক দেশে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। কিন্তু খেলোয়াড়দের তার মধ্যে পড়তে হয়নি। এবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ আবার লাহোরের ঘটনা মনে করিয়ে দিল।

যখন ক্রিকেট সিরিজে থাবা বসিয়েছে রাজনৈনিক অস্থিরতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সন্ত্রাসবাদ, অতীতের ঘটনাগুলি

১৮৯০ সাল সেই থেকে ধরলে গত ১২৯ বছরে এখন পর্যন্ত ২৯টি ক্রিকেটীয় সিরিজ বাতিল হয়েছে অরাজনৈতিক সংঘাত, যুদ্ধবিগ্রহ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে।

প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সর্বাধিক ১৭টি সিরিজ স্থগিত করা হয়েছিল। তবে সিরিজের মাঝপথে বাতিল হয় ১০টি সিরিজ।

সাম্প্রতিককালে সফরের মাঝপথে সিরিজ বাতিল হয়েছিল ২০০৯ সালে পাকিস্তান-শ্রীলংকা সিরিজ চলাকালে। লাহোরে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারদের বহনকারী টিম বাসে হামলা করলে আহত হন বেশ কিছু ক্রিকেটার।  ক্রিকেট ইতিহাসে সব থেকে ভয়ংকর জঙ্গি হামলা। প্রথম বার জঙ্গি হামলার লক্ষ্যবস্তু হলেন ক্রিকেটাররা। লাহোরের গদ্দাফি স্টেডিয়ামের কাছেই শ্রীলঙ্কার টিম বাস লক্ষ্য করে হামলা চালাল বারো জন জঙ্গি। ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় ছয় পুলিশকর্মী এবং দুই সাধারণ নাগরিকের। গুলি লেগে কমবেশি আহত হলেন শ্রীলঙ্কার ছ’জন ক্রিকেটার। এরপর থেকে পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিষিদ্ধ।

মে ২০০২– ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল পাকিস্তানের করাচি। নিউজিল্যান্ড টিম হোটেলের পাশেই ঘটা এই বিস্ফোরণের জেরে সফর বাতিল করে দেশে ফিরল নিউজিল্যান্ড দল।

নভেম্বর ২০০৮– মুম্বাইয়ে ২৬/১১ জঙ্গি হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ভারত সফর বাতিল করে ফিরে গেল ইংল্যান্ড। তবে নিরাপত্তার আশ্বাস পেয়ে ফের ভারতে আসার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। তবে মুম্বাই এবং আহমেদাবাদে পরিবর্তে দু’টি টেস্ট আয়োজিত হয় চেন্নাই এবং মোহালিতে।

আরও পেছনে ফিরলে দেখা যায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে ১৯৩৯ সালে ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার সিরিজের শেষ ৭ ম্যাচ বাতিল করা হয়।

১৯৮৪ সালে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী হত্যার শিকার হলে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার চলমান সিরিজের শেষ ৩ ম্যাচ অসমাপ্ত রেখেই দেশে ফিরিয়ে আনা হয় ভারতীয় ক্রিকেট দলকে।

১৯৮৭ ও ২০০৬ সালে শ্রীলঙ্কায় বোমা হামলার ঘটনায় নিউজিল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকা চলমান সিরিজ বাতিল করে দেশে ফিরে যায়।

তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ছাত্র আন্দোলনের কারণে ১৯৬৮-৬৯ সালে ঢাকাতে টেস্ট ম্যাচ পরিত্যাগ করে ফিরে যায় ইংল্যান্ড দল।

আর ১৯৯২ সালে বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ভারতে বাবরী মসজিদ ধ্বংসের প্রেক্ষিতে গ্যালারিতে গোলযোগ সৃষ্টি হয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে সার্ক ক্রিকেট টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা  করা হয়। ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলংকা ক্রিকেট দল বাংলাদেশ ছাড়ে। এবং টুর্নামেন্ট বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

তবে এতটা রক্তাক্ত ছিল না সে সবের কোনো অধ্যায়। যতটা ঘটল এবার ক্রাইস্টচার্চে। রক্তের এই দাগ ক্রিকেট ও ক্রিকেটারদের মনের উপর যে ছাপ ফেলল তা আইসিসিকে নতুন ভাবে ভাবাবে নিশ্চয়। আর শুধু উপমহাদেশ নয় সন্ত্রাসী হামলার উর্বর ক্ষেত্র এখন পশ্চিমা ও উন্নত দেশগুলো। নিউজিল্যান্ডের মতো শান্তিপ্রিয় দেশে এই হামলা বিশ্বকে নাড়া দিয়েছে। ক্রিকেট বিশ্বকেও নাড়া দিয়েছে হামলাটি।

97 Desk

Read Previous

ক্রাইস্টচার্চ থেকে রওনা হয়েছেন ক্রিকেটাররা

Read Next

মনে ভয়, চোখ জুড়ে আতংক, বাড়ি ফেরার তাড়না

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Total
0
Share
error: Content is protected !!