প্রতীক্ষার অবসান, রঞ্জি ট্রফিতে নতুন অধ্যায় লিখল জম্মু ও কাশ্মীর
৯৭ প্রতিবেদক: মোহাম্মদ আফজল
প্রকাশ: 2 ঘন্টা আগে আপডেট: 1 সেকেন্ড আগে
প্রতীক্ষার অবসান, রঞ্জি ট্রফিতে নতুন অধ্যায় লিখল জম্মু ও কাশ্মীর
প্রতীক্ষার অবসান, রঞ্জি ট্রফিতে নতুন অধ্যায় লিখল জম্মু ও কাশ্মীর
হুব্বলির আকাশে শনিবার শুধু আতশবাজির আলো ঝলকানি ছিল না, ছিল এক অঞ্চলের দীর্ঘ প্রতীক্ষার প্রতিফলন। রঞ্জি ট্রপি’র ফাইনাল শেষ হওয়ার আগেই সবাই জানত, ফলাফল কোন দিকে যাচ্ছে। তবু বিকেল ২টা ১১ মিনিটে দুই অধিনায়কের করমর্দনের আগ পর্যন্ত যেন সময় থমকে ছিল। কারণ জম্মু ও কাশ্মীরের জন্য এটি কেবল একটি ট্রফি জয়ের গল্প নয়, এটি আত্মপ্রতিষ্ঠার ঘোষণা।
জম্মু ও কাশ্মীর ক্রিকেট দল প্রথম ইনিংসে ৫৮৪ রান তুলে যে ভিত গড়ে দেয়, সেটিই ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ফাইনালের মতো মঞ্চে এত বড় স্কোর কেবল দক্ষতার নয়, মানসিক দৃঢ়তারও প্রমাণ। জবাবে কর্ণাটক ক্রিকেট দল ২৯৩ রানে থেমে গেলে ব্যবধান শুধু রানের হিসেবে বড় ছিল না, আত্মবিশ্বাসেও বড় হয়ে ওঠে। সেই লিডই শেষ পর্যন্ত শিরোপা নিশ্চিত করে।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং ছিল যেন এক প্রতীকী যাত্রা। কামরান ইকবাল অপরাজিত ১৬০ রান করে দেখিয়েছেন, চাপকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। তার ব্যাটিং ছিল ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাসের মিশেল। অন্য প্রান্তে সাহিল লত্রার শতক ছিল স্বপ্নপূরণের মুহূর্ত। পুশ-আপ দিয়ে উদযাপন কিংবা গ্যালারির দিকে তাকিয়ে আবেগ ছড়িয়ে দেওয়া, সবকিছুতেই ছিল এক নতুন ইতিহাসের স্বাদ। দুই ব্যাটার প্রায় দুই সেশন উইকেট না হারিয়ে কাটিয়ে দেন, যেন সময়কে নিজের গতিতে এগোতে দেন।
তবে এই শিরোপার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান বোলিং ইউনিটের। মৌসুমজুড়ে ৬০ উইকেট নেওয়া আকিব নাবী ফাইনালের প্রথম ইনিংসেও পাঁচ উইকেট তুলে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলেন। তার ধারাবাহিকতা পুরো অভিযানে জম্মু ও কাশ্মীরকে এগিয়ে রেখেছে। তাকে কাঁধে তুলে সতীর্থদের উদযাপন ছিল পরিশ্রমের স্বীকৃতি।
শেষ দিনে ম্যাচের উত্তেজনা কম থাকলেও আবেগের ঘাটতি ছিল না। দীর্ঘদিন পর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বল হাতে নেন কেএল রাহুল। একটি সম্ভাব্য উইকেট হাতছাড়া করেন মায়াঙ্ক আগারয়াল। মুহূর্তটি ফলাফলে প্রভাব ফেলেনি, কিন্তু গ্যালারিতে আনন্দের ঢেউ তুলেছিল। পরে অধিনায়ক দেবদূত পাডিক্কাল তাকে আক্রমণ থেকে সরালে দর্শকদের কৌতুকপূর্ণ প্রতিক্রিয়া মাঠের পরিবেশকে আরও মানবিক করে তোলে।
এই ফাইনাল ছিল নিয়ন্ত্রণের লড়াই, আর জম্মু ও কাশ্মীর সেটি জিতেছে শুরু থেকেই। চতুর্থ দিনেই তারা ম্যাচের রাশ শক্ত করে ধরে। পঞ্চম দিন ছিল অপেক্ষার, আত্মবিশ্বাসের এবং বিশ্বাসের দিন। ঢোল, পতাকা আর উচ্ছ্বাসে যখন মাঠ ভরে যায়, তখন বোঝা যায় একটি দলের সাফল্য কেবল ক্রিকেটীয় অর্জন নয়, এটি আবেগেরও বিজয়।
প্রথমবারের মতো রঞ্জির মুকুট মাথায় তুলে জম্মু ও কাশ্মীর ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজেদের নতুন পরিচয় তৈরি করল। এটি আকস্মিক সাফল্য নয়; এটি দীর্ঘ প্রস্তুতি, সঠিক পরিকল্পনা এবং মানসিক দৃঢ়তার ফল।
স্কোরবোর্ডে ফলাফল ড্র হলেও ক্রিকেটীয় অর্থে এটি ছিল একতরফা ফাইনাল। ইতিহাসে এই জয় লেখা থাকবে সাহস, বিশ্বাস ও আত্মপ্রতিষ্ঠার প্রতীক হয়ে।
