লাহোরের বৈঠকে বুলবুল, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে বাড়ছে রহস্য

৯৭ প্রতিবেদক: নাজিফা তাসনিম

প্রকাশ: 1 ঘন্টা আগে আপডেট: 1 সেকেন্ড আগে
লাহোরের বৈঠকে বুলবুল, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে বাড়ছে রহস্য

লাহোরের বৈঠকে বুলবুল, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে বাড়ছে রহস্য

লাহোরের বৈঠকে বুলবুল, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে বাড়ছে রহস্য

বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ দ্বৈরথের ভাগ্য এখন ক্রিকেট বোর্ড নয়, বরং রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ মাঠে গড়াবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর আটকে আছে ইসলামাবাদের ক্ষমতার কেন্দ্রে। পাকিস্তান সরকারের সবুজ সংকেত ছাড়া ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচটি আয়োজনের বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চয়তা পাচ্ছে না আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।

ভারতের বিপক্ষে না খেলার অবস্থানটি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নয় এটি সরাসরি সরকারের নির্দেশনা থেকে এসেছে। ফলে আইসিসির সঙ্গে আলোচনায় বসার আগে পিসিবিকে সরকারের অনুমতির দিকেই তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে। লিখিতভাবে সিদ্ধান্ত জানাতে দেরি হওয়ায় টুর্নামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ সূচি নিয়ে অচলাবস্থা তৈরি হয়, যা কাটাতে শেষ পর্যন্ত আলোচনায় নামে আইসিসি।

এই আলোচনার অংশ হিসেবেই রোববার লাহোরে পিসিবির সঙ্গে বৈঠক করেন আইসিসির সহ-সভাপতি ইমরান খাওয়াজা। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলও। তবে তিনি কী ভূমিকা নিয়ে সেখানে গিয়েছেন বা আলোচনায় বাংলাদেশ কী অবস্থান নিয়েছে সে বিষয়ে কোনো পক্ষই এখনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি।

পাকিস্তানের গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বিষয়টির নিষ্পত্তি খুব বেশি দূরে নয়। পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে আবারও বসে সরকারের চূড়ান্ত অবস্থান জানতে চান। সেই সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচের ভবিষ্যৎ।

এদিকে আলোচনার টেবিলে কী কী শর্ত রয়েছে তা নিয়েই তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। ভারতীয় গণমাধ্যমের দাবি, আইসিসির কাছে আর্থিক ও আয়োজনসংক্রান্ত কিছু সুবিধা চেয়েছে পিসিবি, যেখানে বাংলাদেশও আলোচনার অংশ হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বলছে, পাকিস্তানের দাবিগুলো মূলত রাজস্ব ভাগ, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং মাঠের সৌজন্যনীতি ঘিরে। তথ্যের এই বৈপরীত্য পুরো প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এর আগে ভারতের ভেন্যুতে খেলতে আপত্তি জানিয়ে বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। সেই সিদ্ধান্তে আইসিসির বোর্ড সভায় পাকিস্তানই একমাত্র দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়ায়। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ না খেললে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তখন পাকিস্তান পুরো টুর্নামেন্ট বর্জনের হুঁশিয়ারি দিলেও শেষ মুহূর্তে সরে আসে। তবে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার অবস্থান বজায় রাখে সরকার। এবার সেই অবস্থানেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, যদিও তা পুরোপুরি শর্তনির্ভর।