বাংলাদেশ সফরেই শেষবার ফ্লাডলাইটে খেলোছিলো নেদারল্যান্ডস

৯৭ প্রতিবেদক: নাজিফা তাসনিম

প্রকাশ: 5 ঘন্টা আগে আপডেট: 1 সেকেন্ড আগে
বাংলাদেশ সফরেই শেষবার ফ্লাডলাইটে খেলোছিলো নেদারল্যান্ডস

বাংলাদেশ সফরেই শেষবার ফ্লাডলাইটে খেলোছিলো নেদারল্যান্ডস

বাংলাদেশ সফরেই শেষবার ফ্লাডলাইটে খেলোছিলো নেদারল্যান্ডস

চেন্নাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে হারের পর নেদারল্যান্ডসের প্রধান কোচ রায়ান কুক জানিয়েছেন, আলোয় খেলার অভিজ্ঞতার ঘাটতি তাদের পরাজয়ে ভূমিকা রাখতে পারে। শুক্রবারের ম্যাচের আগে গত সেপ্টেম্বরের পর থেকে নেদারল্যান্ডস কোনো দিন-রাত বা রাতের টি–টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেনি। ২০২৪ থেকে ২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মধ্যবর্তী সময়ে তারা ফ্লাডলাইটের আলোয় খেলেছে মাত্র তিনটি টি–টোয়েন্টি। তবে এটিকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাতে চাননি কুক।

কুক বলেন, “আমরা এখনো ফ্লাড লাইটে অনুশীলনের সুযোগ পাইনি। একটি অনুশীলন সেশন বৃষ্টিতে ভেস্তে গেছে, বাংলাদেশে একটি প্রস্তুতি ম্যাচও বৃষ্টিতে হয়নি। ম্যাচের আগের দিনও আলোয় অনুশীলনের অনুমতি পাইনি। তাই বাংলাদেশ সিরিজের পর এই প্রথম আমরা আলোয় খেললাম, আর তখন দলের কিছু খেলোয়াড়ও ছিল না। বিষয়টি অনেকের জন্য নতুন, তবে এটা কোনো অজুহাত হতে পারে না। আমাদের মাঠে নেমে কাজটা করতেই হতো। এটা আমাদের জন্য খারাপ একটি রাত ছিল।”

এই বিশ্বকাপে নামিবিয়ার পর দ্বিতীয় দল হিসেবে আলোয় খেলার অভিজ্ঞতার অভাব নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলল নেদারল্যান্ডস। নামিবিয়ার অধিনায়ক গেরহার্ড ইরাসমাসও স্বীকার করেছেন, তাদের দেশে পর্যাপ্ত আলো–সুবিধা নেই। তিনি বলেন, “নামিবিয়ায় আমাদের নিজস্ব আলো–ব্যবস্থা নেই। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ। নেপাল প্রিমিয়ার লিগ, আইএলটি২০ বা বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্ট ছাড়া নিয়মিত আলোয় খেলার সুযোগ হয় না।”

শুক্রবার ১৯৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নেদারল্যান্ডস ১৫.৫ ওভারে গুটিয়ে যায় ১০৩ রানে। তাদের সাতটি উইকেটই পড়ে স্পিনে। চেন্নাইয়ের উইকেটে শিশির পড়বে এমন প্রত্যাশা ছিল তাদের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শিশির না পড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের স্পিনাররা বল ভালোভাবে গ্রিপ ও টার্ন করাতে পেরেছেন। হারমিত সিং, নস্তুশ কেনজিগে ও মোহাম্মদ মোহসিন মিলে কার্যকর স্পিন বোলিং করেন। আইপিএলে চেন্নাই সুপার কিংসের ম্যাচগুলোতে শিশির প্রভাব ফেলেছিল বলে হয়তো সেই ধারণা থেকেই আগে ফিল্ডিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় নেদারল্যান্ডস। পরে সেটি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল কি না এ প্রশ্ন উঠেছে।

কুক বলেন, “আজ মাঠে কোনো শিশির ছিল না। তাই তাদের স্পিনাররা দারুণভাবে বল ধরতে পেরেছে। আমরা টসের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করব। কিন্তু সত্যি বলতে, আমরা বল হাতে বা ব্যাট হাতে কোনোভাবেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারিনি।”

বিশেষ করে বোলিং নিয়েই হতাশ কুক। পাওয়ারপ্লেতে যুক্তরাষ্ট্র ৫৩ রানে ১ উইকেট হারায় এবং সেখান থেকেই বড় স্কোরের ভিত গড়ে তোলে। বারবার বোলার পরিবর্তন করেও সুবিধা করতে পারেনি নেদারল্যান্ডস। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র তোলে ৬ উইকেটে ১৯৬ রান।

কুকের ভাষ্য, “উইকেট ভালো ছিল, তবে ১৯৫ সম্ভবত গড়ের চেয়ে বেশি স্কোর। আমরা বল হাতে মোটেও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারিনি, ফলে স্কোরবোর্ডের চাপ তৈরি হয়। যুক্তরাষ্ট্রকে কৃতিত্ব দিতেই হবে, তারা দারুণ ব্যাট করেছে এবং ভালো স্পিন করেছে। আমাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন মানসম্মত ছিল না।”

এদিকে, নেদারল্যান্ডসকে ভুগিয়েছে তাদের অভিজ্ঞ পেসার পল ভ্যান মিকারেনের চোট। কলম্বোয় পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ২ উইকেট নেওয়ার পর থেকে চোটের কারণে শেষ দুই ম্যাচ খেলতে পারেননি তিনি। কুক আশা প্রকাশ করেছেন, গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে তাকে দলে পাওয়া যেতে পারে।

তিনি বলেন, “পল প্রথম ম্যাচের পর চোট পেয়েছে। দ্বিতীয় ম্যাচে তাকে ফেরানোর চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু এখনো পুরোপুরি ফিট হয়নি। আমরা তাকে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করছি এবং আশা করছি শেষ ম্যাচে সে ফিরতে পারবে।”