ঘরোয়া ক্রিকেটে সততা রক্ষায় স্বাধীন বিসিবি, তদন্ত প্রক্রিয়া জানালেন ইন্টিগ্রিটি প্রধান অ্যালেক্স মার্শাল

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ: 50 মিনিট আগে আপডেট: 1 সেকেন্ড আগে
ঘরোয়া ক্রিকেটে সততা রক্ষায় স্বাধীন বিসিবি, তদন্ত প্রক্রিয়া জানালেন ইন্টিগ্রিটি প্রধান অ্যালেক্স মার্শাল

ঘরোয়া ক্রিকেটে সততা রক্ষায় স্বাধীন বিসিবি, তদন্ত প্রক্রিয়া জানালেন ইন্টিগ্রিটি প্রধান অ্যালেক্স মার্শাল

ঘরোয়া ক্রিকেটে সততা রক্ষায় স্বাধীন বিসিবি, তদন্ত প্রক্রিয়া জানালেন ইন্টিগ্রিটি প্রধান অ্যালেক্স মার্শাল

মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সংবাদ সম্মেলন কক্ষটি প্রতিদিনের চেনা কোলাহল ছাড়িয়ে সেদিন কিছুটা যেন অতিরিক্ত গম্ভীর ছিল। ফিক্সিং আর দুর্নীতির কালো ছায়া দূর করে দেশের ক্রিকেটকে কলঙ্কমুক্ত রাখার পেছনের অদৃশ্য কার্যক্রম তুলে ধরতেই সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন বিসিবির স্বাধীন ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের প্রধান অ্যালেক্স মার্শাল। মাঠের পারফরম্যান্সের পেছনে যে দুর্নীতিবিরোধী একটি শক্তিশালী নজরদারি কাজ করে, বিপিএলে সম্প্রতি ৩ জন এবং ইতিপূর্বে আরও ৫ জনের বিরুদ্ধে গৃহীত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা যেন তারই প্রত্যক্ষ প্রমাণ। 

মূলত বিসিবির অধীনে দেশের সমস্ত ঘরোয়া টুর্নামেন্টের দুর্নীতি প্রতিরোধে স্বাধীনভাবে কাজ করে চলেছে এই ইউনিট। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দায়িত্ব আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) হাতে থাকলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে সন্দেহজনক যেকোনো বিষয় নজরে এলে বিসিবি তা খতিয়ে দেখে, আবার আইসিসি আন্তর্জাতিক কোনো তথ্য ফেলে বিসিবিকে জানায়। 

তদন্ত প্রক্রিয়ার এই খুঁটিনাটি দিক ও কাঠামোগত স্বাধীনতার চিত্র সাংবাদিকদের সামনে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করেন অ্যালেক্স মার্শাল।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ও ঘরোয়া ক্রিকেটে ক্ষমতার ভাগাভাগি এবং বিসিবির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে নিজের সরাসরি দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করে অ্যালেক্স মার্শাল পুরো কাঠামোর স্বাধীনতা তুলে ধরেন। কোনো বহিরাগত বা প্রশাসনিক প্রভাব যে এই তদন্তে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না, সে বিষয়টি স্পষ্ট করে তিনি বলেন

"আমি চেয়েছি এই সুযোগটা কাজে লাগাতে যেন ফিক্সিং এবং দুর্নীতি সংক্রান্ত বিষয়গুলো পরিষ্কার করে জানাতে পারি। ফিক্সিং, অ্যান্টি করাপশন ইউনিট কোড এসবই আমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। আমি স্বাধীন ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের প্রধান হিসেবে কাজ করছি। আমার একটা ইউনিট আছে, বাংলাদেশি লোকজন আছে আমার সাথে। সভাপতির কাছে আমি রিপোর্ট করি। আমার কাজ একেবারেই স্বাধীন এবং গোপন। কেউ এসে আমাকে কিছু বলতে পারে না যে, কীভাবে তদন্ত করতে হবে, কাকে নিয়ে তদন্ত করতে হবে বা এসব কিছু। তবে দিনশেষে তদন্ত শেষে জেনারেল কাউন্সিল সভাপতির সাথে আলাপ করে জানায় কাউকে শাস্তি দেওয়া হবে কিনা।"

কোনো সন্দেহজনক প্রস্তাব বা ফিক্সিংয়ের উদ্যোগ থেকে শুরু করে শাস্তির প্রক্রিয়া পর্যন্ত একটি তথ্য ঠিক কীভাবে তদন্তের রূপ নেয়, সেই প্রাথমিক পর্যায়টি বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেন তিনি। একই সাথে আইসিসি ও বিসিবির নিজস্ব দায়িত্বের সীমারেখা এবং তথ্যের আদান-প্রদানের বিষয়টি সামনে এনে অ্যালেক্স মার্শাল বলেন

"কীভাবে তদন্ত কাজ করে তা আমি জানাচ্ছি। শুরুতে আমরা একটি ইস্যু গ্রহণ করি। ধরুন কোনো প্লেয়ার বললো যে, কেউ আমাকে বলেছে খারাপ খেলতে বিনিময়ে তারা আমাকে টাকা দেবে। এটাই ফিক্স করার প্রথম ধাপ। ম্যানেজার বা কোচ বা সাংবাদিকদের কাছেও তথ্য থাকলে তারা ইউনিটকে এটা জানায়। আইসিসিও আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশে কিছু দেখতে পেলে সেগুলো বিসিবির কাছে পাঠিয়ে দেয়। বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিট ঘরোয়া ক্রিকেটের সব ব্যাপারে দায়িত্বশীল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিয়ে নয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আইসিসি দেখে। আন্তর্জাতিক বাদে সবকিছু বিসিবি দেখে। আইসিসি যদি কোনো রিপোর্ট পায় যেগুলো আন্তর্জাতিক ম্যাচ নয় তখন তারা সেগুলো বিসিবিকে পাঠায়।"