Image

ডিউ ফ্যাক্টরের বিরুদ্ধে তাসকিনের শ্রেষ্ঠত্ব: সিলেটে বাংলাদেশের জয়

৯৭ প্রতিবেদক: মোহাম্মদ আফজল

প্রকাশ: 13 ঘন্টা আগেআপডেট: 13 মিনিট আগে
ডিউ ফ্যাক্টরের বিরুদ্ধে তাসকিনের শ্রেষ্ঠত্ব: সিলেটে বাংলাদেশের জয়

ডিউ ফ্যাক্টরের বিরুদ্ধে তাসকিনের শ্রেষ্ঠত্ব: সিলেটে বাংলাদেশের জয়

ডিউ ফ্যাক্টরের বিরুদ্ধে তাসকিনের শ্রেষ্ঠত্ব: সিলেটে বাংলাদেশের জয়

বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জ ছিল সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে খেলতে নামা। সিলেটের প্রকৃতি জানিয়ে দেয়, এই অঞ্চলের শীতের আগমন এবং ডিউ ফ্যাক্টরের প্রভাব। কুয়াশায় ঢাকা মেঘলা আকাশ, শিশিরে ভিজে থাকা মাঠ। এমন পরিবেশে বোলারদের জন্য এটি হতে পারতো এক বড় বাধা। কিন্তু তাসকিন আহমেদের মতো অভিজ্ঞ পেস বোলার যখন মাঠে নেমে একে একে ৪ উইকেট দখল করেন, তখন সিলেটের শীতল পরিবেশকে তিনি পরাস্ত করে দলকে নিয়ে যান জয়ের বন্দরে।

যে ম্যাচে চ্যালেঞ্জ ছিল শুধু প্রতিপক্ষ নয়, পরিবেশও ছিল তীব্র। ভাদ্র মাসের শীতল রাতে সিলেটের মাঠে শিশির আর কুয়াশা মিলে তৈরি করেছিল এক বড় সমস্যা, যার নাম ডিউ ফ্যাক্টর। তাসকিন বলছিলেন, “ডিউ ফ্যাক্টর ছিল চ্যালেঞ্জ বোলারদের জন্য। আলহামদুলিল্লাহ, আমরা সবাই মিলে কম টোটালে ফিনিশ করতে পেরেছি। স্পোর্টিং উইকেট ছিল, তবে চ্যালেঞ্জিং ছিল।”

শুধু মাঠের ভেজা অবস্থা নয়, প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের জন্যও পরিস্থিতি ছিল পক্ষে। বল ভিজে যাওয়ায় ব্যাটসম্যানরা ভালো শট খেলতে পারছিলেন এবং ফিল্ডারদের জন্যও ছিল কঠিন। কিন্তু তাসকিন তার ২৮ রানে ৪ উইকেট তুলে নিয়ে দলের সাফল্য নিশ্চিত করেন।

তাসকিন যখন বল করেন, তখন তার পেস বোলিংয়ের শক্তি সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এই ম্যাচে তাকে তার পেসের সাথে স্লোয়ার বলও মেশাতে হয়েছিল। তিনি জানাচ্ছিলেন, “টি-টোয়েন্টি খেলা, অনেক সময় অনেক ভালো বলেও বাউন্ডারি হয়, খারাপ বলেও লাকিলি উইকেট হয়। তবে আমি চেষ্টা করেছি, সঠিক সময়ে সঠিক বল করতে।”

নিজের বোলিং নিয়ে তাসকিন আরো বলেন, “ফাস্ট বোলার হিসেবে আমি ফাস্ট বোলিং করতে চাই। ব্যাপারটা হচ্ছে পরিস্থিতি বুঝে বল করা। পাওয়ারপ্লেতে আসছি, মিডে আসছি, ডেথে আসছি। যে পরিস্থিতিতে যেরকম বল করা দরকার ছিল চেষ্টা করেছি, সেভাবে হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ। ভালোর তো শেষ নাই।” 

