প্রতিমন্ত্রীর ঘোষণার পরও অচলাবস্থা, দখল ও অনিয়মের বেড়াজালে ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাব
প্রতিমন্ত্রীর ঘোষণার পরও অচলাবস্থা, দখল ও অনিয়মের বেড়াজালে ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাব
প্রতিমন্ত্রীর ঘোষণার পরও অচলাবস্থা, দখল ও অনিয়মের বেড়াজালে ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাব
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের ঘোষণার কয়েক মাস পার হলেও বাস্তবে থমকে রয়েছে ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাবের আধুনিকায়ন ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়া। ব্যক্তি-বা অনুদাননির্ভরতা কমিয়ে ক্লাবটিকে একটি স্বনির্ভর ও আধুনিক স্পোর্টস কমপ্লেক্সে রূপ দেওয়ার রূপরেখা তৈরি হলেও, মাঠ নিয়ন্ত্রণ ও আর্থিক অব্যবস্থাপনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে তীব্র অনিশ্চয়তা।
গত ৯ মে ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাব পরিদর্শনে এসে মন্ত্রী ফুটবল, ক্রিকেট ও হকির পাশাপাশি অন্যান্য ডিসিপ্লিন যুক্ত করার নির্দেশ দেন। তবে ক্লাব-সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাসের পর দৃশ্যমান কোনো সংস্কার হয়নি। উল্টো অভিজ্ঞ কোচ ও প্রশিক্ষকদের সরিয়ে দেওয়া, ধানমন্ডি সোসাইটির একতরফা প্রভাব বিস্তার এবং স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে ক্লাব দখলের চেষ্টার ফলে পুরো ক্রীড়া কার্যক্রম ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, একাডেমি থেকে অর্জিত আয়ে চরম অস্বচ্ছতা তৈরি হয়েছে। আগে ক্রিকেট ও ফুটবল একাডেমির ভর্তি ও মাসের ফি ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করা হলেও বর্তমানে নগদ অর্থে লেনদেন করা হচ্ছে। এতে করে প্রতি মাসে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি প্রায় এক যুগ ধরে বার্ষিক ২০ কোটি টাকার বেশি অর্থায়ন করা নিয়মিত পৃষ্ঠপোষকদের সঙ্গেও ক্লাব কর্তৃপক্ষের দূরত্ব তৈরি করা হয়েছে।
মাঠ ও ক্লাব পুনর্গঠনের পথে একাধিক সংকট এখন প্রকাশ্যে:
স্বচ্ছতার অভাব ও নতুন প্রভাব: ২০২৫-২৭ মেয়াদের ধানমন্ডি সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল ওয়াসিক খান অলকের সম্পৃক্ততায় সরকারি এই মাঠটি ও ক্লাবের ওপর একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রভাব তৈরি হয়েছে। পেশাদার ক্রীড়া কর্মকর্তাদের বদলে অ-ক্রীড়া ব্যক্তিত্বদের অন্তর্ভুক্তিতে ক্লাবের ঐতিহ্য হুমকিতে পড়েছে।
ক্রিকেট ও ফুটবলে অনিশ্চয়তা: ২০২৫-২৬ মৌসুমে ঢাকা প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়ে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে (ডিপিএল) উন্নীত হওয়া সত্ত্বেও আগামী মৌসুমের দল গঠন ও নিবন্ধন নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। একইভাবে ফুটবলে ফেরার ঘোষণা থাকলেও সুনির্দিষ্ট কোনো রোডম্যাপ নেই।
দখলদারিত্বের অভিযোগ: স্থানীয় অপরাধী ও প্রভাবশালী মহলকে ব্যবহার করে ক্লাবের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং অভিজ্ঞ কোচ ও ক্রীড়াবিদদের ভয়ভীতি দেখানোর গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
