আর কখনোই অধিনায়ক হবেন না মুশফিক

১৪ বছর আগে বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক অভিষেক, অনেক চড়াই উতরাই পেরিয়ে তিনি এখন মি. ডিপেন্ডেবল বলে খ্যাত। গত কয়েকবছর ধরে বাংলাদেশের যে পাঁচজন ক্রিকেটার সামনে থেকে টেনে নিয়েছেন বাংলাদেশ দলকে মুশফিক তাদেরই একজন। একসময় দলের অধিনায়ক ছিলেন এখন প্রস্তাব পেয়েও ফিরিয়ে দেন, জাতীয় দৈনিক সমকালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন বিশ্বকাপে উইলিয়ামসনের রান আউট মিস করা প্রসঙ্গেও।

ছবিঃ ক্রিকেট৯৭

বাংলাদেশের জার্সিতে খেলে ফেলেছেন ৩৫৯ আন্তর্জাতিক ম্যাচ, রান করেছেন ১১ হাজারের বেশি, লম্বা সময় তিন ফরম্যাটেই ছিলেন অধিনায়ক। অভিজ্ঞতায় টইটুম্বুর বলতে যা বোঝায় ঠিক তাই যেন মুশফিকুর রহিম। মাঠে কিংবা মাঠের বাইরে তার নিবেদন হতে পারে অনেকের জন্যই উদাহরণ। তবে মাঝেমধ্যে উইকেট কিপিংয়ে করে বসেন ভুল, যা একজন ক্রিকেটারের জন্য স্বাভাবিক হলেও দেশের ক্রিকেটের ভক্ত-সমর্থকরা নিতে পারেননা স্বাভাবিকভাবে।

সবশেষ বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ড ম্যাচে তীরে গিয়ে তরী ডুবায় বাংলাদেশ, যেখানে বেশ ভালোভাবে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয় মুশফিককে। কেন উইলিয়ামসনের সেই রান আউট মিস নিয়ে কম বিদ্রুপের স্বীকার হননি। এতদিন পর এসেও নিজেও বলছেন খারাপ লেগেছে তবে ম্যাচ হারার পেছনে এটাই মূল কারণ ছিল মানতে নারাজ মুশফিক, “খারাপ লাগাটাই স্বাভাবিক। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ছিল ওটা। কেন উইলিয়ামসন নিউজিল্যান্ডের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান। সে খেলছিলোও ভাল। অনেকেই ভেবেছে ওই রান আউটটা হলেই বুঝি আমরা ম্যাচ জিতে যাই। কিন্তু উইলিয়ামসন ফিরে গেলেও টম লাথাম বা অন্য কেউ এসে একটা ইনিংস খেলে ম্যাচ বের করে আনতে পারতো।”

ফাইল ছবি

ওই রান আউট ছাড়াই শেষ পর্যন্ত লড়েছে বাংলাদেশ। মুশফিকও বলছেন রান আউটটা হলে আরও কাছে যাওয়া যেত, তবে এসব খেলার অংশ বলে বিদ্রুপ নয় বরং পরের ম্যাচগুলোয় ভালো করতে চান সমর্থন, “আমরা খুব কাছে গিয়ে হেরেছি। ওই রান আউটটা করতে পারলে ম্যাচ আরো ক্লোজ হত। কিন্তু এসব খেলারই অংশ। তবে এ জিনিসগুলো নিয়ে সবসময় আলোচনা না করাই ভালো। যে ভুল করে তারইতো খারাপ বেশি লাগে, তাকেতো আরও খেলতে হবে। এছাড়া শুধু রানআউটের জন্যই আমরা হারিনি। অন্তত ৩০ রান কম করেছি। আমি কিংবা মিঠুন ওই সময় আউট নাহলে ও সাকিব আরেকটু টিকলে ২০-৩০ রান এসে যেত।”

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ দলের ভেতরের খবর বাইরে আসা নিয়ে হয়েছে বেশ সমালোচনা। ড্রেসিংরুমের খবর বাইরে আসাটা ক্রিকেটারদের জন্যও অস্বস্তির বলছেন টাইগার ব্যাটিং ভরসা মুশফিক, “যেকোন পরিবারেই কিছু না কিছু হয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ড্রেসিং রুম একটি পরিবারের মত এখানে আমরা পরিবারের চেয়ে বেশি সময় থাকি। এখানে একটু আধটু মনোমালিন্য হতেই পারে। পরিবারের ভেতর স্বাধীন মত প্রকাশের সুযোগ না থাকলে চাপ বাড়ে। বিশ্বকাপেই নয় এর আগেও ভেতরের খবর বাইরে এসেছে। ড্রেসিংরুমের কথা বাইরে আসা কোনভাবেই ভালো নয়।”

ফাইল ছবি

২০১১ সালে সাকিবের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া অধিনায়কত্ব তুলে দেওয়া হয় মুশফিকুর রহিমকে। ২০১৪ সালে ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্বে আসে আবার রদবদল। মুশফিক থাকেন কেবল টেস্ট অধিনায়ক, মাশরাফিই রঙ্গিন পোশাকে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক হন। ২০১৭ সালে টেস্ট অধিনায়কত্বটাও সাকিবের উপর ছেড়ে দিয়ে নির্ভার থাকা মুশফিক বলছেন আর কখনোই অধিনায়কত্ব নিবেননা, মাশরাফির চোটে লঙ্কা সফরে প্রস্তাব পেয়েও দিয়েছেন ফিরিয়ে। মুশফিক বলেন, “আমার কাছে প্রস্তাব এসেছিল। আন্তরিকভাবেই আমি বিসিবিকে না করেছি, আমার মনে হচ্ছে অধিনায়ক হিসেবে আমার আর দেওয়ার কিছু নেই। ভবিষ্যতেও আমি আর অধিনায়ক হতে চাইনা।”

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

১৮ বছর পরেও আক্ষেপ রয়েছে গিলক্রিস্টের

Read Next

যে বিশ্বরেকর্ডে গাভাস্কারের সঙ্গে আছে হান্নান সরকারের নাম

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।