চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অন্য বাংলাদেশকে দেখবে সবাইঃ হাবিবুল বাশার

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ: messages.not_available আপডেট: 1 সেকেন্ড আগে
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অন্য বাংলাদেশকে দেখবে সবাইঃ হাবিবুল বাশার

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অন্য বাংলাদেশকে দেখবে সবাইঃ হাবিবুল বাশার

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অন্য বাংলাদেশকে দেখবে সবাইঃ হাবিবুল বাশার

২০০৬ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অংশ নিয়েছিলো বাংলাদেশ দল। সেবারের দলটিকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন হাবিবুল বাশার। এর আগে পরে বাংলাদেশ আর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলেনি। এবারের আসরে অবশ্য খেলছে বাংলাদেশ। আর আইসিসি বাংলাদেশ দলের 'চ্যাম্পিয়ন এম্বাসেডর' হিসেবে হাবিবুল বাশারকেই বেছে নিয়েছে। আইসিসি এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইটএ বিশেষজ্ঞ কলামিস্ট হিসেবে বাংলাদেশ দলকে নিয়ে তার ভাবনা তুলে ধরেছেন তিনি। শুরুতেই ১১ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অংশগ্রহণ করাটাকে "দেশের জন্যে একটি বড় পদক্ষেপ এগোনো" বলেছেন। বাশার বলেন, " এবছরের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সরাসরি সুযোগ পাওয়া অবশ্যই আমাদের দেশের জন্যে একটি বড় পদক্ষেপ এগোনো, এবং দলের জন্যে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ও বটে। বর্তমান সময়ে ওয়ানডেতে আমাদের দক্ষতা কতটা ভালো তা প্রদর্শনের সুযোগ আমাদের সামনে"। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেবার পর বাংলাদেশ পাকিস্তান(৩-০), ভারত(২-১), দক্ষিন আফ্রিকা(২-১), জিম্বাবুয়ে(৩-০) এবং আফগানিস্তান(২-১) দের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে। কিন্তু সেগুলি সব বাংলাদেশের মাটিতেই। দেশের বাইরে এই সময়ে বাংলাদেশ কোন ওয়ানডে সিরিজ জেতেনি। যদিও বাংলাদেশ এই সময়ে দেশের বাইরে ওয়ানডে সিরিজ খেলেছেই দুইটি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে হারলেও সম্প্রতি শ্রীলঙ্কার মাটিতে টেস্ট, টি-টোয়েন্টির মতো ওয়ানডে সিরিজেও ১-১ এ ড্র করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ দলের অন্যতম নির্বাচক হাবিবুল বাশার মে'র আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলে ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে মানিয়ে নেওয়া নিয়ে আশাবাদী, তিনি বলেন, " গত দুই বছর ধরে আমরা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি নিয়ে ভেবেছি। বাইরের দেশে আমাদের সফলতার হার ভালো না হলেও আমরা এখন প্রস্তুত। আমরা ২০১৫ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়াতে ভালো খেলেছি। তাছাড়া সম্প্রতি শেষ হওয়া শ্রীলঙ্কা সফর আমাদেরকে অনেক আত্মবিশ্বাস যোগাবে।"  বাশার আরো বলেন, " এই টুর্নামেন্ট নিয়ে আলাদা ভাবে ভাববার প্রয়োজন ছিলো। তাই আমরা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে যাবার আগে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে যাচ্ছি। ইংলিশ কন্ডিশনে ভালো করতে এই সফর অনেক কাজে দিবে। এবছরের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অন্য বাংলাদেশকে দেখবে সবাই"। আইসিসি ট্রফিতে বাংলাদেশের একমাত্র অংশগ্রহণের আসরে(২০০৬) বাংলাদেশ শুধু জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জিতেছিলো। বাকি দুই ম্যাচ হেরে আগেভাগেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছিলো বাংলাদেশ। তবে ঐ অভিজ্ঞতা কাজে লেগেছিলো ২০০৭ বিশ্বকাপে; এমনটিই বিশ্বাস হাবিবুল বাশারের। তিনি বলেন, " যদিও আমরা তিন ম্যাচের দুটিতেই হেরেছিলাম এবং টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গিয়েছিলাম, আমরা অনেক অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছিলাম। ২০০৬ এর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি থেকে সঞ্চয় করা অভিজ্ঞতাই ২০০৭ বিশ্বকাপে আমাদের সফলতার পাথেয় ছিলো"।  ২০০৭ বিশ্বকাপের সফলতা বাংলাদেশ দলকে ভিন্ন রূপ দিয়েছিলো বলে বাশারের বিশ্বাস। তিনি বলেন, " আমরা ঘরোয়া লীগে ৫০ ওভারের ম্যাচ খেলে বেড়ে উঠেছি। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমাদের পথচলা সহজ ছিলো না। আমরা শুরুর দিকের অনেকটা সময় সংগ্রাম করেছি। ২০০৪ সাল থেকে আমরা জেতা শুরু করেছি তবে সেটা ধারাবাহিকভাবে না। কিন্তু ২০০৭ বিশ্বকাপের পর আমরা বিশ্বাস করতে পেরেছিলাম যে, আমরা যেকোন দলকে হারাতে পারি। আমার মতে, ঐ আত্মবিশ্বাসই সব বদলে দিয়েছে"।  ২০০৬ এর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির স্কোয়াডে ছিলেন বর্তমান বাংলাদেশ দলের দুই অপরিহার্য সদস্য মাশরাফি বিন মর্তুজা ও সাকিব আল হাসান। হাবিবুল বাশার মনে করেন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সময়ে সফলতার পেছনে এই দুই জনের অনেক অবদান আছে। কিন্তু বাকিদের অবদানকেও পূর্ণ ক্রেডিট দিয়েছেন তিনি। তার মতে, " আমাদের সাম্প্রতিক সাফল্যে মাশরাফি ও সাকিব এর প্রভাব অনেক। কিন্তু এটা শুধুই তাদের হাত ধরে আসেনি। অভিজ্ঞ খেলোয়াড় তামিম, মুশফিক, মাহমুদুল্লাহরাও তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাছাড়া আমাদের বেশ কিছু প্রতিভাধর তরুণ খেলোয়াড় আছে। আমাদের সাম্প্রতিক প্রচেষ্টায়, আমাদের সাফল্যের পিছনে কারণ আমাদের তরুণ এবং অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের মিশ্রণ"।