স্মৃতির শহরে রায়ান কুক, সিলেটে ফিরেই আবেগে ভাসলেন ডাচ কোচ
৯৭ প্রতিবেদক: মোহাম্মদ আফজল
প্রকাশ: 9 ঘন্টা আগেআপডেট: 18 মিনিট আগে
স্মৃতির শহরে রায়ান কুক, সিলেটে ফিরেই আবেগে ভাসলেন ডাচ কোচ
স্মৃতির শহরে রায়ান কুক, সিলেটে ফিরেই আবেগে ভাসলেন ডাচ কোচ
দীর্ঘ ১১ বছর পর বাংলাদেশে ফিরেছে নেদারল্যান্ডস জাতীয় ক্রিকেট দল। শেষবার তারা এসেছিল ২০১৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে। আজ শনিবার আবারও সেই সিলেটেই তারা নামতে যাচ্ছে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে বাংলাদেশের বিপক্ষে। পরিচিত মাঠ, পুরনো স্মৃতি, সব মিলিয়ে সফরের শুরুতেই খানিকটা আবেগপ্রবণ ডাচ দলের কোচ রায়ান কুক।
একসময় বাংলাদেশ দলের ফিল্ডিং কোচ ছিলেন কুক। জাতীয় দলের সঙ্গে ঘুরে বেড়িয়েছেন দেশের বিভিন্ন শহরে, ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম ও সিলেট শহরে কাটিয়েছেন দীর্ঘ সময়। এবার ফিরেছেন প্রতিপক্ষের কোচ হিসেবে, তবে মাঠে পা দিয়েই যেন ফিরে গেছেন স্মৃতির অতলে।
"আবার বাংলাদেশে ফিরে দারুণ লাগছে"
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে কুক বলেন, “আবার বাংলাদেশে ফিরে আসাটা সত্যিই দারুণ লাগছে। এখানে আমার অনেক সুন্দর স্মৃতি জড়িত। যাদের অনেকদিন ধরে দেখা হয়নি, তাদের সঙ্গে আবার দেখা হওয়াটাও দারুণ অভিজ্ঞতা। আসলে ফিরে এসে খুব উপভোগ করছি।”
তিনি আরও জানান, সিরিজটি হঠাৎ করেই আয়োজিত হলেও প্রস্তুতির ঘাটতি নেই, “প্রস্তুতি খুব দ্রুত হয়েছে। তবে আমরা ঘরে বসেই ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি। এই সিরিজ নিয়ে আমি বেশ আগ্রহী।”
পুরনো মাঠ, পুরনো স্মৃতি
২০১৪ সালের সেই বিশ্বকাপেই সিলেটের মাঠে একটি ঐতিহাসিক জয় পেয়েছিল নেদারল্যান্ডস। প্রথম পর্বের শেষ ম্যাচে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে সুপার টেনে জায়গা করে নিয়েছিল তারা। ম্যাচটিতে ১৮৯ রানের লক্ষ্য ১৩.৫ ওভারে তাড়া করে ক্রিকেট বিশ্বে হৈচৈ ফেলে দেয় ডাচরা। প্রথম ৬ ওভারে তুলে ফেলেছিল ৯১ রান, যা ছিল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে পাওয়ারপ্লের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড, টিকে ছিল ছয় বছর।
তবে বর্তমান দলে সে ম্যাচে খেলা কোনো ক্রিকেটার নেই। তবুও কুক মনে করেন, সেদিনের সেই স্মৃতি অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠতে পারে। কুক বলেন, “এটা অনেক দূরের স্মৃতি। তবে আমরা জানি কীভাবে বড় দলের বিপক্ষে খেলতে হয়। প্রস্তুতিটাও দীর্ঘদিন ধরেই নেওয়া। আমরা প্রতিনিয়ত উন্নতি করছি, এবারও বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছি।”
লক্ষ্য: আরেকটি স্মরণীয় জয়
নেদারল্যান্ডস গত তিন বছর ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছে বড় দলের বিপক্ষে লড়াইয়ের জন্য। বিশ্বকাপের নিয়মিত অংশগ্রহণকারী হয়ে ওঠার পাশাপাশি, তারা এখন আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী। কুক বলেন “আমাদের কিছু খেলোয়াড়কে সামনে থেকে নেতৃত্ব নিতে হবে। তারা গত কয়েক বছর ধরে নিজেকে তৈরি করেছে। আমরা সহযোগী দেশগুলোর মধ্যে উন্নতির ধারায় আছি। চারবার টানা বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়া সহজ কিছু না।”
চেনা মাঠে ঘুরে দাঁড়ানোর আশায়
সিরিজের সব ম্যাচই হবে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে, যেটা একদিকে যেমন রায়ান কুকের পুরনো কর্মস্থলের স্মৃতিবিজড়িত জায়গা, তেমনি ২০১৪ সালের ঐতিহাসিক জয়ের সাক্ষী। এবার নতুন দলের সঙ্গে সেই স্মৃতির মাঠেই বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত ডাচরা।
স্কট এডওয়ার্ডস, ম্যাক্স ও'ডাউডদের নেতৃত্বে এবার তারা চায় টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে জয়ের খরা কাটাতে। আর সেই গল্পের শুরুটা কি হবে আবারও সিলেট থেকেই?