বিপিএলের ক্ষতি অপূরণীয়, তাৎক্ষণিক সুবিধা ছেড়ে টেকসই ভবিষ্যতের পথে কোয়াব

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ: 1 ঘন্টা আগে আপডেট: 1 সেকেন্ড আগে
বিপিএলের ক্ষতি অপূরণীয়, তাৎক্ষণিক সুবিধা ছেড়ে টেকসই ভবিষ্যতের পথে কোয়াব

বিপিএলের ক্ষতি অপূরণীয়, তাৎক্ষণিক সুবিধা ছেড়ে টেকসই ভবিষ্যতের পথে কোয়াব

বিপিএলের ক্ষতি অপূরণীয়, তাৎক্ষণিক সুবিধা ছেড়ে টেকসই ভবিষ্যতের পথে কোয়াব

চলতি বছরে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) স্থগিত হয়ে যাওয়ার ধাক্কায় বিশাল অংকের আয় থেকে বঞ্চিত হতে চলেছেন দেশের ক্রিকেটাররা। বিশেষ করে টুর্নামেন্টটির নিয়মিত অংশগ্রহণকারী ও চড়া পারিশ্রমিক পাওয়া খেলোয়াড়দের জন্য এই ক্ষতি অত্যন্ত তীব্র। তবে এই আকস্মিক দুর্যোগকে সুযোগে বদলে দিতে এককালীন স্বল্পমেয়াদি ক্ষতিপূরণ না নিয়ে দীর্ঘমেয়াদে প্রায় দেড়শো থেকে দুইশো ঘরোয়া ক্রিকেটারের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার পথ বেছে নিয়েছে দেশের ক্রিকেটারদের সংগঠন।

মঙ্গলবার বিকেলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সঙ্গে খেলোয়াড় প্রতিনিধিদের দীর্ঘ দ্বিতীয় দফার বৈঠক শেষে বিস্তারিত তুলে ধরেন ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন। তিনি সুস্পষ্টভাবে জানান, বিপিএলের যে অর্থনৈতিক ক্ষতি তা রাতারাতি অন্য কোনো উপায়ে পুষিয়ে দেওয়া অবাস্তব। ফলে রুটিন ঘরোয়া টুর্নামেন্টগুলোর মাধ্যমে কাঠামোগত আর্থিক রূপরেখা তৈরির দিকেই নজর দিচ্ছেন তারা।

ক্রিকেট বোর্ডের সাথে আলোচনা প্রসঙ্গে মোহাম্মদ মিঠুন উল্লেখ করেন, ‘প্রথমত, বিপিএল না হওয়ার বিকল্প কিছু করে খেলোয়াড়দের সেই ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার মতো অবস্থা এখন নেই এবং সেটি হবেও না। বিপিএলের পরিবর্তে অন্য কিছু হচ্ছে না। আমাদের যে খেলাগুলো রুটিন অনুযায়ী হওয়ার কথা, যেমন এনসিএল বা বিসিএল, সেগুলোর মাধ্যমে খেলোয়াড়রা আর্থিকভাবে কতটুকু উপকৃত হতে পারে, সেই দিকটি নিয়েই বেশি আলোচনা হয়েছে।’

এই প্রস্তাবনাটি কেবল কোয়াবের নেতৃত্বস্থানীয়দের সিদ্ধান্ত নয়, বরং জাতীয় দলের অধিনায়ক ও জ্যেষ্ঠ ক্রিকেটারদের সম্মিলিত মতামতের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। মিঠুন ব্যাখ্যা করেন, ক্রিকেটারদের সামনে দুটি পথ খোলা ছিল তাৎক্ষণিক কিছু অর্থ সহায়তা গ্রহণ করা, অথবা ভবিষ্যতের কথা ভেবে অন্তত দেড়শো থেকে দুইশো ক্রিকেটারের জন্য একটি স্থায়ী আর্থিক বন্দোবস্ত করা।

সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে কোয়াব সভাপতি জানান, ‘আমাদের কাছে দুটি বিকল্প ছিল। একটি হলো বিপিএলের পরিবর্তে সাময়িকভাবে আর্থিক সহায়তা নেওয়া, আর অন্যটি হলো দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা করা, যার মাধ্যমে ১৫০-২০০ ক্রিকেটার উপকৃত হবে। আমরা শুধু ৫০-৭০ জন খেলোয়াড়ের কথা চিন্তা না করে কীভাবে ১৫০-২০০ খেলোয়াড় ভবিষ্যতে উপকৃত হতে পারে এবং বিষয়টি যেন টেকসই হয়, সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

গত কয়েক বছর ধরে ঘরোয়া ক্রিকেটের অনিয়মিত সূচি এবং ক্লাবগুলোর পারিশ্রমিক বকেয়া রাখার প্রবণতা নিয়ে ক্রিকেটারদের মধ্যে যে চরম অসন্তোষ জমা হয়েছিল, সংবাদ সম্মেলনে তাও আড়াল করেননি মিঠুন। ক্রিকেটারদের মূল লক্ষ্য এখন একটাই খেলোয়াড়দের রুটি-রুজিকে কেবল একটি বা দুটি নির্দিষ্ট টুর্নামেন্টের দয়ার ওপর ছেড়ে না দেওয়া।

অনিয়মিত ঘরোয়া সূচির ফলে উদ্ভূত সংকট তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘গত ৫ বছর ধরে প্রিমিয়ার লিগ ও বিপিএল খুব অনিয়মিত হয়ে গেছে। কোভিডের পর থেকে এই খেলাগুলো নিয়ে এবং পারিশ্রমিক নিয়ে আমাদের অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়। আমাদের দাবি ছিল যেন আমাদের জীবিকা শুধু বিপিএল বা প্রিমিয়ার লিগের ওপর নির্ভরশীল না থাকে। ক্রিকেট বোর্ড এমন কিছু আয়োজন করবে, যার মাধ্যমে আমাদের আর্থিক স্বচ্ছলতা নিশ্চিত হবে।’