সিলেটে সাইফ-লিটনের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে নেদারল্যান্ডসকে ৮ হারালো বাংলাদেশ
৯৭ প্রতিবেদক: মোহাম্মদ আফজল
প্রকাশ: 9 ঘন্টা আগেআপডেট: 2 মিনিট আগে
সিলেটে সাইফ-লিটনের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে নেদারল্যান্ডসকে ৮ হারালো বাংলাদেশ
সিলেটে সাইফ-লিটনের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে নেদারল্যান্ডসকে ৮ হারালো বাংলাদেশ
সকালে থেমে থেমে বৃষ্টির পর দুপুরে সিলেটের আকাশে সূর্য ঝলমলে হয়ে উঠলে ম্যাচের পরিবেশ ছিল একেবারে আদর্শ। বিকেলের গৌধুলি বেলায়, যখন সূর্য পশ্চিম আকাশে নুয়ে পড়ছিল, সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মাঠে নেমে বাংলাদেশ এবং নেদারল্যান্ডসের ক্রিকেট যুদ্ধ শুরু হয়। আলো-ছায়ার খেলা আর আকাশের পরিবর্তিত রঙের মধ্যে, সিলেটের ক্রিকেট ভক্তরা দেখতে পেলেন এক দুর্দান্ত লড়াই, যেখানে বাংলাদেশ নিজেদের শক্তিশালী পারফরম্যান্স দিয়ে ৮ উইকেটে জয় তুলে নেয়।
বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন দাস টস জিতে নেদারল্যান্ডসকে ব্যাটিং করার আমন্ত্রণ জানান। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নেদারল্যান্ডস ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৩৬ রান সংগ্রহ করে। তবে এই রানটিকে ছোট করে দিয়ে বাংলাদেশ মাত্র ১৩.৩ ওভারে ৮ উইকেটে জয় তুলে নেয়, সিরিজে ১-০ এগিয়ে যায়।
১৩৭ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের উদ্বোধনী ব্যাটার পারভেজ হোসেন ইমন এবং তানজিদ হাসান তামিম দ্রুত আউট হন। ইমন ১৬ রান করে বোল্ড হন, এবং তামিম ২৯ বলে ২৯ রান করে আউট হন। এরপর বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন দাস ইনিংসটি ধরে রাখেন এবং সাইফ হাসানকে সাথে নিয়ে ৪৬ রানের একটি অবিচ্ছিন্ন পার্টনারশিপ তৈরি করেন।
লিটন দাস ২৯ বল খেলে ৫৪ রান করেন, তার ইনিংসে ছিল ৬টি চার এবং ১টি ছক্কা। তার এই ব্যাটিং ছিল দলের জন্য আত্মবিশ্বাসী এবং আক্রমণাত্মক। সাইফ হাসানও ১৯ বলে ৩৬ রান করে অপরাজিত থাকেন, তিনি বিশেষত বিক্রমজিত সিংহের বলে এক বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে জয় নিশ্চিত করেন।
বিশেষভাবে সাইফ হাসান তার অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে নজর কেড়েছেন। বোলিংয়ে তিনি ২টি উইকেট নিয়েছিলেন এবং ব্যাটিংয়ে তার ৩৬ রানের অপরাজিত ইনিংসটি দলের জয় অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সাইফের পারফরম্যান্স যে কেবল ব্যাটিং-বোলিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, তা তার অফ-স্পিনের দক্ষতাতেও প্রমাণিত।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নেদারল্যান্ডসের ব্যাটিং শুরু থেকেই চাপে পড়ে। প্রথম আঘাতটি আসে তাসকিন আহমেদের হাত ধরে, যখন তিনি ম্যাক্স ও'ডাউডকে (২৬) ফেরান। এরপর সাইফ হাসান নিজেকে মেলে ধরেন এবং এক ওভারে দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন। সাইফ প্রথমে ডাচ অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস (১২) এবং তারপর তেজা নিদামানরুকে (২৬) ফিরিয়ে দেন। অন্যদিকে, মুস্তাফিজুর রহমান শারিজ আহমেদ (১৪) এবং নোয়াহ ক্রোজ (১১)-কে ফিরিয়ে দলের বোলিং আক্রমণ আরও শক্তিশালী করেন।
বাংলাদেশের বোলিং ছিল দারুণ, বিশেষ করে তাসকিন আহমেদ, সাইফ হাসান এবং মুস্তাফিজুর রহমানের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে। তাসকিন ৪টি উইকেট তুলে নেন এবং সাইফ ২টি উইকেট নিয়ে ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। মুস্তাফিজুর রহমান ১টি উইকেট নেন এবং বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণকে শক্তিশালী করে তোলেন। পুরো ম্যাচে বাংলাদেশের বোলিং ছিল একেবারে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে, যার ফলে নেদারল্যান্ডস মাত্র ১৩৬ রানে থেমে যায়।
সাম্প্রতিক পাকিস্তান সিরিজের পর একাদশে সাইফ হাসানকে ফিরিয়ে আনা হয়। শামীম পাটোয়ারীকে বাদ দিয়ে সাইফের আগমন ছিল অত্যন্ত কার্যকরী। তাঁর পারফরম্যান্স ছিল দুর্দান্ত, যেখানে তিনি ব্যাটে-বলে দলের জন্য বড় ভূমিকা রাখেন।
শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ১৩৭ রানের লক্ষ্য ১৩.৩ ওভারে ৮ উইকেটে পূর্ণ করে। এই জয় ছিল বাংলাদেশ দলের জন্য একটি আত্মবিশ্বাসী শুরু এবং সিরিজে ১-০ এগিয়ে যাওয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তাসকিন, সাইফ এবং মুস্তাফিজের বোলিং, এবং লিটন ও সাইফের ব্যাটিং সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশকে একটি সহজ জয় এনে দেয়।