আসিফ নজরুলের একক সিদ্ধান্তেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলেনি বাংলাদেশ, এনএসসির তদন্ত প্রতিবেদন

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ: 1 ঘন্টা আগে আপডেট: 1 সেকেন্ড আগে
আসিফ নজরুলের একক সিদ্ধান্তেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলেনি বাংলাদেশ, এনএসসির তদন্ত প্রতিবেদন

আসিফ নজরুলের একক সিদ্ধান্তেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলেনি বাংলাদেশ, এনএসসির তদন্ত প্রতিবেদন

আসিফ নজরুলের একক সিদ্ধান্তেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলেনি বাংলাদেশ, এনএসসির তদন্ত প্রতিবেদন

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতির নেপথ্যে মূল কারিগর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। কোনো সম্মিলিত আলোচনা নয়, বরং তার একক সিদ্ধান্তের খেসারত হিসেবেই দল শেষ পর্যন্ত বৈশ্বিক এই আসরে মাঠে নামতে পারেনি। দীর্ঘ ছয় মাসের নিবিড় তদন্ত শেষে প্রকাশ্যে আসা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

বিশ্বকাপ বর্জনের মতো সংবেদনশীল ও বিতর্কিত সিদ্ধান্তটি কেন এবং কীভাবে নেওয়া হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে গত মার্চে তিন সদস্যের একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করে এনএসসি। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর মঙ্গলবার আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর এই প্রতিবেদনের মূল পর্যবেক্ষণগুলো তুলে ধরেন। তিনি সাবেক উপদেষ্টার একক ভূমিকা স্পষ্ট করে বলেন,

 ‘তদন্তে পাওয়া তথ্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আমাদের আলোচনা, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনসহ সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে বলা যায়, বিশ্বকাপে না যাওয়ার পেছনে তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলই দায়ী। সে সময়ের সরকার ও তিনি এর জন্য দায়ী।’

মাঠে না গিয়ে টুর্নামেন্ট বয়কট করার এই নীতিগত পদক্ষেপটি যে দেশের ক্রিকেটের জন্য চরম নেতিবাচক এবং অনভিপ্রেত ছিল, তা স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে কমিটির মূল সুপারিশে। সব ধরনের প্রতিকূলতা বা জটিলতা সত্ত্বেও লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্ব বজায় রাখা জরুরি ছিল মন্তব্য করে ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘বাংলাদেশের অবশ্যই বিশ্বকাপে গিয়ে খেলা উচিত ছিল।’

তবে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দায় শুধু মন্ত্রণালয়ের একক কাঁধে ছিল না; তৎকালীন ক্রিকেট বোর্ডের নিষ্ক্রিয়তা এবং সরকারের সুরে সুর মেলানোর বিষয়টিও প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। তদন্তের তথ্যানুযায়ী, ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নেওয়া এই চরমপন্থী সিদ্ধান্তকে নির্দ্বিধায় সমর্থন জানিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সরকারের ইচ্ছাকেই বিসিবি তাদের নিজস্ব অবস্থান হিসেবে গ্রহণ করেছিল, যার খেসারত গুণতে হয় দলকে।

উল্লেখ্য, ক্রিকেট বিশ্বের বড় আসর থেকে দল প্রত্যাহারের পেছনে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রকৃত ভূমিকা ও তৎকালীন অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতেই এই বিশেষ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. এ.কে.এম. ওলি উল্লাহর নেতৃত্বে পরিচালিত এই কমিটিতে অন্য সদস্য হিসেবে ছিলেন দেশের সাবেক সফল অধিনায়ক ও বর্তমান প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার।