বিপিএল না হলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে বড় আয়ের সুযোগ, বছরে ৪০ লাখ পর্যন্ত পাবেন ক্রিকেটাররা
-
1
তাওহীদ হৃদয়ের ব্যাটে রচিত হলো ইতিহাস, বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরিয়ান
-
2
জিম্বাবুয়েকে ৪৩ রানে হারিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার জয়
-
3
ইংল্যান্ড সফরের জন্য শ্রীলঙ্কার হোয়াইট-বল দল ঘোষণা, নেতৃত্বে কুশল মেন্ডিস, প্রত্যাবর্তন আসালঙ্কা ও শানাকার
-
4
আফগানিস্তানের বিপক্ষে ভারতের টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা, চোট সারিয়ে ফিরলেন বুমরাহ, নেই হার্দিক
-
5
লিটনের নেতৃত্বে এশিয়ান গেমসের শক্তিশালী স্কোয়াড ঘোষণা
বিপিএল না হলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে বড় আয়ের সুযোগ, বছরে ৪০ লাখ পর্যন্ত পাবেন ক্রিকেটাররা
বিপিএল না হলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে বড় আয়ের সুযোগ, বছরে ৪০ লাখ পর্যন্ত পাবেন ক্রিকেটাররা
বিপিএলের আলো ঝলমলে মঞ্চ এবার না থাকলেও দেশের ক্রিকেটারদের আয়-রোজগারের পথ বন্ধ হচ্ছে না। বরং ঘরোয়া ক্রিকেটকে আরও কার্যকর ও খেলোয়াড়বান্ধব করে তুলতে ম্যাচ ফির কাঠামোতে বড় পরিবর্তনের আভাস দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। নতুন ব্যবস্থায় একজন ক্রিকেটার পুরো মৌসুম ঘরোয়া ক্রিকেটে অংশ নিলে বছরে ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল।
চলতি বছর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। মূলত স্বল্প প্রস্তুতি ও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে ‘জোড়াতালি’র টুর্নামেন্ট আয়োজন না করার নীতিগত সিদ্ধান্ত থেকেই এমন অবস্থান নিয়েছে দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
বিপিএল না হওয়ায় সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসার কথা ক্রিকেটারদের আর্থিক দিকটিতে। কারণ দেশের অনেক ক্রিকেটারের জন্য এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টটি মৌসুমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ক্রিকেটারদের সংগঠন ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ কোয়াবের সঙ্গে ইতোমধ্যে দুই দফা বৈঠক করেছে বিসিবি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিসিবির পরিচালকদের বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন সভাপতি তামিম ইকবাল। সেখানে ক্রিকেটারদের সঙ্গে বোর্ডের আলোচনার অগ্রগতি এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে তাদের আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি। কোয়াবের সঙ্গে আলোচনায় একাধিক প্রস্তাব ও পাল্টা প্রস্তাবের মাধ্যমে বিষয়টি এগিয়েছে বলেও জানান বিসিবি প্রধান।
আলোচনার বিস্তারিত তুলে ধরে তামিম ইকবাল বলেন, ‘কোয়াবের সঙ্গে দুটি মিটিং হয়েছে। তারা একটা প্রস্তাব দেয় আমরা কাউন্টার প্রস্তাব দেই। পরে আমরা আবার বসি। এরপর সময় চাই যেন আমাদের নিজেদের মিটিংটা করে নিতে পারি। এখানে আসার আগে কোয়াবের সিনিয়রদের সঙ্গে আলাপ করেছি। সবাই অনেক খুশি। একজন খেলোয়াড় ঘরোয়া ক্রিকেটের পুরো সিজন খেললে বছরে ৩৫-৪০ লাখ টাকা করে পাবে।’
বিপিএল আয়োজন না হলেও ক্রিকেটারদের পাশে থাকার বিষয়ে বোর্ডের অবস্থানও স্পষ্ট করেছেন তামিম। তার মতে, ক্রিকেটারদের স্বার্থ রক্ষা করাই বিসিবির অন্যতম দায়িত্ব। একই সঙ্গে অতীতে ক্রিকেটারদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়ে ভবিষ্যতে সম্পর্ক আরও ইতিবাচক করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
ক্রিকেটারদের সঙ্গে বোর্ডের সম্পর্ক নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তামিম বলেন, ‘আমরা এখানে ক্রিকেটারদের সার্ভ করার জন্য এসেছি। আমাদের সঙ্গে ক্রিকেটারদের সম্পর্ক খারাপ হওয়ার তো প্রশ্নই আসে না। বরং ভালো হওয়া দরকার। কারণ অনেক সময় অনেক বেইজ্জতি করা হয়েছে ক্রিকেটারদের। আমার নতুন করে কিছু বলার দরকার নাই।’
নিজে দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় খেলোয়াড়দের অবস্থান ও প্রয়োজনীয়তা তুলনামূলকভাবে ভালো বোঝেন বলেও উল্লেখ করেন বিসিবি সভাপতি। ক্রিকেটারদের সুখ-দুঃখ উপলব্ধি করার সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
নিজের খেলোয়াড়ি জীবনের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে তামিম বলেন, ‘আমি নিজেই যেহেতু ক্রিকেটার ছিলাম, ক্রিকেট খেলেছি তাদের সঙ্গে। তাদের ভালো-খারাপ কিছুটা হলেও বুঝার সামর্থ্য আল্লাহ আমাকে দিয়েছে। তাদের জন্য আমার যেটা করা দরকার হবে আমি তাই করবো। ক্রিকেটারদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খারাপ হওয়ার প্রশ্নই আসে না। এটা ভালো হওয়ারই দরকার।’
ফলে বিপিএল না হওয়ার কারণে সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি সামাল দিতে ঘরোয়া ক্রিকেটের ম্যাচ ফির উন্নয়নকে বিকল্প পথ হিসেবে দেখছে বিসিবি। তামিমের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, পুরো ঘরোয়া মৌসুমে নিয়মিত খেলা একজন ক্রিকেটারের আয় ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকায় পৌঁছাতে পারে। এতে বিপিএল না থাকলেও দেশের ক্রিকেটারদের জন্য আর্থিক নিরাপত্তার একটি নতুন কাঠামো তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
