পুনের এতিমখানা থেকে আইসিসির ‘হল অফ ফেম’

লিসা স্থালেকার

প্রত্যেক সফলতার গল্পের পেছনে এক লম্বা গল্প থাকে। বেশিরভাগ অ্যাথলেটদের জন্য এই কথা বিশেষভাবে প্রযোজ্য। অনেক খেলোয়াড় খুবই সাধারণ পরিবেশে বেড়ে উঠে সমস্ত প্রতিকূলতার সম্মুখিন হয়ে নিজের জায়গা তৈরি করেছে।

এমনই এক খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়ার নারী দলের সাবেক অলরাউন্ডার লিসা স্থালেকার। কিছুদিন আগেই আইসিসির হল অফ ফেমে অন্তর্ভূক্ত হয়েছেন লিসা। তার অর্জনের মত তার জীবনের গল্পটাও অনুপ্রেরণাদায়ক।

১৯৭৮ সালে লিসা স্থালেকারের পালক বাবা-মা যখন তাকে দত্তক নেন, তখন তার বয়স ছিল কেবল ৩ সপ্তাহ। পুনের এক এতিমখানা থেকে লিসাকে দত্তক নেন এক দম্পতি।

জন্মগতভাবে লিসা স্থালেকার একজন ভারতীয়। এমনিতে তার নাম ছিল লায়লা। তার পিতা-মাতা ভরপোষণের খরচ মেটাতে না পেরে তাকে এতিমখানায় দিয়ে যায়।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে এক দম্পতি একজন ছেলে বাচ্চা দত্তক নেবার জন্য এসেছিলেন। তবে লিসাকে দেখে তাদের পছন্দ হওয়ায় তাকেই দত্তক নেন তারা। এবং সাথে করে যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে যান।

৪ বছর যুক্তরাষ্ট্র ও কেনিয়াতে বসবাস করে লিসা স্থালেকারের পালক বাবা-মা অস্ট্রেলিয়াতে স্থায়ী নিবাস গড়েন। সেখানেই ক্রিকেটার হবার সুযোগ আসে লিসার সামনে।

২০০১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া নারী দলের পক্ষে ৮ টেস্ট, ১২৫ ওয়ানডে ও ৫৪ টি টি-টোয়েন্টি খেলেন লিসা স্থালেকার। রান করেন যথাক্রমে ৪১৬, ২২৭৮ ও ৭৬৯। বল হাতে তিন ফরম্যাটে তার উইকেট যথাক্রমে ২৩, ১৪৬ ও ৬০।

নারীদের ক্রিকেটে ওয়ানডে ফরম্যাটে ১০০০ রান ও ১০০ উইকেটের ডাবল গড়া প্রথম কোন অলরাউন্ডার লিসা স্থালেকার।

ক্রিকেটের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবার কৃতিত্ব লিসা দেন তার পালক বাবাকে। লিসা দ্য প্রিন্টকে বলেন, ‘আমার বাবা খেলাটাকে ভালবাসতেন এবং বাড়ির উঠানে আমি তার সঙ্গে অনেক খেলেছি। আমি ৮-৯ বছর বয়সেই খেলাটাকে ভালবেসেছিলাম।

দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় ২০১২ সালে লিসা পুনের এতিমখানা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন, যেখানে তার জীবনের মোড় বদলে গিয়েছিল।

A brave but incomplete story | ESPNcricinfo.com

নিজের লেখা বই ‘শেকার’ এ মানসিক অবসাদ নিয়েও সোজাসাপ্টা লিখেছেন লিসা। এর কারণ হিসাবে লিসা দেখান যে এই গল্প যদি কাউকে অনুপ্রাণিত করে।

লিসা বলেন, ‘আপনার নিজের জীবনের খুবই ব্যক্তিগত ব্যাপার আলোচনা করা শক্ত। যদিও আমি মনে করি যদি এটা পড়ে অন্য কেউ একই রকম মনে করে তাহলে সে ভাববে সে একা নয়। এছাড়া আমি যেসব শিক্ষা পেয়েছি জীবন থেকে তা অন্যের জন্য শিক্ষণীয় হতে পারে।’