ব্রিসবেনের আঙুল, স্টিভ বাকনরের স্বীকারোক্তি

৯৭ প্রতিবেদক: মোহাম্মদ আফজল

প্রকাশ: 2 ঘন্টা আগে আপডেট: 16 মিনিট আগে
ব্রিসবেনের আঙুল, স্টিভ বাকনরের স্বীকারোক্তি

ব্রিসবেনের আঙুল, স্টিভ বাকনরের স্বীকারোক্তি

ব্রিসবেনের আঙুল, স্টিভ বাকনরের স্বীকারোক্তি

ব্রিসবেনের গাব্বা তখন উত্তেজনায় টগবগ করছে। ২০০৩-০৪ মৌসুমে ভারত জাতীয় ক্রিকেট দল ও অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ক্রিকেট দল–এর লড়াই মানেই বাড়তি রোমাঞ্চ। সেই ম্যাচেই ঘটে যায় এমন এক মুহূর্ত, যা দুই দশক পেরিয়েও ক্রিকেটবিশ্ব ভুলতে পারেনি। শূন্য রানে ব্যাটিং করছিলেন কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকার। অস্ট্রেলিয়ার পেসার জেসন গিলেস্পির ভেতরে ঢোকা একটি বল ছেড়ে দেন তিনি। বলটি প্যাডে লাগতেই অস্ট্রেলিয়ার জোরালো আবেদন, আর মুহূর্তেই আঙুল তুলে দেন আম্পায়ার স্টিভ বাকনর।

মাঠে সিদ্ধান্ত হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু টেলিভিশন রিপ্লে অন্য গল্প বলল। বলটি স্টাম্পের অনেক ওপর দিয়ে চলে যাচ্ছিল। অর্থাৎ শচীন আউট ছিলেন না। সেই ভুল সিদ্ধান্ত ভারতীয় সমর্থকদের মনে দীর্ঘদিন ক্ষোভের জন্ম দেয়। শুধু একটি উইকেট নয়, এটি যেন ছিল আবেগের আঘাত। কারণ, ব্যাট হাতে শচীন মানেই ছিল আশার প্রতীক।

সময় গড়িয়েছে। ক্রিকেটে এসেছে ডিআরএস, বল-ট্র্যাকিং প্রযুক্তি, আম্পায়ারদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সুযোগ। কিন্তু সেই যুগে আম্পায়ারের আঙুলই ছিল শেষ কথা। ভুলের সম্ভাবনা ছিল, সংশোধনের পথ ছিল না। আর তাই ব্রিসবেনের সেই সকাল ইতিহাসে আলাদা করে চিহ্নিত হয়ে থাকে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এসে বাকনর নিজেই স্বীকার করেছেন, শচীনকে দেওয়া এলবিডব্লিউ সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল। তিনি বলেন, “আমি জানি শচীনকে এলবিডব্লিউ দেওয়াটা ভুল ছিল। আজ ২২ বছর হয়ে গেল। তবুও মানুষ প্রতিদিন এই আউটটি নিয়ে কথা বলে।” 

অনুশোচনা প্রকাশ করে তিনি আরও যোগ করেন, “আসলে মানুষ মাত্রই ভুল হয়। সেদিন কেন তাকে আউট দিলাম? সে কি আদৌ আউট ছিল? না, ছিল না। আমি মেনে নিয়েছি যে সেটি একটি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। আমাদের ভুলগুলো মেনে নিয়েই জীবন তার আপন গতিতে চলে।”

২২ বছর পর এই স্বীকারোক্তি যেন পুরোনো ক্ষতকে আবার আলোচনায় নিয়ে এসেছে, তবে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে। এখন এটি কেবল বিতর্ক নয়, বরং মানবিক ভুলের এক স্পষ্ট উদাহরণ। 

ক্রিকেট ইতিহাসে অসংখ্য রান, শতরান, রেকর্ড আর জয়-পরাজয়ের গল্প আছে। কিন্তু কিছু মুহূর্ত থাকে, যা স্কোরবোর্ডের বাইরেও স্মৃতিতে জায়গা করে নেয়। ব্রিসবেনের সেই এলবিডব্লিউ তেমনই এক অধ্যায়, যেখানে একটি আঙুলের সিদ্ধান্ত সময়কে ছাড়িয়ে গিয়ে আলোচনার অংশ হয়ে আছে, আর দুই দশক পর এসে নিজেই তার ভুল স্বীকার করেছেন সেই সিদ্ধান্তের নায়ক।