একমাত্র ফাস্ট বোলার হিসেবে নয়, তাসকিন এক দীর্ঘ সময় ধরে ইনজুরির সঙ্গে লড়াই করছেন। ফিটনেস এবং শরীরের অবস্থার দিকে খুব সতর্ক থাকতে হয়, বিশেষ করে যদি তা হয় ক্রিকেটের মতো কঠিন খেলায়। তাসকিন নিজে বলেছেন, “এটা টোটালি ম্যানেজমেন্টের ব্যাপার। আমাদের ফিজিও ট্রেনাররা সব বোলারদের ওয়ার্কলোড মনিটরিং করছে।”

ফিট থেকে রোটেশন না করে সব ফরম্যাটেই খেলে যেতে চান তাসকিন, “যদি ফিট থাকি তাহলে এই রোটেশনটা নাও হতে পারে। সামনে এশিয়া কাপ। দল চাইলে হতেও পারে। আমি বর্তমানটাই বেশি উপভোগ করতে চাই। ট্রেনিং থাকলে ট্রেনিং, ম্যাচ থাকলে ম্যাচ।"

এখানে শুধু তাসকিনের একক সাফল্য নয়, পুরো দলের ঐক্যও একটি বড় ভূমিকা রেখেছে। প্রত্যেক খেলোয়াড় নিজ নিজ অবস্থান থেকে দলকে সহায়তা করেছে, তাসকিন নিজেও দলের সমর্থনের কথা উল্লেখ করেছেন, “দলের সবাই একে অপরকে সাপোর্ট করছে, এইভাবে আমরা একে অপরকে শক্তিশালী করে তুলছি।”

এশিয়া কাপের আগে এই সিরিজটি হচ্ছে বাংলাদেশের প্রস্তুতির মঞ্চ, সিলেটে সিরিজের প্রথম ম্যাচটি ছিল সেই প্রস্তুতিরই গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাসকিন নিজে এই ম্যাচটিকে মূল্যবান প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন, “আমার মনে হয়, এশিয়া কাপের আগে এটা আমাদের ভালো প্রস্তুতি হয়ে উঠেছে। আমরা সব কিছুর দিকে নজর দিচ্ছি, ফিটনেস, বোলিং কৌশল, এবং দলের মধ্যে সমন্বয়।”

তার কথায় স্পষ্ট উঠে আসে, তিনি শুধুমাত্র নিজের সাফল্য নিয়ে ভাবছেন না, বরং দলের বৃহত্তর স্বার্থ এবং ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতার জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখতে চাচ্ছেন।

তাসকিন আহমেদ আজ এক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে বোলিং করেছেন অপ্রত্যাশিত ডিউ। তার বোলিং ছিল প্রকৃতপক্ষে যে কোনও বোলারের জন্য এক কঠিন পরিবেশে চূড়ান্ত পরীক্ষা। তবে, তার কাছে এই চ্যালেঞ্জ ছিল শেখার উপলক্ষ, “ভালো চ্যালেঞ্জিং বিশেষ করে ১২-১৩ ওভারে বল ভিজা ছিল।”

সিলেটের ডিউ ছিল অপ্রত্যাশিত, বিশেষত শীতে এর তীব্রতা লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে বছরের শেষদিকে যা বিপিএলের সময় পরিলক্ষিত হয়। তাসকিনের ভাষ্য, "নরমালি বিপিএলে শীতের সময় ডিউ থাকে। এখন গরমে যে এত ডিউ থাকবে ভাবি নাই। তবে এটা তো কন্ট্রোলে নাই। এডজাস্ট করতে হবে।"

এই ম্যাচে বাংলাদেশের সাফল্য শুধু উইকেট সংখ্যা নয়, দলের মনের দৃঢ়তা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং কঠোর পরিশ্রমের ফলস্বরূপ এসেছে। তাসকিনের মতে,"সবথেকে বড় জিনিস দলের সবাই সবাইকে অনেক ব্যাক করে।"

এটি একদিকে যেমন তাসকিনের ব্যক্তিগত সাফল্যের কাহিনী, তেমনি দলের সম্মিলিত চেষ্টার পরিণতি। সিলেটে অসময়ে শীতল কুয়াশার মাঝেও বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের এই জয় যেন আরও একবার প্রমাণ করল,  সেরা ফাস্ট বোলাররা কেবল বোলিংয়ের গতি নয়, নিজের মনোবল দিয়েও ম্যাচে জয়ী হয়।

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three